21 December 2017

গুচ্ছ কবিতা- তাসরুজ্জামান বাবু


প্রাচীন কবি
প্রাচীন কবি কে?
প্রাচীন কবি আমি
আপনিও কি কবিতা লেখেন ভাই?
তবে তো আপনিও
ওই যে দেখুন ধেয়ে আসছে অনাগত ভবিষ্যতের ঢেউ
এখনই ভাসিয়ে নেবে আপনাকে-আমাকে
খড়কুটোর মতো।
প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে পেছনের দিকে ঠেলে দেবে
অনেকগুলো অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে আমরা
শাঁ শাঁ করে চলে যাব দিগন্তে
অনাগত ভবিষ্যতের মানুষেরা যখন চাইবে সুদূর অতীতে
দেখবে আপনাকে-আমাকে
বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সাগরের ওপারে
জাহাজের মাস্তুল দেখার মতো
আবছা-অস্পষ্ট
এখন যেখানে দেখি আমরা মিল্টন, চসার, কালিদাসকে।

আত্মহত্যা সংশ্লিষ্ট- সিয়ামুল হায়াত সৈকত



আত্মহত্যা সংশ্লিষ্ট
এখন ঘুমকে আমি আত্মহত্যা বলি,
চোখের তিলাওয়াত বাষ্পের জীবনে নেই
কাঠের পুতুলটাও যত্নে রাখি।

জীবন-বাগান- নিবেদিতা পুণ্যি-(সঞ্চারিণী)



ওরা সবাই জীবনের উদাহরণ
প্রতিকৃতি জীবনের,
সম্ভাবনা পৃথিবী চালনার; চলনের।

নড়ছে না কেউ!
আবার কাওকেই ঠিক মৃত-ও বলা যাচ্ছে না!
মৃতের রঙ সবুজ কী করে হয়? প্রশ্ন সেখানেই

17 December 2017

অ-কথার স্তূপ- সাদিয়া সুলতানা


বুকের উত্তাপে রেখে দেওয়া সুখ-দুঃখের ফর্দখানা উল্টেপাল্টে দেখে নিয়ে ওরা প্রত্যেকে এক একটা নতুন গল্প বলবে বলে ঠিক করে। তারা, মানিক, মিতু, সবুজ আর তিতির। ওদের বয়স বাইশ-তেইশ বা এর চেয়ে মাস দু’য়েক কম বেশি। এই বয়সে গল্প বা কল্পগল্প বলতে কাউকে ঠেলাঠেলি করতে হয় না। বরং কথার তোড় বন্ধ করতে মিনতি করা লাগে। তবে হার্ড পয়েন্টের আজকের পরিবেশটাই অদ্ভুত। মায়াময়। এই মায়ার বিভ্রমে পড়লে কথা ফুরিয়ে যায়। খুব জরুরি কথাগুলোও তখন বলা যায় না। 

ইজিবাইক- সাব্বির জাদিদ



ছুটিপুরের নিস্তরঙ্গ জীবনে ইজিবাইকের যুক্ত হওয়া খুব বেশি পুরনো ঘটনা নয়। আমরা তখন কিশোর৷ এইট পাশ করে নাইনে উঠিছে। পড়াশোনার বালাই নেই। সারাদিন ফুটবল খেলে বেড়াই। খেলার ফাঁক-ফোঁকরে কখনো যদি সুযোগ জোটে, পড়ি। না জুটলে পড়ি না। সে সময়কার গ্রামে পড়াশোনার তেমন চল নেই। প্রাইভেট-কোচিং আবিষ্কার হয়নি৷ বাবা-মারা সচেতন না। ছেলে রোজ সকালে গরম ভাত খেয়ে রাস্তায় কুলি ফেলতে ফেলতে বোগলে বই নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে—এই পড়াশোনাই তাদের কাছে অনেক। আমাদের কাছেও। হাতে অঢেল সময়। এতটা সময় তো আর ঘাম ঝরানো ফুটবল খেলে পার করা যায় না৷ সম্ভবও না৷ আমরা আনন্দ খুঁজে বেড়াই৷ যাকে নিয়ে মগ্ন থাকা যায়৷ কিন্তু সেকালের গ্রামের আর দশটা জিনিসের মতো আনন্দেরও বড় অভাব৷ এর ভেতর হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করি, আমাদের একমাত্র খোয়া বিছানো রাস্তায় ইজিবাইক৷ প্যাসেঞ্জার বোঝাই ধুলো উড়িয়ে বাজারের দিকে ছুটছে৷আনন্দে আমরা হই হই করে উঠি—এই জিনিস কোনে ছিল এ্যাদ্দিন!

গুচ্ছ কবিতা- সুপ্তা সাবিত্রী




তৃষ্ণা
ঢাকা,বাইপাস,আড়াইহাজার.....
ঘামুক দুপুর আর দুই ঢোক জলের তেষ্টা টলটলা দীঘির হ্যালুসিনেশন আনে।কে জানতো অমন কালো জলে বিকেল এসে নামবে, জোছনা দেখার কথা বলে বীণা দি'র ভোরের মতো মুখ খানা স্থির হবে অদ্বৈত বাসনায়- আমাদের পড়শি বিকেল,রান্নাবাটি খেলা দূর আকাশের তারা গুনতে গুনতে ডুবে যাবে আকণ্ঠ ক্রোধে; দুই ঢোক জলের তেষ্টা বীণা দি'কে সমুদ্রে টান দেয়,স্তনের ভেতর ঘামের জমাট গন্ধে ডুবে যেতে যেতে মনে হয়, আমিও বীণা দি'...
দীঘির জল সাঁতরে পার হচ্ছি সমুদ্দুর!

গুচ্ছ কবিতা- কানিজ মাহমুদ


মর্গ শোষিত নারী
নিকোটিনে পুড়ে গেলো একত্রিশ বছর।
আর কতদূর হাঁটলে দেখা যাবে?
তোমার শৈশবের স্কুল,
নামতা পাঠের আসর।
অথবা ক্রসবেল্ট কৈশোর,
আপেল আপেল মুগ্ধতায় নিউটন সূত্র,
আমাদের মুখ চাওয়াচাওয়ি,
কানাই স্যারের সতর্কতা,
কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নিরন্তর।
তবু সমান্তরাল হেঁটে যাওয়া, বিমূর্ত রেল লাইন,
বকুল বকুল ঘ্রাণে ছুটে গেছি চারুকলায়।
প্রিয় শিরীষ তলা,
এলোমেলো রিকশা ভ্রমণ, শহীদ মিনার,সন্ধ্যার বই মেলা।
ভাঁজে ভাঁজে গোলাপ পাপড়ি,
ঘামদগ্ধ রুমাল, স্খলিত মোমবাতি, আমাদের বাড়ি ফেরা।
মর্গ শোষিত জীবন,
বুক শেলফে তুমি নেই
অথচ প্রতি ভোরে তোমার নামে ফোটে এক একটি রবীন্দ্র গোলাপ।।

আবেগ- সুনন্দিতা ভৌমিক




আজ নিস্তব্ধ আকাশের কানায় কানায় জমেছে বিষাদের জল,
অনাবশ্যক কান্নার অবিরাম ধারায় ভিজতে ভিজতে ক্লান্ত আমার দু চোখ।
এই শ্রাবণ বর্ষণ প্রাতে সঙ্গী হয়েছে তুমিহীন নিঃসঙ্গতা,
সময় যেন অতল নিস্তব্ধতায় ডুব দিয়েছে বুক ফাটা দুঃখে,
সরল বুকের শোক গ্রাস করেছে আমায় তুমিহীন অসুখে।

গুচ্ছ কবিতা- জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ




কবর
এ শহরে কাকও ওড়ে না — একা একা;
আর দিব্যি আমাকে ডুবে রেখেছ তুমি
ভাত চেটে খাওয়া কুকুরের ওমে —
পলিথিনের ঘুড়ি ওড়ানো  টোকাই
বুকের হাড় নিয়ে পালিয়ে গেছে সেই কবে —
তোমাকে বলা হয়নি —এ শহরে রাত নেই; অন্ধকার ।

গুচ্ছ কবিতা-নাজমুন নাহার



রাজা চেক
এই আমার শেষ চাল
রাজা চেক-
তোমার আর কোনো পথ নেই
তুমি এখন খাঁচায় বন্দী শিকারী
হাত পা কণ্ঠা
তোমার ছেলেবেলাকার জরুল
খেলার মাঠের উদ্যত পা-
তোমার চোখে সর্ষে ফুল
দর্পহারা রাজা তুমি 


গুচ্ছ কবিতা-রওশন হাসান



অয়নান্ত গোধূলি হাওয়ায়
যাও হাওয়া যাও বয়ে
ধূপছায়া ক্ষয়ে ক্ষয়ে
গুনি, অগনিত সময় গুনি
শোনাও কানে কানে, আগত সন্ধ্যার সিম্ফনি ।

30 November 2017

বেবী সাউ






শীতের গল্প
অধিক কুয়াশায়
চেয়েছ বলেই
সঙ্গত টেনে আনা
গাজর ক্ষেতের কথা
কার্ডিগান বুঝেছে কবে!

নিষাদ মজুমদার





কনডেম সেল
আদালতের রায়ের পর-পর কনডেম সেলে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি
অর্ধেক পথ তোমার চুল ধরে টেনে হিচরে নিয়ে এলে
আমার কেমন জানি কষ্ট পোহাতে হলো
খুব রাগ জমেছে শরীরে আর তখনই আমার হাত উঠে গেলো তোমার শরীরে
ভীষণ জোড়ে একটা থাপ্পড় বসালাম তোমার গালে।
আমার হাত পোড়াচ্ছে এতটাই বেগ ছিল চড়ে
আবারও রাগ হলো, কেনো হাত পোড়াবে কোমল গালে হাত রাখলে
খুব রাগে তোমার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দীর্ঘ চুম্বন দিলে
খুব আরাম হচ্ছিলো,
যেনো আমার রাগের উপর কেউ মালিশ করে দিচ্ছে।
রাগ জেদ মুহূর্তেই নেমে এলো বরফগলা হীম জলের মত
খেয়াল করলাম তুমিও চোখ বন্ধ করে নিষ্পাপ ফুলের মত উজ্জ্বল ওঠো
ধুয়েমুছে বাষ্প হয়ে গেছে কুৎসিত পাপ
সব মিলিয়ে তুমি উপভোগ করছিলে আমাদের শেষ চুম্বন
আর রক্তাক্ত গালে হাতের পাঁচ।

করণ দেবরায়






আজ হাতের সামনে যা পাব, তাই নিয়েই ছুটে যাবো ৷ ঝ্যঁটা, খুন্তি, জুতো, ঢিল-পাথর-নুড়ি যা হোক ৷ আজ আর সহ্য করতে পারছি না ৷ অজানা অচেনা এক আক্রোশ আমায় পেয়ে বসেছে ৷
আমি বাঙালি ৷ লোকের ভাষায় "ভেতো বাঙালি" ৷ এই কি আমার পরিচয় ? শুধু এইটুকু ? ভাত, মাছ, শুক্তোর বাইরে-ও তো একটা জগৎ আছে ৷ কিন্তু সেই জগতে, আমার অর্থ্যাৎ বাঙালির স্থান কোথায় ? হাতে বাজারের থলি আর পায়ে অজন্তার চটি, এই ছবিই কি আমাদের আসল রূপ ?

18 November 2017

সেলাইকল-নাহিদা নাহিদ





নিতুদের একটা সেলাইকল ছিলো
ওর মা ছিলো দরোজি
ছোটবোন নীল সুতো, মেঝটা গোলাপি
বাবাকে কাঁচি বলা যায়
কাপড় ছিলো একমাত্র ভাই।