22 February 2018

গ্রন্থ আলোচনা ২, এস এম মুকুল



কবি মোশতাক আহমেদ-এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ
ভাসাও ভেলা এই বেলা
প্রকাশ করেছে- পুথিনিলয়, পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৬৪, দাম- ১৪০ টাকা, প্রচ্ছদ এঁকেছেন : রাসেল রানা বইটি পাওয়া যাবে- একুশে গ্রন্থমেলায় পুথিনিলয়, স্টল নম্বর : ২০০-২০২

মানুষ সে যতই বড় হোক- শৈশব আর কৈশোরের স্মৃতিকাতরতা যেন আমরণ তাঁর ভেতরে বাহিরে চেতনার ঢেউ তুলে। আর অবাধ্য ঢেউয়ের উচ্ছলতায় কবি মন বলে উঠে- এখানে আকাশ নেই, পলাতক চাঁদ/ছায়া ফেলে উড়ে যায় প্রাচীন শকুন/ ভয়ার্ত আদিম চিৎকারে কাঁদে/জ্যোৎস্নার ফসিল-  ‘জ্যোৎস্নার ফসিল’ এমন চমৎকার শব্দচয়নে কবি মোশতাক আহমেদ ‘কংশ এখন জ্বলন্ত চিতা’ শিরোণামের কবিতায় কংশনদীকে কাব্যিক উপমায় কালের সাক্ষ্মী হিসেবে তুলে ধরবার চেষ্টা করেছেন।

কবিতা গ্রন্থ আলোচনা- এস এম মুকুল



ফয়জুন্নেসা মণি’র কবিতার বই
‘নিমন্ত্রিত জোছনা’
ফয়জুন্নেসা মণি লিখছেন ছোটবেলা থেকেই। স্কুল জীবন থেকেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮ এ প্রকাশিত হয়েছে কবি দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং ৬ষ্ঠ বই ‘নিমন্ত্রিত জোছনা’। বইটিতে কবির বিচিত্রভাবনার কাব্যিকব্যঞ্জনার প্রকাশ ঘটেছে ভিন্ন ভিন্ন কবিতায়।

25 January 2018

গুচ্ছ কবিতা- অক্ষর অনীক


|| বৃষ্টির শহরে 
শহরে ভীষণ বৃষ্টি এখন। বেওয়ারিশ লাশের বুকে ভালোবাসাতোমার অলিতে গলিতে হারিয়ে যাওয়া পুরনো স্মৃতি। বৃষ্টির জলের মাঝে কি এখনো তুমিচোখের জলের তফাৎ খুঁজো?

বিশাখার প্রাক্তন প্রেমিকও এখন,  মাঝে মাঝে সেই তোমার মতো বিশাখার গল্প বলে। ওদের গল্পটা লিখেই ফেলবো ভাবছি আমি। আমাদের তো অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি।

শালুকালয়ে একাই ঝিমোয় দেশ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও বলতে গিয়ে কালো বুটের দালালের লাথি খাওয়া সদ্য বউয়ের সিঁথিতে সিঁদুর পড়িয়ে আসা নব্য জামাই। কবিদের তালিকা থেকে সরকার ও তার নাম কেটেছে বহুকাল আগে।

গুচ্ছ কবিতা- সুলতানা শিরীন সাজি




একটা জীবন খেলার ছলেই
ফুলে ফুলে সাজলো বাগান।
সেই ফুলেরই সুবাস টুকু হাতছানি দেয়।
ফায়ার প্লেসের কাঠের ভিতর জমা ছিল স্মৃতির আগুন।
পাগলপারা একটা দিনের ছবি জুড়ে তুই আর আমি।
হাত বাড়ালেই তোরই আকাশ,তোর চোখে্তে আমার যে জল।
কেউ কারো যে কাছের হবো,হতে হতেই হারিয়ে যাবো।
জানতি কি তুই আমার মত?
তুই বললি তাই,হাত ইশারায় মেঘের কাছে যাই।
একটু পাশে সরতে পারিস? তোর বুকেতে রাখতে পারিস নদী?
ইচ্ছামতো যখন তখন অবাক সাঁতার নিরবধি!
হরিণ ছানার আদর টুকু দিতেই পারিস, ঠোঁটের কাছে একটা পাখি অবাক ডাকে,
আয় শুনি আয়, পাখির গানে; ভোরের বেলা ঘুম চোখেতে,কার কতটা ইচ্ছে নাচে?
আসবি নাকি প্রানের কবি? তোর কবিতায় ধূসর ছায়ায় দূরের কোন গল্প হবো।
একটা দুপুর কেমন করে আমার কাছেই, নাকের নোলক হারিয়ে গেলি।
বাগানটুকুর যত সবুজ,তার চেয়েও তুই যে অবুঝ।
ভালোবাসার কাছে এলে তানপুরা তোর এমন বাজে।
শিখতে গেলাম পাখির কাছে,
পাখি ত নয় তোরই মতন ,উলটপালট স্মৃতির উড়াল।
আমার কাছে তোর বালিহাঁস ভালোই আছে,বুকের ভিতর নদীর কাছে।
তুই শুধু তুই কোথায় থেকে কোথায় গেলি?
একটা জীবন কোন খেয়ালে ইচ্ছেমতন ভেসেই গেলি।
সুনামী আর দাবানলের স্রোতের তোপে,আগুন হয়ে,
একটা জীবন ,
মরীচিকার মতই শুধু হারিয়ে গেলো!

03 January 2018

একগুচ্ছ কবিতা —সেলিম রেজা




[ কবি সেলিম রেজা এই সময়ের একজন  প্রতিশ্রুতিশীল কবি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সাহিত্য সাধনা করে আসছেন, লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সম্পাদনাও করেন ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাহিত্য কাগজ তিনি সম্পাদনা করেছেন। কবি’র জন্মদিনে সংবেদ্য’র পক্ষ থেকে রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং প্রকাশিত হলো  কবি’র লেখা একগুচ্ছ কবিতা]



কী হবে আর বেঁচে!
কী হবে আর বেঁচে!
তুমিই যদি হারাও নিকষ অন্ধকারে;
চোখের আড়াল হবেই যখন
এত্ত স্মৃতি কেনই বা দিলে ?
পরাজয় একদম মানায় না তোমাকে
জানি দুঃখ পুষে রাখো অহোরাত্রি
নিঝুম রাতে জেগে থাকো একা একা
নিভৃতে খুলে বসো কথার পুরান সিন্দুক
মনে হয় ভুলে আছো মিলনের ঠিকানা
প্রথম যেদিন চোখাচোখি ছুটির শেষ প্রহরে
জিজ্ঞেস করলেদেখছেন কী!
তদুত্তরে বললাম কাজল কালো স্বপ্নিল দু’চোখ
কী হবে আর বেঁচে!
যদি টের না পাও আমার উপস্থিতি
বুঝতে না পার জীবন বৃক্ষের শেকড় আমি
এত্ত ভালোবাসা কেনই বা বাসলে ?


গুচ্ছ কবিতা—দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম




ধ্যান
কোন স্মৃতি বিস্মৃতির আনয়ন নয়
অন্ধকার ভেঙে আসা এক হাওয়া
অন্তস্থ গভীরে খুব করে তাড়া
একটা ভয় সুগভীর,
চক্রাকার বেড়ে ওঠা বজ্রপাত মতো
বিদীর্ণ হাহাকার জুড়ে দেয় অকৃত্রিম
তার ভাষা বুঝবার অভিপ্রায় ছেড়ে
ফিরে আসি স্তব্ধতার ভেতর,
আকাশ যেরকম ধুলিসমেত সাজে
সে মতো দৈন্যদশা নিয়ে এক ধ্যানী

31 December 2017

গুচ্ছ কবিতা—সেবক বিশ্বাস




বিস্রস্ত বেহাগ
এই যে মৃত শঙ্খের ঘ্রাণতপ্ত অনুধ্যানের তলে
মুছে ফেলা নৈঃশব্দ্যের এক স্পন্দন যেন!
শ্যামাঙ্গী পাড় বেয়ে লোর সন্ন্যাস;
অতঃপর অনিঃশেষ আঙুরক্ষেত
শিথিল ফেনায় জমে যাওয়া এক সঙ্গিন স্রোত!
প্রতিমুখ পৃষ্ঠার ছায়া জুড়ে বিপন্ন পাখির বাঁক
অপটু অরোকেরিয়া থেকে সঘৃত সঙ্কেতে লেখা সহস্র সংখ্যা চিহ্ন!
এসবই অক্ষীয় বিভ্রমে থেমে যাওয়া নিমগ্ন ডানার নিশ্চুপতা
বহতা বাতাসে বিম্বিত বিস্রস্ত বেহাগ!

পালা সুন্দরী—শাহরিয়ার কাসেম




বড্ড অলস কাটছে রাতুলের। সবে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে বেশ অবসর। পড়াশুনার নেই খুব চাপ। বাবামাও বলে না কোন কাজ করতে। উদাসী হয়ে রাত দিন পাড় করছে। যদিও রাতুলের অবাদে ঘোরাঘুরির খুব অভ্যাস নেই তবুও ইদানিং বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে এখন রাতবিরেতে রুটিন ছাড়া বাড়ি ফিরে। বকুল, জসিম, শুভ ও জয়নাল রাতুলের খুব কাছের বন্ধু। তাঁরা রাতুলের মত এত ভাল ছাত্র নয়। তবে দুষ্টুমির জন্য রাতুলের চেয়ে ঢের বেশি। ইদানিং তাঁদের সাথে বেশী সঙ্গ দেয়ায় রাতুলও বেশ দুষ্ট হয়ে উঠছে।

27 December 2017

এক পৃষ্ঠা কবিতা- অপরাহ্ণ সুসমিতো


ক্রিয়াপদ
বউটা বারান্দায় খালিপায়ে ধপ্-ধপ্ হাঁটছিল
সে সভাপতির কাছে আকুল ক্ষমা চাইছিল
লোকটা কাফনের কাপড় যাকাত দিচ্ছিল

শুকর ছানাটা বোকাবোকা চাইছিল
সম্পাদক কবিতার ভিড়ে হাঁপাচ্ছিল
কেরাণীটা ঈদের মৌসুমে বেশি করে ঘুষ নিচ্ছিল
গাজার শিশুটা বোমার শব্দে কাঁদছিল 

গুচ্ছ কবিতা- শুভ্র সরকার


মানুষের শব্দার্থ
ফুল ফোটার শব্দ, তুমি জামার বোতামে ঘরে লুকিয়ে রাখো। আর মুখস্থ অঙ্কের মতো আমি ভুলে যাই মানুষের শব্দার্থ।
সন্ধ্যাঝোপে ধ্বনিত হয় অভিজ্ঞ অন্ধকার দিগন্তরেখায় চেয়ে থাকে মেঘধুলো।

অনভ্যস্ততায় বিদার হয়ে যায় ধূলোর স্নান; পাখির বাগান। যেমন পালকের অবয়বে হারিয়ে যায় উড়ান। অলীক হাওয়ার তোড়ে হারিয়ে ফেলি আত্মার ঘ্রাণ।

আর বিলীন ধুলোর অবয়ব উড়িয়ে দিলে পথের নিশানা। দীর্ঘকাল হেঁটেও মানুষ নিজের কাছে পৌঁছাতে পারে না।

একগুচ্ছ কবিতা—উদয় শংকর দুর্জয়



আনমনা রোদ্দুর ভেজায় হৃতমহল 
বাদামী এনভেলাপ খুলতেই উড়ে যায় গুচ্ছ গোলাপ; টুপটাপ 
লাজুক শব্দগুলো লুকোতেই পশ্চিমে ওঠে মেঘের দেয়াল। তখন 
জানালায় নেমেছে ঘনঘটা, আঁচলের আড়ালে রোদনসূত্র গুছিয়ে নিয়ে 
এক ঝাঁক বিহগ ঠিকানা ভুলে উড়ে যায়। মোহনচূড়ার পিঞ্জরে লেখা গিরিখাদের 
পাণ্ডুলিপি পড়তে পড়তে অশ্রুপাতের রং বদলায়বালিকা তখনো খণ্ড খণ্ড মেঘপুঞ্জের
মাঝে দৃষ্টি ফ্যালে; প্রত্যাশিত আলোক বিন্দু দেখাবে বৈকুণ্ঠের দুয়োর। 

একগুচ্ছ কবিতা- হোসনে আরা জাহান


কেমন জানি পেট পোড়ে গো... 
কী দারুণ ঘুম ঘুম ভোর, কুয়াশা, শিশির, মিষ্টি রোদ
প্রিয় কাপে চায়ের হালকা লিকার
পাহাড়ি মেঘের গা ছুঁয়ে আসা বাতাসে
মন খারাপের মিশাদ
সবকিছুতেই কেমন একটা সুখলাগা পাই
তবু আমার কেমন জানি পেট পোড়ে গো
আমি ঠিক আজও এসব বুঝতে শিখি নাই

হাওড়ে হাজার মীন, পথের পাশে ভাঁটফুল
ঝুপ করে বৃষ্টি নামে, ভাসে মনে সাতকুল
আসমানে দেখি জাদুর প্রদীপ কেবলই জ্বলে
সময়ে অসময়ে আহা সত্য
মিথ্যার ছলে
এসব কথা নিজের মনে নিজেই তো লুকাই
তবু আমার কেমন জানি পেট পোড়ে গো
আমি ঠিক আজও এসব বুঝতে শিখি নাই।


একগুচ্ছ কবিতা—মাহমুদ নোমান


এভাবেও হয়ে থাকে
কানের লতিতে লাল ডেঁয়ের কামড়ের শূলে
নার্সিং হোমে এসে বলেছি,
বিধাতা আমাকে পাঠিয়েছে
              তোমার কাছে।
অথচ, তোমার সাথে কখনো কথা হয়নি
রাস্তায় হেঁটে যেতে হয়তো দেখেছি
তোমার চলে যাওয়া পরস্পরের
বিপরীত দিকে
আর ফিরে তাকিয়েছি একই সময়ে।

গুচ্ছ কবিতা- সোয়েব মাহমুদ



দ্যাখা–অদ্যাখা কাব্য: ১
আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক,
আমি চাই, প্রানপনে চাই।
তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ
এড়িয়ে যাই পরীবাগ, মালিবাগ,বাসাবো এবং ছায়াবীথি।
এড়িয়ে যাই প্রানের শহরটাও।

একগুচ্ছ কবিতা—শারমিন আক্তার


ভবঘুরে
তোমাদের ঘরে সুখী কোন কবিতা
          রোজকার সংসার গোছায়
              আঁচল পেতে
ওদিকে আমার ঘাম শুষে খায় রাজপথ
ভদ্র পল্লীর গুটিকয়েক বিধাতার মতন

যেন মজলুম হতেই এসেছি আমি
ডিসকাউন্টের ফর্দে চাপা মানুষ এক
     বিষণ্ন পাহাড় গ্লানি সমেত
          কুঁজো পিঠের ধু-ধু শহরে।
ছায়াপথেই শেষ মিলল সরাইখানা
     কী করে আর বাড়ি যাই!