Showing posts with label আসমা অধরা. Show all posts
Showing posts with label আসমা অধরা. Show all posts

22 August 2017

আসমা অধরা



অতল, তোমায় ডাকি
জাড্য পাখী, উড়বে বলে ডানা মেলে। আমরা আপদ কাল লিখে রাখি। মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি  রাস্তায় ফেলে রাখা দ্বিখণ্ডিত ডাবের খোলের মত, যেন ছাপোষা চাপরাশি কোনো। যার মাথা উঁচু করার দম্ভ হয়না কোনো কালেই। অথচ তার জন্ম তো মাথার উপরেই ছিলো, নাগালের বাইরে।

দেখ রোদ উঠলেই বৃষ্টির জন্য হাহাকার করি, বৃষ্টি এলে পচে যাই, শুকোতে চাই মনের মধ্যে জমা রাখা ছোট্ট ছোট্ট ইজের। স্বপ্ন লিখি তোমাকে, তুমিও লিখেই যাও। কেউ উল্কার গল্প বললে গুনেই তেমনি ছাই ভস্ম হতে ইচ্ছে করে। মাছের গায়ে কাদার আঁশের মত ছাড়িয়ে নেই ইচ্ছের একপ্রস্থ বাকল। কষ ঝরে, কষ্ট ডাকি তারে। পুষে রাখি সাপ, কিন্তু ছোবল দেই না।

25 January 2017

আসমা অধরা





বিহ্বল ডানা -১
কোনো এক চন্দ্র মাসের অর্ধেক চাঁদ উড়ে যাওয়া রাতে সেরে যায় ম্রিয়মাণ নদীর জ্বর। ঠিক তার পরই স্রোত উগড়ে দেয় বুকমধ্য খয়েরী হয়ে আসা মাংসের দরদের মত উড়ুক্কু খুলি। মৃণ্ময় সুরাপাত্রের মধ্যে জমে থাকে ক্রুর যমদূতের অশ্রু। অথচ বিধাতার প্রেরিত পুরুষের চোখ দিনে দিনে শীতল থেকে শীতলতর হতে থাকে, চোখে ভাসে ক্রুশসময়ের ছায়া। কেতকীর বনে ঢোলকলমির রেণু মাখা বাঁশিতে ফুঁ দেয় অদৃশ্য কেউ, অথচ সে বাঁশিতে পুড়ে যাচ্ছে যকৃত।

15 June 2016

আসমা অধরা





There is nothing like a coincidence in this world... Some people say...
is that word coincidence mean anything new or special?

ভুমিকাহীন একটি বিন্দুর মতো বহুদিন পড়ে থাকার পর ক্রমিকানুযায়ী শ্বাস, খাদ্য আর যাবতীয় পার্থিব সব কার্যকারণ বোঝাই করে চোখ মেলে তাকানোর পর সে এক পৃথিবী হল। সাথে সাথে নূহ'এর নৌকো থেকে আগত ভীতিরা ভর করে অলিন্দ-নিলয়ে। শীত মেঘের গায়ে ব্যাপক রোদের অসুখ বলেই দাবানলে সৃষ্ট ছাই উড়তে শুরু করতেই পরিযায়ী মনোবৃত্তি- বিহঙ্গ রূপ পায়। বুকের প্রকোষ্ঠ খুলে ছেলেবেলা থেকে হাঁটতে শুরু করার পর বুঝেছি আকাশের অসীমতা বোঝার ক্ষেত্রে কি নগণ্য এক মানব জীবন…
যতখানি পাপ বোঝাই হবার পর মৃত সমূদ্র হারায় ডোবানোর ক্ষমতা, ততটুকু ঔদার্যের স্বত্ব নাকি অদৃশ্য বিধাতা একাই অধিকার করে আছেন? আমি বুঝি পার্থক্যহীন আলিফ আর ওঁম ঋদ্ধ হয়ে যাবার পরেই মরুভূমিতে ফোটে এক আশ্চর্য কাষ্ঠল পুষ্প। তখনি প্রসব বেদনায় ছটফটে তরুণী নাভীমূলে হাতড়ে বেড়ায় ঐশ্বরিক মরিয়ম ফুল নামক কোন অলীক বিশ্বাস।

এযাবৎ বিষে বাসনায় তীর্যক হয়েছে উদভ্রান্তকাল। যদিও বিবেচনা, বিনয় বা বিনম্রতায় আমার ঘরে নিয়মিত রয়েছে ব্রত উপবাস; সেও এক উপাসনারই নাম। খালি চোখে লালের সংক্রমন যা তীব্র রক্তবর্ণ - তাই সুস্পষ্ট হয় যাপন কালের প্রচ্ছন্ন আয়নায়।
উপেক্ষারা যখন আগুনের আঁচে জ্বলে যাচ্ছিল চতুর্মাত্রায়- গোচরে বা অগোচরে, সুবিবেচনায়; তখনই অনিবার্য হয়েছে দ্রোহ। কাঙ্খা বা মনে পড়া সুগন্ধটুকু/ সুগন্ধগুলো ভুলে গেছি ভাবতেই মনে পড়ে যায় উদগ্র ভাবসমগ্র ও ভাষাদের, যাদের আশ্রয় করে বদলে দিয়েছিলাম ঈশ্বরের নাম, ঠিকানা এবং জপমালা। যাপন বেলার সায়াহ্নকৃত্য শেষে বুঝেছিলাম নিজের জন্যও আর অবশিষ্ট নেই সামান্যতম প্রীতির লেশমাত্র।
তাই তো পুজোয় খাদ থাকেনি, থাকেনি চাওয়া বা পাওয়ার আকাঙ্খাতেও। তথাপিও টললেন বিধাতা; এইসব ভাবনাদের ভুল প্রমানেই উপনীত হলেন যে প্রভু, তাকে দেখে চমকে উঠেছি, সে নিজেরই হুবহু প্রচ্ছায়া যা দর্পণে প্রকট হতে পারেনি একবারের জন্যও বিগত জীবনে।

বুঝলাম, মানুষ কখনোই ঈশ্বর হতে পারেনা। তবু নিজেকে কোন ভাষায়, ভঙ্গিতে স্বান্তনা দিই? যে জীবন কেটে গেছে তার বিদায়ের সিঁড়ি জুড়ে ছিলো বিছানো নিকষ অন্ধকার, আর উপকূল বিস্তীর্ণ নোনাজল ও আর্দ্র হাওয়া।
যা কিছু প্রশান্তি ভেবে বুকে মুখ গুঁজে পড়ে আছি সে কি ছুঁয়েছিল কোন জারুল অথবা কেওড়ার নাভীমধ্য সুগন্ধ? মনে পড়ে অন্ধকার এক ঘর অথবা গর্ভ নামক প্রত্যঙ্গ বিশেষ, যেখানে স্থাপিত হয়েছিল মায়ের সাথে প্রথম
বিনিময় ও আদান প্রদান। তারপরে চোখ, নাক, মুখ হলেই জন্মে গিয়ে নাড়ী ও নাভী চক্র বিচ্ছিন্ন হলো, সাথে আমিও যে ওই শরীরের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা সন্তান নামধারী এক জীব।
নাড়ী বিচ্ছিন্ন হলেই বিচ্ছিন্ন হয় মা। বেড়ে উঠলেই গর্ভ ভুলে যায় সন্তান। তেমনি, জেনে ও শুনে আসা বিজ্ঞমত বলে, প্রেম ও রতি শেখার পর প্রেমিকও বিচ্ছিন্ন করে চলে যায় প্রেমিকার আঁকড়ে রাখা হাত। এইখানে এসে নিরলসভাবে খুঁজতে থাকি একটি ব্যাতিক্রম আখ্যানশৈলী, অবিচ্ছেদ্য কোন প্রেমকাব্যকথা। পথের ঠিক এই বাঁকে এসেই আবার প্রমাণ হয়, coincidence সচরাচর মানবজীবনে ঘটে না।

এইরকম অনেক অনেক গল্পের শেষে একদিন- নিজেকে মানুষ ভাবার প্রথম প্রহর মাত্রে যেই রেটিনায় দর্পণ সম প্রস্ফুটিত হল অবয়ব; তার সম্মুখে দাঁড়াতেই দেখতে পেলাম, সেখানে দীর্ঘ ছায়া সমেত এক লেজ গুটোনো রোঁয়া ওঠা কুকুরের মুখ থেকে ঝুলে থাকা লালাঝরা জিভ। সেখান থেকে টপটপ ঝরে পড়ছে ষড় রিপু ও দ্বিগুণত্বে থোকাথোকা লোভ।

নিজের সামনে যদি নতজানু হতে শিখি, তাহলেই বেরিয়ে আসবে আভ্যন্তরীণ শ্বাপদ। দেখবে ললাটের ঠিক নিচে হায়েনার চোখের মত জ্বলছে দুই রেডিয়াম ফ্যাক্টরি...উপলব্ধির এ পর্যায়ে ফের একবার চাঁদের গায়ে ছুঁড়ে দেই আপামর দ্বীর্ঘশ্বাসের ছেঁড়া কাঁথা। মানুষ তার সীমার বাইরে যাবার সামর্থ্য রাখে না, পারে না বন্ধ ঘরে একাকী নিজের সামনেও নতজানু হতে। সেখানেও তার 'ইগো' নামক বস্তু 'ইজম' এর ন্যায় দর্পভরে কটাক্ষ করে নিজেকেই।
আর তাই মানুষ আর কখনোই ঈশ্বর হতে পারেনি এখানে, ধুলো মাটি অধ্যুষিত পৃথিবী নামক গ্রহে, এক আশ্চর্যের কারখানায়। যা ব্যতিব্যস্ত ও দুষিত; ফাঁপা ও উন্মুক্ত ছাদের মতন আকাশ ও রহস্যাবৃত পাতাল সম্বৃদ্ধ বিশাল ছায়াপথের বিন্দুসম অস্তিত্বে।

এতোসব ভাবতে ভাবতেই দিন আর রাতগুলো আলোকবর্ষের মতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যায়। যাপনসমগ্র কেমন পলকেই কেটে যায় যেন ক্ষুদ্র পল, মিলি ও মাইক্রো সেকেন্ড। শূন্য শূন্য সব, অনন্ত শূন্যতার আখড়া। শ্বাসে বুকে মাথায় পৃথিবীর ওজনের চাইতেও ভারী কিছু চেপে থাকে।

যেন চলছেনা আর কিছুই, কালব্যপী স্থির তথাপি তাকিয়ে থাকা চোখে কোন দৃশ্য ধরা পড়েনা, কিছুই দেখিনা। অনেক চেষ্টার পরও একটিও ভাবনা নেই, মন ও মস্তিষ্ক ভুলে গেছে সচল ক্রিয়া বৈশিষ্ট্য। চারপাশের এতো এতো কোলাহল, তীক্ষ্ণ শব্দে কেবল হৃদপিণ্ড চমকে উঠে থমকে যাওয়া ছাড়া আর কোন অভিব্যক্তি নেই। এই আমিই মানুষ নাকি দানব তারও অনুভব নেই। ক্ষুধা নেই, তৃষ্ণা নেই, ঘুম নেই, হাঁটা নেই, চলা নেই, কথাও নেই। বলি না, শুনি না- কেবল শ্বাসকষ্ট তীব্র থেকে তীব্রতর হবার কিছুক্ষণ পরে নিয়মানুযায়ী জ্ঞান হারানো।

নিজের কাছেই আবার প্রমাণিত হয়, আদতে মানুষ ঈশ্বর হতে পারেনি, পারেনা বা সম্ভবপর ও না। এক অদৃশ্য কিম্বা অলীক অস্তিত্বকে হয়তো অজ্ঞান ও অন্ধবিশ্বাসে ঠাঁই দেয়া সম্ভব, কিন্তু তার স্বরূপ ধারণে পারঙ্গম নয়। কারণ মানুষ অনুকরণ ব্যাতীত অদৃশ্য কিছুর রূপদানে অক্ষম ছিল, আছে, থাকবে।



01 January 2016

আসমা অধরা




নির্মীলিত গ্রস্থতা
ওগো উত্তাপ, এসো তোমাকে পাঠ করি একান্ত নিরলস,
কবির হৃদয়ে গড়ে তোল কক্ষ বক্ষ সমরেখ
মস্তিষ্কে পুরে দাও বায়ুহীন আদিগন্ত আকাশ, আর
চতুষ্কোণ এই ঘরে যদি জানালা কপাটে খিল লেগে যায়-
সেখানে কিছু টুপটাপ অমৌসুম শিশির ঝরিয়ে যেও।
নবজ্বর থেকে উন্নীত হও বিষমজ্বরে,
গরলের সাথে মিশ্রিত সিনকোনা পান করে বেদম পড়ে থাকো
না হয় পান করো সামান্য পরিমান করবীর নির্যাস;
জ্বরঘ্ন হৃদয় আরো শক্তিশালী হয়ে উঠুক।
এসো অবিরাম সবিরাম জ্বর, দিয়ে যাও আরো কিছু ঘোর
তন্মধ্যে পৌঁছে যাই ঔদার্যে, দুলতে থাকা ওক গাছের চুঁড়োয়
ডিঙি বেয়ে আসি ফোরাতের জলে,
শ্যাম বাঁশী বাজালে প্রলয় নৃত্যে দুভাগ হয়ে যাবে উন্মত্তা পদ্মা
আবিষ্ট ভ্রমণ শেষে, এইসব শুন্যকাল ভরে দেই কোলাহলে-
তেমনি এক আশীর্বাদ বয়ে এসো,
যেন সিসিলের আবাদে ক্ষয়ে যায় সমূহ কাঁটা, আর
পারদের বিস্তার ওই ক্ষুদ্র কাঁচের ঘরে আমূল ব্যর্থতায় ভরে যায়;
উবে যাওয়ার অক্ষমতায় ডুবে যায় বিষাদ কর্পূর,
জরাগ্রস্ত সেই তরুণী গোলাপী নেশায় প্রবল বৃষ্টিতেও প্রলয় ঝংকার তোলে,
ব্যাধিত বোধের নিরহং কোন একাকী রাজপথে।






নিবাসে রাত, রাতে চাঁদ
বলপেন নিয়ে বসে থাকা, নিবটা কেমন টিপটপ হয়ে নিঃশব্দ লিখে যায়। ঘর অন্ধকার হয়ে গেলে নেমে আসে মিথ, রাতের দেব-দেবী নিক্স ও এরিবাস। আঁধার কেটে আলোর বন্যায় তখন চোখ জ্বলে যায়, দীপ্তির সাথে পাল্লা দিয়ে উড়তে থাকা ঘ্রানেরা যেন দুহাতে ঠেলে নিয়ে যায় জানালা গলে এক ফিকে চান্দের নিচে। সেই চাঁদোয়ায় দেখি এক হিলহিলে সাপ অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে জানালায় ঝোলানো বাঁশীত্রয়ী।

ওই যে এক মানুষ থাকে দুর গাঁয়ে, পুড়ে যায় জ্বরঘ্ন কাথায় আঙ্গুল জড়িয়ে; তার শিয়রে এক তেতোপাখি ডাকে। মুখ বিস্বাদ হয়ে যেতেই মনে পড়ে যায় জিভে জড়ানো পানসে আদর, আর ঠিক তখন কোথায় এক টুনটুনি ডেকে ওঠে। রেকাবিতে জল, জলে এক সাদা পদ্ম কলকল করে কথা কয়, তাকে কপালে চেপে দিতেই চোখ জবা হয়ে ফোটে। ওইখানে খুব ব্যাথা।

আহা আজ এমন চাঁদ, সে জাহাজি দেখতে পেলনা। এ আলোয় সন্ন্যাস ভাসে-সুপুরীর খোলে জমে থাকা জল আনচান করে ওঠে এক এলাচ সুগন্ধের জন্য। উন্মুখ দম্পতি ভুলে যায় চুমুকথা। রাত যেতে যেতে খেই হারিয়ে এক অন্ধকার ঘোরানো সিঁড়ি ধরে চলে যায় মায়াপাঁজড়ের নিচে।

ও রাত, রাত গো, প্রিয়তমর মতো পাশে বসে থাকো। আজ ফিরে যাক ভোর। প্রতিদিন যে অনিবার্য ক্লেদ লিখি, তা আজ ডুমুরের ফুল হয়ে যাক। আজ নাহয় আমরা মিলেমিশে একটি দিন ভাঙ্গি, তারপর সেই টুকরো গুলো গেঁথে রাখি ক্যাকটাসের কাঁটায়। পয়জনে তুলো ভিজিয়ে মুছে দেই রুপবতী কাঁটার উদ্ধত মুখ।

এমন রাতে নাহয় এক তিতির হয়ে যাই, ঘাসের বনে বনে গিয়ে খুঁজে আনি বনৌষধি, তার তপ্ত মুখে অদৃশ্য হতে ঝরে পড়ুক বহুবছর ধরে জ্বাল করা মদের মতো কুইনাইন, সহনীয় দাঁতে কেটে দিই আঙ্গুলের ডগা। তারপর অজ্ঞাত ফুলে ভুল করে ফেলে আসি নিজস্ব দন্তনখর, নতমুখে মাটিলগ্না হতে চাই হিজলের ঝুকে পড়া ডালসদৃশ।


হাওয়া বাতাস চাঁদ আর রাত সাথে নিয়ে খুঁজে যাই উত্তর দক্ষিনে, তুমি অভিভূত সুবর্ণরেখার ওইপাড়ে ঘুম খুলে তুলে রাখো অনিচ্ছাদের। সুন্দরীকাঁটায় পা আটকে গেলে নাহয় তিলক্ষেতে দাঁড়িয়ে যাব স্কেয়ারক্রো'র মতো। কোন এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত গোধুলীতে ঘুম ভাঙে যদি, তখন নাহয় সে আলোয় ভাসিয়ে দেয়া যাবে কিছু শঙ্খচূড় শ্বাস, উদ্বাস্তু স্বপ্নশিবিরে।

02 December 2015

আসমা অধরা




উঠোন জুড়ে উড়তে থাকা প্রজাপতির ছায়া নেচে বেড়ায়, তার পেছন ছুটতে ছুটতে লজ্জাবতী কাঁটা চিরে দেয় সেই, সে-এ-ই একদা সুস্থ পদতল। ঠিক তখনি বেজে ওঠে এক পাগলাঘণ্টা; 'পালিয়েছে ফের'- বলেই মুচকি হেসে মাথার ঠিক উপরে চলে আসে সূর্য। হন্যে হয়ে খুঁজি নিজের ছায়া, নিজের চারপাশে দু'হাত ছড়িয়ে চরকি ঘোরা হয়ে আঁকতে থাকি বৃত্ত। মন বিড়বিড় করে এক হোয়াইট মার্কার বোর্ডের গোটা হরফে লিখে রাখা উলম্ব বোধ।

ছায়া গো! আরো উদগ্র হয়ে থাকো, বুকের ভেতরে স্ব-অহম কেমন ক্ষ্যাপা হয়ে খোঁজে সেই রঙ্গিলা ফানুস, হুশের সমাচার, এক পিদিমের পুড়ে যাওয়া সলতে। অথচ যে আহুত আগুন পুড়ে দ্যায় সব, তার জন্যেও নিয়মিত তেল ঢেলে ঢেলে উজ্জীবিত করতে হয় তাকে, এর নাম উপাসনা বুঝি!

এইসব ফেমিনিন ছায়ারা বড্ড অস্থির, স্থিরতম নোঙরের গিঁট খুলে কোথায় কোন সমুদ্রের তলদেশ ভারী করে আছে...যে বস্তু খুঁজে পাওয়া যায় না, তাকে কি বলে ডাকি? ঈশ্বর, পরাবাস্তব নাকি অধিবাস্তব! নিজেকে সুপ্রাচীন শিলাখণ্ডের মতো নিস্তব্ধ, সুনসান লাগে, এই গ্রহে একটিও কথা বলা সবজান্তা বৃক্ষ নেই!

এইসমস্ত তালাশেরা খুব নৈঃশব্দ্য জানে, মুখে কুলুপ এঁটে থাকে প্রজ্ঞাবান শতবর্ষীয় বট, আর তখন কোথা থেকে এক অতিকায় ফ্যালকন উড়ে আসে- টেনে নিয়ে যায় কুয়াশার চাইতেও অধিক ঝাপসা মর্ত্যের গহীন পাতালে, যেখানে ক্লান্তি, জরা, বৈকল্য ও প্যারানরমাল অস্তিত্বেরা মিলেমিশে এক অতিকায় পাণ্ডুলিপিতে লিখে যায় ভিজিটর'স অ্যাকটিভিটিজ।

এই সব দিনরাত্রির মাত্র কিছু উত্তর নিয়ে ছুটে আসো, বিড়বিড় করে মন্ত্রের মতো ঢেলে দাও কর্ণকুহরে, ছুঁয়ে দাও উদগ্রীব অস্তিত্বের ব্যাকুলিত অভ্যন্তর। একবার জেনে নিয়ে মরে যাবার সময় বিধাতা বলেই মেনে নিয়ে, সে তুমি যেই হও- মানবগোত্রীয়, প্রেতাত্মা অথবা নুরের ফারিশতা—
এসো, নেমে এসো এই মর্ত্যে, ধরায়- একটিবার। 'পরম' বলে কেবল একটা ক্ল্যাপস বাজাবে বলে হাত দুটো অধীর প্রতীক্ষায়..এসো!

































এই সময়ে হাসি- কান্না, ব্যাথা- সুখ, অমাবস্যা এমনকি জোছনাও ক্ষয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র অথবা ব্যপক ভাবে। শ্বাস এবং জীবনের ক্ষয়িষ্ণু অনুভব ঝরে গিয়ে ঠেকে থাকে মৃত্যুবৎ। প্রিয় জোছনা উগরে দেয় বিষ ও বিষাদের তীব্র গরল, কালো বাদুড় ব্যতিরেকে অমন ধবল চন্দ্রালোকে নীড়হারা উদ্বাস্তু কোন যে পাখি কেবল অপচ্ছায়া বিস্তার করে যায়। জেঁকে বসা বিপন্নতা বোধ- অসুর, সুখ ও স্বস্তি পাথর চাপা পড়া অঙ্কুরের মতই অপুষ্ট হলদেটে। এক পর্যায়ে অন্ধকারও বিপর্যস্ত মলিন; মনন থেকে খসে পড়ে অনাহুত কাব্যেরা।
পূর্ণিমার ছায়া জলে ভেসে বেড়ায়- যদিও ঠিক তার নীচেই অঘোর আর্কিটেক্টের টেবিলে চলে গেছে লাল আর নীলেরা। কেবল এইঘরে ছাইরঙা ঘুঘুর পালক স্বাচ্ছন্দ্য লুকোচুরির সঙ্গী। কেন্দ্রে পৌঁছনোর কোন পথ রাখেনি বলে বৃত্ত নিজেই একাকীত্বের জালে বন্দী; জিঘাংসায় ছিটকে আসে যে ফাউন্টেনের কালি,সেও আজীবন দোয়াতের কাছেই পরাস্ত।
শুভ্র-নীলে যেমনি সাজুক আকাশ সেও তো কেবল শূন্যতারই ছদ্মবেশ, তাই আকাশ রঙা কেরোসিন পারে এই অসুখে গলে গলে খসে পড়া চামড়ায় আগুনস্পর্শী শুদ্ধতা এনে দিতে। বড্ড অপবিত্র আর অশুচি লাগে আজকাল নিজেকে।
কাঠের চশমা পরে একমাত্র ঈশ্বরই চিরস্থায়ী হাসির সাথে অংশীদারি চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে পারেন। যতটুকু গড়েন তার বেশী ভেঙ্গে গেলেও দেখার চোখটুকুর আচ্ছাদন সরানোর অপারগতায় অসহায় খোদ বিধাতার উপরেও করুনা ছাড়া বৈরী অনুভব নেই কোন। কেবল তিনি নেই তাই প্রমানিত পৌনঃপুনিকতায়।
আহ্নিক বার্ষিক উপেক্ষা করে যে হ্রেষা ছুটে যাচ্ছে, বহু আগেই তার বল্গা ছিড়ে গেছে অভিকর্ষের দোটানায়। তবুও নালের আঘাতে বিক্ষত পাড়ের চিহ্ন গাথা প্রান্তরে আশ্চর্য দোটান। হৈ চৈ ছেড়ে অভিগমনের দিকে ছুটছে ভায়োলিন। আমাদের কোন উল্লাস নেই, ঘর নেই দোর নেই মাথা নোয়াবার। এই যে ঘুংগুরের ভেতর বোনা অজস্র কথারা ছুঁতে চাইছে ঈশ্বর, তার ম্রিয়মাণ চলায় কোন সুর নেই। এমন অবস্থানে চাঁদের আলোর সাথে সুপুরির খোলে জমানো জলে গাঢ় জ্বালে জ্বলছে এলাচদানা, তারও কোন সুগন্ধ নেই। আহা মন! নিজস্ব ঘন বুনোটের রজ্জু কোন দেনায় বাঁধতে পারেনি সে বিজুলি। তূর পর্বতের পোড়া ছাইয়ের ঝলক পলকে মেখে দেবার পর মূর্ছিত নয়নে খেলা করে নাদসর্বস্ব অনুলিপির ঝাঁপি। এবারে চলে যাই, সমস্ত ঋণ লিখে দিই শোধের হস্তাক্ষরে।