শহুরে পাট
ভেঙে ম্যানহোলের ঢাকনার মতোই খানিকটা হাঁ দিয়ে মুখের ওপর দুম করে বন্ধ হয়ে গেল
গৃহশিক্ষকের গৃহ দরজা। ওই দরজার ভেতর টুকু ওনার এক্তিয়ার। বাইরেটা ছাত্র ছাত্র
নিজেরাই সামলে আসছে। বুনো রামনাথের পদবী এনারা যথেষ্ট সিরিয়াসলি নিয়েছেন। বেড়া
ভাঙা বকুলের ছায়াস্তব্ধ সেই পাঁচিল ঘেঁসে অজগরের মতো শুয়ে থাকা জমাট চাপ চাপ
উদাসীনতার গলিতে সাইকেল নিয়ে সদ্য বেরিয়ে এল দুটি ছেলে। সতেরো আঠেরো বছরের খর যৌবন
মুখের হালকা লোমে তুলি দিয়েছে। একজনের মুখটা একটু ভাঙা তোপসানো চওড়া, অন্য জনের
নিটোল গোল। বড় বড় আয়ত চোখে প্রথম যৌনতা ও শিকড়ের সরলতার যুগপৎ ছাপ একটা আলো আঁধারি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। ব্যভিচারী ভাবের মতোই তার সঙ্গে মিশেল ধরিয়েছে কানপাতা
দায়িত্ব, নেশাতুর স্বপ্ন, গোপন উৎকণ্ঠা আর অসবর্ণ বিদ্রোহ। মুখে ক্লান্তির ছাপ
স্পষ্ট পাখাটানা বকের মতোই ঝিমিয়ে আছে। মফস্বলের অঙ্কশায়িনী গ্রাম তার নিদ্রার
শমন এখনও জারি রেখেছে ধুঁকে ধুঁকে। সেই আলোকিত অভ্যাসের মধ্যে হঠাৎ ঢুকে পড়া
চামচিকের মতোই গতির প্রয়োজন গোঁৎ খায় মাঝে মধ্যেই। যে সময়ের কথা গোকুলপাসরী গ্রাম
তখন আড়মোড়া ভাঙ্গছে শহরের কণ্ঠলগ্ন হয়ে!
Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts
11 May 2019
04 February 2019
ফারিয়া তাবাসসুম — মনিমার বটবৃক্ষ
১.
আজকাল দূর গ্রামের কোন কুটির হোক বা প্রাচীন কোন
রাজা বাদশাহদের মহল এর ঘর সবটাতেই রয়েছে ব্যক্তির ব্যক্তিতের ছাপ। সেটা চালের গুড়ো
পানিতে মিশিয়ে কুটির এর গায়ে আলপনা আঁকা হোক বা নকশা কেটে মহলের দেওয়াল এর সৌন্দর্য্য
সৃষ্টি করা হোক। সবটাতেই থাকে ব্যক্তির নিজস্ব মনোজগৎ এর প্রতিফলন বা সুন্দরতার দিক
উঠে আসে। এই সময়ে ডিজাইনে ব্যপারে এতো কষ্ট করতে হয় না, হাতে মোটা অংকের কাগজের নোট
আর ইন্টেরিয়র ডিজাইনার থাকলেই হল। এমনি একটা সুন্দর ঘর নিয়েই আজকের গল্প।
রাত ক’টা বাজে মনে নেই। যে ঘরটায় আমি বসে আছি সে ঘরের নতুন রঙয়ের কাজ শেষে হয়েছে, দুদিন হলো। ঘরে রঙয়ের গন্ধ নেই। এখন আর গন্ধ থাকে না রঙে। আমি আর মনিমা বসে কফি খাচ্ছিলাম। মনিমা বসে আছে উইনডো সিটে আর আমি মেঝেতে। মেঝে থেকেই বসে দেখতে ভাল লাগছিল বটবৃক্ষ এর ওয়াল পেইন্টিংটা।
রাত ক’টা বাজে মনে নেই। যে ঘরটায় আমি বসে আছি সে ঘরের নতুন রঙয়ের কাজ শেষে হয়েছে, দুদিন হলো। ঘরে রঙয়ের গন্ধ নেই। এখন আর গন্ধ থাকে না রঙে। আমি আর মনিমা বসে কফি খাচ্ছিলাম। মনিমা বসে আছে উইনডো সিটে আর আমি মেঝেতে। মেঝে থেকেই বসে দেখতে ভাল লাগছিল বটবৃক্ষ এর ওয়াল পেইন্টিংটা।
আমার জিজ্ঞাসা এবং কৌতূহল মিটাতে অনেকটা অনিচ্ছায়
বলতে হলো, কেন ঘর জুড়ে এমন ছেলেখেলা হলো। আমার সাথে বসা মনিমা সহজ মানুষ নয়; তাকে ভেঙ্গে
কথা বের করা কঠিন। হয় সে নিজে বলবে, না হয় বিষয়টা চেপে যাবে। আমার আবার আগ্রহের কমতি
নেই।
30 July 2018
গল্প: বান—নিবেদিতা আইচ
উঠোনটা একটা ছোট খাটো পুকুরে পরিণত হয়ে গেছে। খুব সাবধানে পা ফেলে
হাঁটছে দুলি। অন্য সময় হলে একছুটে ঘরের দাওয়ায় গিয়ে ওঠা যেত কিন্তু এই শরীর নিয়ে
এখন ওর সে সাহস হয় না। উঠোনে মেলে দেওয়া কাপড়গুলো শুকিয়ে এসেছিল, এখন সব এদিক ওদিক পড়ে কাদায় মাখামাখি হয়ে
গেছে। দুলির আঁচলের ভেতর আধ গামলা চাল, গোটা চারেক আলু আর
কাঁচামরিচ। ভেজা আঁচল দিয়ে গামলাটাকে ভালো করে ঢেকে রেখেছে সে।
দাঁতে
দাঁত চেপে উঠোন পেরোয় দুলি। বুকটা ঢিপঢিপ করে ওর। দাওয়ায় গিয়েই শরীরটা ছেড়ে দেয়।
উঃ এত পানি! বান আইতে আর দেরি নাই রে..নিজেকেই নিজে সতর্ক করে সে। আর এই শঙ্কাকে
সত্যি করতেই যেন বৃষ্টির তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। ভেজা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে ওর।
একহাতে শাড়ির নিচের অংশটুকু থেকে হাত দিয়ে নিংড়ে নিংড়ে পানি ঝেরে ফেলে । আঁচল দিয়ে
মাথাটাকে বাঁচাতে চেয়েছিল, লাভ হয়নি, ভিজে চুপসে গেছে পুরো শরীর। হি হি
করে কাঁপতে কাঁপতে ঘরে গিয়ে ঢোকে দুলি।
28 June 2018
ফাহ্মিদা বারী—অন্ধ জীবন
:::: এক ::::
একটানা পানি পড়ার আওয়াজ ভেসে
আসছে।
কেউ বুঝি বাথরুমের ট্যাপটা
ছেড়ে রেখেই চলে গিয়েছে। টিপটিপ টিপটিপ...ফোঁটাগুলো বেশ বড়বড়। ট্যাপের নীচে মনে হয়, স্যান্ডেল টাইপের কিছু একটা আছে। আওয়াজটা খুব তীক্ষ্ণ নয়, খানিক ভোঁতা। বাইরে
এতক্ষণ গাড়ির হুইসেল আর রিক্সা টেম্পুর প্যাঁ-পু-তে মাথা ধরে যাচ্ছিলো। সেসব আওয়াজ
কমে আসতেই এখন শুরু হয়েছে এই ট্যাপের পানি পড়ার আওয়াজ।
বেশ অনেকদিন আগে একটা কথা
শুনেছিলাম। যাচাই করে দেখার সময় অথবা সুযোগ কোনটাই হয়ে ওঠে নি আগে। শুনেছিলাম,
মানুষের একটা কোনো ইন্দ্রিয় অচল হয়ে গেলে নাকি অন্য ইন্দ্রিয়রা আরো বেশি মাত্রায়
সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এক ইন্দ্রিয়ের অবসর গ্রহণের সুযোগে অন্য ইন্দ্রিয়গুলো দায়িত্ব
বেশ কয়েক দফা বেড়ে যায়। এখন তো হাতে সময়ের অভাব নেই। তাই প্রতিনিয়ত কথাটার সত্যতা
মেপে দেখার চেষ্টা করছি। আজ দু’বছর
হতে চললো এক দূর্ঘটনায় চোখ দুটো হারিয়ে আমি পুরোপুরি অন্ধ।
15 June 2018
মাহতাব হোসেন—বীথি'র বানান ভুল
কড়া নাড়তেই
দৌঁড়ে এলো নীতু। ‘স্যার’ বলেই একটা মৃদু চিৎকার দিয়ে দ্রুত দরজা খুলে দিল। আমি খুব
স্বাভাবিক ভাবেই ওদের বসার ঘরে চলে এলাম। এরমধ্যে ও একটা গামছা নিয়ে এসেছে।
ফ্যানটাও ফুল স্পিডে ছেড়ে দিয়েছে। নীতুর হাত থেকে গামছা নিয়ে বললাম, তোমার আম্মু নেই। প্যান্ট কম ভিজেছে তবে শার্টের অবস্থা
যাচ্ছেতাই। ভেতরে শ্যান্ডো গেঞ্জি পরি না। নীতু বলল, আমু রান্নাঘরে।
26 May 2018
আলোকলতা— স্মৃতি ভদ্র
“মা—ভালবাসা জীবনের যে কোন সময় আসতে পারে।”
বুবুনের এই কথাটা আমার জীবনে মিলে যাবে তা—যেন আমার ভাবনার
অতিরিক্ত ছিল। জীবনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা পিছনে ফেলে তখন আমি বেশ গুছিয়ে উঠেছি।
স্বনির্ভর আমিই বুবুনের একমাত্র আশ্রয়স্থল। না, আশ্রয় নয় বুবুন আমার জীবনে জড়িয়ে
আছে লতার মতোন। আর আমি ওর আলোকলতা।
আশ্রয়, এই শব্দটি ঠিক কতটা লজ্জাজনক হতে পারে তার উদাহরণ
আমার জীবন। খুব ছোটবেলায় মা মারা যায়। এরপর বাবা বিয়ে করে নতুন মা ঘরে আনলে সেই ঘর
আমাকে পর করে দেয়। আমার জায়গা হয় মামাদের কাছে। জায়গা নয় আশ্রয় দেয়। যা দিয়ে
বিনিময়ে আমার আত্মসম্মানটুকু নিয়ে নিতে চায়। কিন্তু আমার আশ্রয়দাতারা বিনিময় সূত্রেই যে ভুল করছিলো তা মানতে নারাজ ছিল। তারা আমাকে তাদের উচ্ছিষ্ট একটু জায়গা
দিয়েছিলো আশ্রয় হিসেবে যা ছিল স্টোররুমের এক কোণা কিন্তু বিনিময়ে চাইছিলো আমার সব
থেকে মূল্যবান আত্মসম্মান। তাহলে কিভাবে সম্ভব ছিল এই বিনিময়? আর তাই আমার জন্য
তারা বরাদ্দ রাখত কটু কথা আর উপহাস। তাদের সবচেয়ে বেশী উপহাসের স্বীকার হতো আমার
পড়াশোনা করার ইচ্ছাটি। “কুঁজোর শখ হয় সোজা হয়ে দাঁড়াতে!” মামির এই বাক্যটির সাথে
ঘর ছিল যেন আমার সকাল—বিকাল। এই উপহাসকে গা থেকে ঝেরে
ফেলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম। মায়ের নামে নানার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল টুকু দিয়েই
আমি এগিয়ে যেতে থাকলাম।
03 May 2018
অপাংক্তেয়—আকাশ মামুন
রাতের শুনশান নিরবতা ভেঙ্গে একটানা
গোঙানির আওয়াজ বাইরের অসহ্য রকম অন্ধকারকে একটা আকার দিতে চেষ্টা করছে। ভিতরে আলো বলতে
হলদে সোডিয়াম বাতির টিমটিম করে জ্বলে থাকা। মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভরা পূর্ণিমাকে মেঘ গ্রাস
করলে যেমন জোস্না ম্লান হয়ে যায় তেমনি বড় হল রুমের অন্ধকার সোডিয়াম বাতিকে জাপটে ধরে
ম্লান করে দিয়েছে। তবুও নিজস্ব আভাটুকু নিয়ে জেগে আছে। কিন্তু জেগে থাকতে পাচ্ছে না
গোঙানিটা। নিস্তেজ হতে হতে দূরে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে যেন। দূরন্ত ট্রেনের হুইসেল দূরে
যেতে যেতে যেমন মিলিয়ে যায় তেমনি ধীর লয়ে মিলিয়ে গেলো গোঙানিটা।
মুখে পানির ঝাপটা পেয়ে চোখ মিটমিট
করতে করতে চোখ খোলার চেষ্টা করতেই অকস্মাৎ একটা ধাক্কা খেল। দুর্বল শরীর আর ততোধিক
দুর্বল মনে নিয়ে চোখ খুলতে গিয়ে আলোর ধাক্কায় চোখের চারপাশে বলিরেখা ফুটে চোখ কুচকে
গেল। কয়েক বারের চেষ্টায় আধোবোজা চোখে যা ভেসে উঠলো তাতে চোখ খোলার আগ্রহটাই মরে গেল।
কপালে ভাঁজ নিয়ে বলি রেখা ভেসে উঠা, আগ্রাসী চোখ আর মুখে বেমানান উদ্দেশ্য প্রবণ কাঠিন্য
নিয়ে নিঃশ্বাস দূরত্বে ঝুকে আছে লোকটি। চট করে চোখ বুজে এলো। প্রাণপণে চোখ খুলতে চাওয়ার
মানসিক চেষ্টাটা ঠিক যে ভাবে জেগে উঠেছিল সে ভাবেই দমে গেল। ঝিম মেরে পড়ে রইলো সেহেরা
বেগম। এই অভিজ্ঞতা যে প্রথম তা নয়, তবে নিপীড়নের তীব্রতার অভিজ্ঞতাটা একেবারেই প্রথম।
মাদক দ্রব্য পাচারের অভিযোগে আগেও বার তিনেক গ্রেফতার হয়েছে সেহেরা বেগম। প্রতিবারই
লিডারের লোক এসে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।
12 April 2018
সুপ্রিয় সঙ্গীত- সাদিয়া সুলতানা
সুপ্রিয়
সঙ্গীত,
আজ আমার মন ভাল নেই। মন ভাল নেই বললে
ভুল হবে। আজ আমার মন খুব খারাপ। তোমার ভাষায় আজ ‘খুব বরষা দিন’। ভেতরেও। বাইরেও।
সেই ভোর রাত থেকে ছন্নছাড়া বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই। তবু মেঘেদের ওজন কমছে না
কিছুতেই। দু’দিন ধরেই ঢাকায় খুব বৃষ্টি। একটানা ঝরছে। থামবার নামটি করছে না। ঘরে
বসে থেকে থেকে এমনিতেই বোর হচ্ছি। তার ওপর মনের মাঝেও বরষার প্রভাব। আজ বৃষ্টি না
থাকলে বাইরে বের হতাম। সারাদিন বৃষ্টির মতই সৃষ্টিছাড়া এদিক ওদিক। একা একাই গোটা
ঢাকা চষে বেড়াতাম। ঘুরতাম, খেতাম, শপিং করতাম। কতক্ষণ লাগত বল মন খারাপ ঠিক হতে?
অবশ্য ঢাকার বৃষ্টি আর আগের মত
উপভোগ্য নয়। বরং উপদ্রবও বলতে পার। বৃষ্টি এলেই এখন স্বস্তির চেয়ে শংকা বেশি। দৈব
দুর্বিপাকের সাথে দৈব দুর্ঘটনাও যোগ হয়। রাজপথের এখানে হাঁটু পানি তো সামনেই তা
কোমর ছোঁয়। ঢাকনা বিহীন অদৃশ্য ম্যানহোলের পাঁকে জীবনও যেতে পারে। কর্তৃপক্ষের বেহিসেবি খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তাগুলো ধুঁকছে। ঢাকাবাসীর অবস্থা অনেকটা জলবাসী কৈ এর
মত। জল-ডাঙার খেলায় সবার ভীষণ ছটফটে অবস্থা। ঢাকা এখন খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। মানুষের
মনের মত। চেনা ঢাকাকে তুমি এখন একদম চিনবে না সঙ্গীত। নব্বইয়ের ঢাকায় এখন বিড়ম্বিত
মানুষের দুঃসহ জীবন।
27 March 2018
রোড সাইড রোমিও- তামান্না তাবাসসুম
।। এক ।।
শান্তা পাড়ার গলি দিয়ে হেটে স্কুল থেকে ফিরছে, ওর পিছু
পিছু তুষার আর লিমন নামের দুই ছোকড়া আসছে।
-শান্তা কই যাও?
শান্তা কিছু না বলে এগিয়ে যাচ্ছে
-বল্লানাতো কই যাও?
শান্তা চোখ গরম করে তাকায়- স্কুল
ড্রেস পড়ে কি আমি বিয়ে খেতে যাচ্ছি?
তুষার বলে, না তাও শিওর হয়ে নিলাম
। তুষার আর লিমন এবার শান্তাকে
শুনিয়ে শুনিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকে। লিমন বলে, ওই তুষার তোর ফোন নাম্বারটা দে তো ।
-কস কি দোস্ত , আমার নাম্বার তোর
কাছে নাই ? তাও আবার ক, মুখস্থ করে রাখি ।
০১৭...
আবার বল
০১৭...
আবার বল
ভাল কইরা শোন যেন অন্তরে গাইথা
যায় ০১৭...
শান্তা দ্রুত হেঁটে গলির অন্য মোড়ে
চলে যাচ্ছিলো। ওকে শুনিয়ে তুষার বলে, রাতে যেন মিসকল পাই।
রাতে মা ঘুমিয়ে পড়লে লুকিয়ে রান্না ঘরে গিয়ে মায়ের ফোন থেকে সত্যি সত্যিই ঐ নাম্বারে মিসকল দেয় শান্তা। নিজের পরিচয় না দিয়ে রং নাম্বার বলে কথা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু দুদিন পরেই কথায় কথায় তুষার বুঝে যায় এটা শান্তা। আর কথায় কথায় শান্তাও গলে যায়। স্কুল থেকে যাওয়া আসার সময় দূরত্ব রেখে হেটে হেটে ইশারায় কথা বলা, রাতে ফিসফিস করে মায়ের ফোনে চুরি করে কথা, তুষারের শান্তাদের বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা; শান্তার বারান্দা দিয়ে ইশারা দেয়া, এভাবে ভালই যাচ্ছিলো দিন।
রাতে মা ঘুমিয়ে পড়লে লুকিয়ে রান্না ঘরে গিয়ে মায়ের ফোন থেকে সত্যি সত্যিই ঐ নাম্বারে মিসকল দেয় শান্তা। নিজের পরিচয় না দিয়ে রং নাম্বার বলে কথা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু দুদিন পরেই কথায় কথায় তুষার বুঝে যায় এটা শান্তা। আর কথায় কথায় শান্তাও গলে যায়। স্কুল থেকে যাওয়া আসার সময় দূরত্ব রেখে হেটে হেটে ইশারায় কথা বলা, রাতে ফিসফিস করে মায়ের ফোনে চুরি করে কথা, তুষারের শান্তাদের বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা; শান্তার বারান্দা দিয়ে ইশারা দেয়া, এভাবে ভালই যাচ্ছিলো দিন।
একদিন পাড়ার মুদি দোকানি শান্তার বাবার
কাছে বিচার দেয়, বলে আপনার ছোট মেয়েটাকে রোজই দেখি ভ্যাগাবন্ড
তুষারের সাথে কথা বলতে। ঐ ছেলেতো ভাল না, দুইবার ম্যাট্রিক ফেল করে এখন সারাদিন
খারাপ পোলাপানের সাথে মিশে।
সেদিন বাবার হাতে খুব মার খায় শান্তা
। মা তার ফোন মাথার কাছে নিয়ে ঘুমায়।
তারপর থেকে কথা বলা বন্ধ।
শান্তার বড় ভাইয়ের এলাকায় খুব দাপট।
সে তুষারকে ডেকে একদিন ঝাড়ি দিতেই তুষারও চুপ।
দুইদিন কান্নাকাটি করার পর শান্তার এসএসসি পরীক্ষার সময় চলে
আসে, সে সব ভুলে পড়ালেখায় ব্যাস্ত হয়ে যায়।
31 December 2017
পালা সুন্দরী—শাহরিয়ার কাসেম
বড্ড অলস
কাটছে রাতুলের। সবে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে বেশ অবসর।
পড়াশুনার নেই খুব চাপ। বাবা—মাও বলে না
কোন কাজ করতে। উদাসী হয়ে রাত দিন পাড় করছে। যদিও রাতুলের অবাদে ঘোরাঘুরির খুব
অভ্যাস নেই তবুও ইদানিং বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে এখন রাত—বিরেতে রুটিন ছাড়া বাড়ি ফিরে। বকুল, জসিম, শুভ ও জয়নাল রাতুলের
খুব কাছের বন্ধু। তাঁরা রাতুলের মত এত ভাল ছাত্র নয়। তবে দুষ্টুমির জন্য রাতুলের
চেয়ে ঢের বেশি। ইদানিং তাঁদের সাথে বেশী সঙ্গ দেয়ায় রাতুলও বেশ দুষ্ট হয়ে উঠছে।
27 December 2017
কষ্টালজিক- সৌমিত্র চক্রবর্তী
রম্ভগোল। চিৎকারটা হাওয়ার দিকে ছুঁড়ে দিয়েই
লাফিয়ে উঠল আদিম আর্য। পতপত করে
সঙ্গত করলো অনিয়মিত দাড়ির জঙ্গল। এই ফাঁকা প্রান্তরে
তার নিজস্ব ডিকশনারির এই শব্দের ইনটারপ্রিট করার মতো কোনো হুলো নেই।
কংক্রিটানগর থেকে কতদিন হল পালিয়েছে সে? ৬ ৯ ০ ৪ সংখ্যাগুলো কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যায় এখন। অথচ অংকে সে নাকি বেশ ভালোই ছিল। এসব আর মনে রাখতে
পারেনা সে। হোকগে, ওসব মনে রেখে অন্তত তার যে কিছুই হবার নয় এটুকু বোঝে সে। কিছুই মনে রাখতে পারেনা। সাম্প্রতিক কোনো
ঘটনাই। ভুরু দুটো কুঁচকে যায়। কি যেন নাম
মেয়েটার? ভীষণ সুখী সুখী মুখ করে চিড়িয়াখানায় দেখা। বর নাকি পালিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। কদিন পরেই চিতপাত
এক মোটেলের বিছানায়। ফাঁকতালে ক্যামেরা,মোবাইল অনেক কিছুই গলে গেছে আঙুলের ফাঁকে। মেয়েটার স্বর্গ দরজার কাছে
একটা আঁচিল ছিল কি? লাল রঙের আঁচিলটা বড় হতে হতে আকাশে দপদপ
করতে থাকে। হা হা করে অনর্থক হেসে ওঠে জঙ্গুলে। কয়েকটা কুবো পাখী লাল কালো ডানা বার করে উড়ে যায়। উড়োজাহাজ … উড়োজাহাজ … লোকটা সেই ফেলে আসা
শৈশব ফিরে পায়। সে দৌড়ায়, মাঠ দৌড়ায়, চারপাশ দৌড়াতে থাকে।
শাল্লাহ! সেই কাফেটোরিয়া কোত্থেকে টুপ করে খসে পড়লো। বাঞ্চোত, আড়াইশো টাকা
পার কাপ ধক দিয়ে কুচ্ছিত কফি। ওয়াক থুঃ! বছরখানেক কফি দেখলেই ঘেন্না ধরে যেত। সেই
টানা একঘেয়ে সকাল থেকে রাত্রি, আর রাত্রি ফুস করেই ফের সকাল। বারো ঘন্টা, চোদ্দো
ঘন্টা কম্পিউটারে মুখ গুঁজে রগড়াও শালা যত ট্যাঁস কোম্পানীর রদ্দিমার্কা দস্তাবেজের
গর্ভশ্রাব। রাতে ঘুমের মধ্যেও বিড়বিড়। সন্ধের পরেই রোজ মাথার মধ্যে দশটনের
ডাম্পারের দাপাদাপি। কড়া ভোদকার গ্লাস নিয়ে অশোকার জঘন্য ভীড় গিলে বাড়ী ফিরতে
এগারো। ধুস শালা তোর চাকরির পোঁদে দু লাথ। লাথি মেরে একটা মোরামের খন্ডকে তিরিশ
ফুট দূরে পাঠালো সে। রম্ভগোওওওওল!
17 December 2017
অ-কথার স্তূপ- সাদিয়া সুলতানা
বুকের উত্তাপে রেখে দেওয়া সুখ-দুঃখের ফর্দখানা
উল্টেপাল্টে দেখে নিয়ে ওরা প্রত্যেকে এক একটা নতুন গল্প বলবে বলে ঠিক করে। তারা, মানিক,
মিতু, সবুজ আর তিতির। ওদের বয়স বাইশ-তেইশ বা এর চেয়ে মাস দু’য়েক কম বেশি। এই বয়সে গল্প
বা কল্পগল্প বলতে কাউকে ঠেলাঠেলি করতে হয় না। বরং কথার তোড় বন্ধ করতে মিনতি করা লাগে।
তবে হার্ড পয়েন্টের আজকের পরিবেশটাই অদ্ভুত। মায়াময়। এই মায়ার বিভ্রমে পড়লে কথা ফুরিয়ে
যায়। খুব জরুরি কথাগুলোও তখন বলা যায় না।
ইজিবাইক- সাব্বির জাদিদ
ছুটিপুরের নিস্তরঙ্গ জীবনে ইজিবাইকের যুক্ত হওয়া খুব বেশি পুরনো ঘটনা নয়। আমরা তখন কিশোর৷ এইট
পাশ করে নাইনে উঠিছে। পড়াশোনার বালাই নেই। সারাদিন ফুটবল খেলে বেড়াই। খেলার ফাঁক-ফোঁকরে কখনো যদি সুযোগ জোটে, পড়ি। না জুটলে পড়ি না। সে সময়কার গ্রামে পড়াশোনার তেমন চল নেই। প্রাইভেট-কোচিং আবিষ্কার হয়নি৷ বাবা-মারা সচেতন না। ছেলে রোজ সকালে গরম ভাত খেয়ে রাস্তায় কুলি ফেলতে ফেলতে বোগলে বই নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে—এই পড়াশোনাই তাদের কাছে অনেক। আমাদের কাছেও। হাতে অঢেল সময়। এতটা সময় তো আর ঘাম ঝরানো ফুটবল খেলে পার করা যায় না৷ সম্ভবও না৷ আমরা আনন্দ খুঁজে বেড়াই৷ যাকে নিয়ে মগ্ন থাকা যায়৷ কিন্তু সেকালের গ্রামের আর দশটা জিনিসের মতো আনন্দেরও বড় অভাব৷ এর ভেতর হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করি, আমাদের একমাত্র খোয়া বিছানো রাস্তায় ইজিবাইক৷ প্যাসেঞ্জার বোঝাই ধুলো উড়িয়ে বাজারের দিকে ছুটছে৷আনন্দে আমরা হই হই করে উঠি—এই জিনিস কোনে ছিল এ্যাদ্দিন!
30 November 2017
করণ দেবরায়
আজ হাতের সামনে যা পাব, তাই
নিয়েই ছুটে যাবো ৷ ঝ্যঁটা, খুন্তি, জুতো, ঢিল-পাথর-নুড়ি যা হোক ৷ আজ আর সহ্য
করতে পারছি না ৷ অজানা অচেনা এক আক্রোশ আমায় পেয়ে বসেছে ৷
আমি বাঙালি ৷ লোকের ভাষায়
"ভেতো বাঙালি" ৷ এই কি আমার পরিচয় ? শুধু এইটুকু ? ভাত, মাছ, শুক্তোর
বাইরে-ও তো একটা জগৎ আছে ৷ কিন্তু সেই জগতে, আমার অর্থ্যাৎ বাঙালির স্থান কোথায় ?
হাতে বাজারের থলি আর পায়ে অজন্তার চটি, এই ছবিই কি আমাদের আসল রূপ ?
25 September 2017
জুলিয়ান সিদ্দিকী
যৌবনে ছিলেন মক্ষীরানির
মতো। এখন বিগত যৌবনেও প্রায় তেমনই আছেন। চারপাশে শুভাকাঙ্ক্ষীর অভাব নেই। যেচে পড়ে
উপকার করবার মানুষেরও অভাব নেই। তারপরও এক ধরনের শূন্যতা অথবা অপরাধ-বোধ তাকে
কুরেকুরে খায়। রাতভর ঘুমুতে পারেন না। বিছানায় পড়ে এপাশ ওপাশ করেন শুধু। ওষুধ না
খেলে ভোরের দিকে দু ঘণ্টার ঘুমটাও ঘুমাতে পারেন না। চুল উঠতে উঠতে মাথায় প্রায় টাক
পড়ে যাচ্ছে। পরচুলা না পরে বাইরে বের হবার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।
একেক সময় একেক জায়গায় তার নাম হয় ভিন্ন ভিন্ন। সকালে এক নাম তো বিকেলে আরেক
নাম। কেবল দলের মানুষ ছাড়া তার নাম কেউ জানে না। অবশ্য সেটাও নকল। পিতৃদত্ত নামটা
কেবল তিনি নিজেই জানেন। আর তার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল অপরাধ-চক্র। অবৈধ
আয়ের এক অন্ধকার সাম্রাজ্য। যেখানে তার কথাই শেষ কথা। প্রতিবাদ করবার কেউ নেই। ভুল
করলে শুধরে দেবারও কেউ নেই।
মনোজিৎকুমার দাস
কয়েকদিন থেকে প্রীতম কারো
সাথেই যোগাযোগ রাখছে না। তার বন্ধুবান্ধবরা প্রীতমকে না পেয়ে কেমন যেন একটা শূন্যতার
মাঝে আছে। মৌ বুঝে উঠতে পারে না প্রীতমের নিরুদ্দেশের বিষয়টা। কলেজে আসছে না কয়েকদিন,
ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনটা বন্ধ রাখার কারণ কী হতে পারে! মৌ ভেবে পায় না। মৌ বেশ কদিন থেকেই প্রীতমের উড়নচণ্ডী ভাব লক্ষ করে চিন্তায় আছে। সে ভাবে, প্রীতম কি তার
জীবন থেকে হারিয়ে যাবে? কিন্তু সে তার নিজের মনের প্রশ্নের জবাব খুঁজে পায় না।
মৌ এর মনে একটা সন্দেহের কালো মেঘ ধাওয়া করে
ফিরছে। ভ্যালেনটাইন ডে’র বিকেলের কথা মনে পড়লে তার মনটা উদাসী হয়ে উঠে। ওই দিনের অনুষ্ঠানের
আয়োজনে তোড়জোড় কয়েকদিন আগ থেকেই চলছিল। অনুষ্ঠানটা কলেজ অডিটোরিয়ামে করার প্রস্তাব
দিয়েছিল প্রীতম, আর অন্যদিকে কলেজের ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি মামুনের ইচ্ছে কলেজের মাঠে
প্যান্ডেল তৈরি করে অনুষ্ঠান করার। ঢাকা শহরের নাম করা ডেকোরেটরের দিয়ে তাদের ফরমায়েশ
অনুযায়ী ভালবাসা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য কলেজ মাঠে প্যান্ডেল তৈরির কথা মামুন ব্যক্ত
করলে প্রীতম বলল,‘ এতে আমার সায় নেই। খোলামাঠে লোক সামলানো দায় হয়ে যাবে।
প্রীতম ছাত্র সংসদের কালচারাল সেক্রেটারি
হলেও তার কথায় কোন ঘাস জল খায় না। তার প্রস্তার কেউই সমর্থন করে না। নামেমাত্রই সে
কালচার সেক্রেটারি, এ কথা ভেবে প্রীতম কষ্ট পায়। তার ইচ্ছে হয় না কালচারাল অনুষ্ঠানে
যোগদান করতে, কিন্তু সে কালচারাল সেক্রেটারি তাই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা সম্ভব না। তার ঘনিষ্ঠ ছেলেমেয়েরা কেন তাকে পাত্তা দেয় না প্রীতম ভেবে পায় না।
20 September 2017
বনবীথি পাত্র
ঝলসানো
জীবন
অফিস না গেলেও কোথা থেকে যেন ঠিক কাজ এসে যায়। সব সেরে স্নান-খাওয়া
সেরে উঠতে উঠতে দেখা যায় , ঘড়ির কাঁটা দুটো ছাড়িয়ে আড়াইটার দিকে ছুটছে। আজকেও ঠিক তেমনটাই
হলো। অথচ নিজের লেখালিখির কিছু জরুরী কাজ সারতে হবে বলে অফিসটা কামাই করলো। আজ সন্ধ্যেবেলা
টাউনহলে নারী দিবস উপলক্ষ্যে এক বিশাল অনুষ্ঠান হবে। উঠতি লেখক হিসাবে সেখানে আমন্ত্রণ
আছে নবারুণের। কত বড়ো বড়ো কবি-সাহিত্যিক আসবেন সেখানে, সেখানে যাওয়ার আগে একটু প্রস্তুতি
তো লাগবে। একচিমটি ভাজা মশলা মুখে নিয়ে চিবতে চিবতে ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে লেখার টেবিলে
এসে বসে নবারুণ। পাশের ঘরে মেয়েটাকে নিয়ে পড়াতে বসেছে ঈশানী। দরজাটা না ভেজিয়ে দিলে
মা-মেয়ের চিৎকারে নবারুণের ভাবনার দফারফা হয়ে যাবে।
মুহাম্মাদ সানি
বেশ কিছুক্ষণ ধরেই শুক্রাবাদ পার্কে বসে আছি! নাদিয়া আসতে বলেছে।
জরুরী তলব। কিছু একটা বলবে হয়তো! ফোনে বললো, 'খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা, সামনাসামনি
বলতে হবে!'
কিছুটা বুঝতে পারছি, সে কী বলতে চায়। তাই আমি একটু আগেভাগেই এসে বসে আছি!
অবশ্য নাদিয়া ডাকলে আমিই আগে আসি। কারন আপাতত আমার কোনো কাজবাজ নেই! আমি আগে আসি
আর নাদিয়া পরে এসে দেরী করার কারন বর্ণনা করে। যদিও আমি কখনোই কোনো কারন জানতে চাই
না!
তিনমাস আগে এক শপিংমলে নাদিয়ার সাথে আমার সিনেমেটিক পরিচয় হয়েছে!
আসলে পরিচয়ের পর থেকে সবকিছু যেন সিনেমেটিক ভাবেই চলছে! প্রথমে শপিংমলে অপ্রস্তুত
ভাবে হাঁটার সময় নাদিয়ার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেছিলাম! প্রচুর মানুষ ছিলো সেখানে,
ভরা মজলিসে ওভাবে পড়ে যাওয়া আসলেই লজ্জাজনক ছিলো! আমারচে' নাদিয়ার দোষটাই বেশি
ছিলো, তাই হয়তো ও সে নিজেও অনেক লজ্জা পেয়েছিলো! এবং সেদিন তার লজ্জারাঙ্গা-মুখ
সত্যিই দেখার মত ছিলো!
22 August 2017
সাদিয়া সুলতানা
প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় ধরে প্রদীপ কুমার সাহা বড় রাস্তার মোড়ে বুড়ো বটের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এবার খুব অসহায় লাগছে তার। গাছের নিচে কিংবা আশেপাশের টঙে দাঁড়িয়ে বা বসে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বসে স্বস্তি না পেলে দাঁড়াচ্ছেন। দাঁড়াতে স্বস্তি না পেলে বসছেন। দুই পায়ের হাঁটু বারবার ভাঁজ করা আর সোজা করা এই বয়সে তার জন্য খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মাঝে মাঝে অবশ্য তিনি দুই হাত দুপাশে ছড়িয়ে দিয়ে গাছের মতো শরীরের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছেন। এই বিষয়টাতে খুব ছেলেমানুষি অনুভূতি হচ্ছে তার। ডালপালার মতো দু’হাত ছড়িয়ে দিলে বেশ গাছ গাছ লাগছে নিজেকে
Subscribe to:
Posts (Atom)


















