Showing posts with label সেলিম রেজা. Show all posts
Showing posts with label সেলিম রেজা. Show all posts

03 January 2018

একগুচ্ছ কবিতা —সেলিম রেজা




[ কবি সেলিম রেজা এই সময়ের একজন  প্রতিশ্রুতিশীল কবি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সাহিত্য সাধনা করে আসছেন, লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সম্পাদনাও করেন ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাহিত্য কাগজ তিনি সম্পাদনা করেছেন। কবি’র জন্মদিনে সংবেদ্য’র পক্ষ থেকে রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং প্রকাশিত হলো  কবি’র লেখা একগুচ্ছ কবিতা]



কী হবে আর বেঁচে!
কী হবে আর বেঁচে!
তুমিই যদি হারাও নিকষ অন্ধকারে;
চোখের আড়াল হবেই যখন
এত্ত স্মৃতি কেনই বা দিলে ?
পরাজয় একদম মানায় না তোমাকে
জানি দুঃখ পুষে রাখো অহোরাত্রি
নিঝুম রাতে জেগে থাকো একা একা
নিভৃতে খুলে বসো কথার পুরান সিন্দুক
মনে হয় ভুলে আছো মিলনের ঠিকানা
প্রথম যেদিন চোখাচোখি ছুটির শেষ প্রহরে
জিজ্ঞেস করলে—দেখছেন কী!
তদুত্তরে বললাম কাজল কালো স্বপ্নিল দু’চোখ
কী হবে আর বেঁচে!
যদি টের না পাও আমার উপস্থিতি
বুঝতে না পার জীবন বৃক্ষের শেকড় আমি
এত্ত ভালোবাসা কেনই বা বাসলে ?


22 August 2017

সেলিম রেজা



কেউ নেই, কেউ তো আছে
হেঁটে হেঁটে দীর্ঘ পথের সীমানা পেরিয়ে
সারাটা দুপুর কুড়ায় কষ্টের বকুল
কেউ নেই, শোনে না কেউ ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি
কেউ নেই, কেউ নেয় না টেনে বুকে
কেউ নেই, কেউ হাসে না পরম সুখে
কেউ নেই, কেউ একবার দেয় না ছুঁয়ে
কেউ নেই, কেউ লজ্জায় পড়ে না নুয়ে
কেউ নেই, কেউ দেয় না মুছে কপালের নুন ঘাম
কেউ নেই, কেউ জড়ায় না স্বপ্ন সবুজ আঁচলে
বছরের পর বছর গেল, বয়সের ভারে নুব্জ্য
একলা মানুষ চলে না আর;
বাড়ে দীর্ঘশ্বাস বিষ বিষাদে মুখ থুবড়ে পড়ে
শেকড় ছড়িয়ে শিখরে, ঘন সবুজপাতার বৃক্ষ
উড়ে এসে বসে পাখি, কথা হয় পাখিদের সাথে
হাওয়ায় দুলে ঘাসফুল মুঠোভর্তি স্বপ্নও
আচমকা কড়া নাড়ে সদর দরজায়
কেউ নেই, হয়তোবা আছে কেউ
কেউ তো আছে বাড়াবে হাত,
কেউ তো আছে
এগিয়ে দেবে নির্ভরতার কাঁধ…

08 October 2016

সেলিম রেজা




দহন তৃষ্ণায় তৃষ্ণিত প্রাণ
ওয়েটিং লবিতে আছো বসে সাথে ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ
দহন তৃষ্ণায় পারোনি ঘুমাতে বিলাসবহুল হোটেলে
এপাশ ওপাশ করেই কাটালে নির্ঘুম সারাটা রাত;
নির্জন স্ট্রীটে হাঁটছি নিজের কাছে নিজেই অচেনা
ভাবনার আকাশে মেঘ হলদে সব ফুলগুলো আধমরা
ভাবলেশহীন এতটা পথ হেঁটে হেঁটে পেরিয়ে যেন
তৃষ্ণার্ত পাঁপড়ির খুঁজে বনমালিও আজ শূন্য ছায়ায়
ঝিলের ঠিক কাছাকাছি আদিগন্ত মাঠে সবুজ স্নান
মনোমন্থনে সুন্দরের পূজারী ফিরে তাকায় রূপসান্নিধ্য
ভালোবাসার নিকানো উঠোনে লজ্জাবতী ঘোমটা টানে
খরস্রোতা নদীর মোহনায় জোয়ার ভাটার সন্ধিক্ষণে
 তৃষ্ণা জাগায় কামকেলি উত্তাপে পুড়ে হাত-স্বপ্ন-সাধ
কেন বুঝো না! দহন তৃষ্ণায় আমিও যে পারিনি ঘুমাতে... 





পুড়ে যাওয়া ক্ষত, মুছে যাওয়া দাগ
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুষে নাও অমৃত
নির্ভরতার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাও
হাতে হাত রেখে পাড়ি দাও সুউচ্চ চূড়া
ষোল আর ষাটে কী আসে যায়!
ইচ্ছে হলেই সাঁতার সাঁতার খেলায় মত্ত
আকাশ ছোঁয়ার অদম্য বাসনায় জাগো
বয়সে কী আসে যায় এমন
যুদ্ধ মাঠে পরাজয় মানতে কে রাজী !
অনভ্যস্ত বালির পথে ফেলে যাওয়া
স্বপ্ন ঘুড়ির নাটাই
চৌরঙ্গি মাঠে প্রেমিকযুগল চুমু খায়
ছুঁয়ে দেয় চিবুক
খোলা রাস্তার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে টিনেজ সময়
রোদে ভিজে পান করে ওয়াটার মম
দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে পুষ্টিহীনতায় ভোগে চোখ
আয়না জলে দেখে নিষ্পাপ মুখ
ঢের আছে দেখা ঝরাপাতায় আগুন
পুড়ে যাওয়া ক্ষত, মুছে যাওয়া দাগ;
বেঁচে থাকার দীর্ঘ আয়ু ফিরে পায় স্বপ্ন বালক
নুব্জ্য সময় বয়সের ভারেও উড়ে কপোতীর পালক...



01 January 2016

সেলিম রেজা



স্বপ্ন পিপাসায় অসহ্য সুন্দর একটি চেহারা
অসহ্য সুন্দর তৃষ্ণার্ত একটি চেহারা শুয়ে আছে বিছানায়
খুব ইচ্ছে একবার ছুঁয়ে দেয় বাঁ কিংবা ডান হাতে
স্মৃতি জাগানিয়া নৈঃশব্দে করে লুকোচুরি
অদম্য এক তৃষ্ণা গা ভাসায় সমুদ্র শরীরে
ইচ্ছেঘুড়ি ডানা মেলে নীলাকাশের পানে
স্বপ্ন উড়াল দেয় আদিগন্ত সীমানা পেরিয়ে
বয়সের পাথর সরিয়ে হাঁটে বেহিসেবি যুবক
বিস্তৃত পথে গন্তব্য একটাই ভালোবাসার নিকোনো উঠোন
আর এক সমুদ্দুর স্বপ্ন পিপাসায় চুমু খায় পৃথিবীর গালে...




কেউ নেই, কেউ তো আছে
হেঁটে হেঁটে দীর্ঘ পথের সীমানা পেরিয়ে
সারাটা দুপুর কুড়ায় কষ্টের বকুল
কেউ নেই, শোনে না কেউ ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি
কেউ নেই, কেউ নেয় না টেনে বুকে
কেউ নেই, কেউ হাসে না পরম সুখে
কেউ নেই, কেউ একবার দেয় না ছুঁয়ে
কেউ নেই, কেউ লজ্জায় পড়ে না নুয়ে
কেউ নেই, কেউ দেয় না মুছে কপালের নুনঘাম
কেউ নেই, কেউ জড়ায় না স্বপ্ন সবুজ আঁচলে
বছরের পর বছর গেল, বয়সের ভারে নুব্জ্য
একলা মানুষ চলে না আর;
বাড়ে দীর্ঘশ্বাস বিষ বিষাদে মুখ থুবড়ে পড়ে
শেকড় ছড়িয়ে শিখরে, ঘন সবুজপাড়ার বৃক্ষ
উড়ে এসে বসে পাখি, কথা হয় পাখিদের সাথে
হাওয়ায় দুলে ঘাসফুল মুঠোভর্তি স্বপ্নও
আচমকা কড়া নাড়ে সদর দরজায়
কেউ নেই, হয়তোবা আছে কেউ
কেউ তো আছে বাড়াবে হাত,
কেউ তো আছে
এগিয়ে দেবে নির্ভরতার কাঁধ।