Showing posts with label মুক্ত সংলাপ. Show all posts
Showing posts with label মুক্ত সংলাপ. Show all posts

07 March 2016

রূপকথা রুবি




-বল, পানি নাকি জল?
-সেই কাল রাত থেকে এতবার ফোনকল, ফুটপাতে চায়ের দোকানে বসিয়ে এ কেমন ছল? কি বলবি বল
-নাহ্, এখানে বড্ড কোলাহল
। ওদিকটা বেশ ফাঁকা, ওদিকেই গিয়ে বসি চল।
-কি এমন কথা, যার জন্যে প্রয়োজন এত নিরবতা?
-কিভাবে বলি, যদি পাস ব্যথা
-উহ্!
-তবে এত করে ডাকলি কেন? এ অসহ্য যন্ত্রণা
-তাহলে বলি, তোকে আমি ভালবাসি না!
-হাহাহাহ, এ আর নতুন কি! সবই যে আমার জানা
-আরে বাহ্, এত সিরিয়াস একটা কথা বললাম তুই আমলেই নিলি না!
-না নিলাম না
-তোর সাথে আর পারি না
-আমি কি পারতে বলেছি?
-আরে আমিই বা কবে হারজিত খেলা খেলেছি!
-আমার কথা তুই বিশ্বাস করলি না তো! কি জানিস শুনবো বল
-ঐ যে, এক বিকেল কথা না হলে সন্ধ্যের পরে মুঠোফোনে কল, সারারাত থাকিস ভীষণ চঞ্চল, একটার পর একটা ক্ষুদেবার্তার ঝড়। ওই ওই রে, এই এই রে ফোনটা ধর আজ রাতে না হয় ঘুমটাকে দিয়ে দে কবর, তোর মুখ না দেখে সারাটা দিন কেমন গেলো একবারও জানতে চাইলি না কেমন আছি, তুই নিলি না খবর

-না পরলাম না রে
-কি পারলি না রে?
-তোকে দুঃখ দিতে।



সাবরিনা সিরাজি তিতির




-হ্যালো, শুনছো তুমি? শোন,আমি এখুনি আমি বারান্দায় আসছি, তুমি জলদি এসো; তোমায় দেখবো আমি! এক্ষুনি এসো।
-জলদি তো আসা যাবে না
।
-কেন? বললেই হলো...আমি চাইছি তোমাকে, এসো না প্লিজ!
 
-তুমি বারান্দায় এলে যে বড্ড বিপদ, আমাকে সে বিপদ মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে যে
।
-মানে কি? কি বল ওলটপালট! কিসের বিপদ!
 
...
-তোমায় দেখলে আকাশ যে লজ্জা পাবে, মেঘেরা এলোমেলো ছুটোছুটি বাদ দিয়ে ভ্রু কুচকে তাকাবে! আর যদি আকাশে সূর্য থাকে তাহলে তো রক্ষা নেই!
-আরে! আরে সেটা আবার কেমন? বলো না একটু আমায়।
 
-মনে করো তুমি বারান্দায় এলে অবধারিত ভাবে কপালে লাল টিপ! সূর্য মেনে নেবে ভেবেছো!
-যাহ্‌  তুমি না! খুব মন ভোলানো হচ্ছে ন ? এতো কথা কে শিখিয়েছে শুনি?
-কে আর শেখাবে? যেদিন তোমার কাজল দেখেছি সেদিন থেকে আমার রাত ফুরচ্ছে না! তোমার চুড়ির শব্দে ওই যে স্বপ্ন ভাঙ্গলো! কতবার চেষ্টা করেছি স্বপ্নরা ফিরে আসেনা, তোমার আঁচলে মুখ লুকোবার পর থেকেই আমি যেন বাঘবন্দির ছকে আটক
-তোমার মাথা গেছে! কিসব বলছ জানো কি! কবি হয়ে যাচ্ছ মনে হচ্ছে! আগেই বলে রাখি,কবিদের আমার এতোটুকু ভালো লাগে না, সারাক্ষণ কিসব ছাইপাঁশ লেখে।
-কবি বেচারা'রা আবার কি দোষ করলো? আমায় একটিবার বলো তো?  আমি দুনিয়ার সকল কবিতা ফুঁ দিয়ে জোনাকি করে দেই। তারপর জোনাকিরা মিলে পথ দেখিয়ে আমার রাজকন্যা কে আমার ভাঙ্গাঘরে নিয়ে আসবে।
-তুমি এমন করে কেন বলো? আমার বড্ড ভয় হয়!
-কি ভয়? আমি কবি হয়ে যাচ্ছি! শোন মেয়ে, আমি শুধু তোমার জন্যই কবি হবো। আমার কবিতায় পরতে পরতে থাকবে শুধু তোমার নিঃশ্বাস! তুমি হাসলে আমি ভালোবাসার কবিতা লিখবো। তুমি মন খারাপ করলেই কবিতা হয়ে যাবে জল। জলের বুকে বিরহ মাছেরা অবারিত সাঁতার কাটবে।
-বাহ! বেশ হবে তো? সব আমাকে কবিতায় বন্দি করবে। আমি নাহয় তোমার কবিতার শব্দে শব্দে প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াবো। আচ্ছা যদি আমি অভিমান করি? তা নিয়েও কি লিখবে তুমি?
 
-তোমার অভিমানে আমার কবিতারা বরষা হবে। সারি সারি কদম বুনে গড়ে উঠবে মহাকাব্য। আমি এমন কবি হবো!
-কবি, তুমি এমন ভালবাসবে তো? এমন কাছে থাকবে তো? শুধু আমার কবি হয়ে এমন কবিতায় ভুবন ভরাবে তো?
 
-সে কথা দিতে পারিনা! তবে জেনে নাও, তোমার ছায়া হবার ইচ্ছে নিয়ে আমি জন্মেছি; ছায়া না হতে পারলেও অন্তত তোমার জন্য একটা দুর্বল ঘাস ফুল হবো! সেই ঘাস ফুল তুমি চোখে মেখে নিও, আমার এটুকুই চাওয়া!
- তোমার এতো অল্পে মন ভরে কবি। আমার কিন্তু তোমার কাছে অনেক চাই। সাত রাজ্যের বায়নার লিস্টি আছে আমার মুঠোয়।
-কি কি চাই এই দরিদ্রের কাছে?
-তোমার সবটা চাই। সব টুকু! কাউকে একফোঁটাও দেবে না, তুমি শুধু আমার হবে। শুধুই আমার জন্য লিখবে, কথা দাও? আমার আয়না হবে তুমি। আমার কবি আমার আয়না! সে আয়নায় আমার আমি।
-হ্যাঁ আমি তাই হবো। তোমার কবি, তোমার আয়না! কি মহারানী, এবার খুশি তো?
 
-হুম খুশি! খুশি! খুশি! আমি আজ বড্ড খুশি! মহারানীর রাজামশাই, এখন আপনি জলদি চলে আসেন তো? আমি আজ নীল শাড়ি পড়বো! তুমি একটা সাদা পাঞ্জাবী পরো। শরতের আকাশ নামিয়ে আনবো আমাদের আয়নায়।
-এই রে,  সর্বনাশ! আমার মাথায় যদি আকাশ ভেঙে পড়বে, তার কি হবে?
-পড়ুক! আমাকে দেখে যদি আকাশের এই দুর্দশা হয় হোক। আমি দেখতে চাই আমাকে দেখে তুমি কি করো,
-আমি আর কি করবো, খুব বেশি হলে কবি হয়ে যাবো।