Showing posts with label জয়তী অধিকারী. Show all posts
Showing posts with label জয়তী অধিকারী. Show all posts

22 August 2017

জয়তী অধিকারী




মৃত্যুর গন্ধ বোধহয় রজনীগন্ধার মত,
নাকি মর্গের মত?
            ...অথবা দুটোই।
কখনও কখনও রজনীগন্ধার সাথে ধূপের গন্ধ
গা ঘষাঘষি করে একে অন্যের মধ্যে বিলীন...
মনে করিয়ে দেয় প্রিয়জনের চলে যাওয়া।
ক্রমশ আরও অনেক গন্ধ এসে মেশে
একে একে,
মাংস আর কাঠ পোড়ার গন্ধ
চুলপোড়ারগন্ধ
চামড়া পোড়ার গন্ধ
গঙ্গার জলের গন্ধ
এক ফাঁকে ভেজা কাঠ থেকে বেরনো ধোঁয়ার সাথে মিশে যায়
গরম সিঙ্গারার গন্ধ।

14 August 2016

জয়তী অধিকারী



অজয়ের বুকে চিকচিক করে ওঠে
পূর্ণিমার অসম্পূর্ণ রাত্রিযাপন
বালির বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা আবেগের
শেষ ঠিকানা হোক
তোরই ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপ।

এই একই চাঁদের আলোয় আজ তুইও হয়ত
ভরে নিচ্ছিস তোর অবদমিত আকাংক্ষা,
হয়ত অন্য কারুর কপাল আর গাল বেয়ে নেমে আসা তোর ঠোঁট
খুঁজে নিচ্ছে নতুন কোন জ'লাইন।
গরম নি:শ্বাস ফেলতে ফেলতে
ক্রমশ কানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়
তোর কি একবারও মনে পড়বে,
ঠিক এভাবেই তুই কাউকে বলতিস,
“I just love your jaw-line”...

03 March 2016

জয়তী অধিকারী


জীবনের কথাকলি
গত সপ্তাহের দিনগুলো কেমন রঙিন বেলুনের মত হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল সকাল থেকে সন্ধ্যে। রাতের আঁধারে তারা কোথায় মুখ লুকিয়েছিল সে খোঁজ নিতে ইচ্ছে করেনি একবারও। ইচ্ছে করেনি কোন বইয়ের পাতার ভাঁজে মুখ গুঁজে দিতে। ইচ্ছেরাও হয়ত দল বেঁধে উড়াল দিয়েছিল ওই রঙিন বেলুনগুলোর সাথে পাল্লা দিতে। তাই ঘরের কোণে বসে ঘড়ির টিক-টক শুনতে শুনতেই ভারী হয়ে আসে নিঃশ্বাস। সামনে খুলে রাখা ল্যাপটপের কীবোর্ডে একাকী আনমনে আঙুল ছুঁইয়ে বসে থাকার মধ্যে আলস্যটাই শতকরা আশি ভাগ। আর বাকীটা মন কেমনের গোলকধাঁধায় ঘুরে মরা। কি লিখব, কেন লিখব, কার জন্যে লিখব...ভাবতে ভাবতেই টেনে নিই কাগজ-কলম। মাঝে মাঝেই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ছোটবেলায়...খাতায়-কলমে...সাদায়-কালোয়।

কিন্তু ওই যে বলে না, ‘অনভ্যাসের ফোঁটায় কপাল চড়চড় করে’। প্রযুক্তি এসে কেড়ে নিয়েছে ঝর্ণা কলম, শুষে নিয়েছে সুলেখা কালি... দিয়েছে অনুভূতিহীন যান্ত্রিক যাপন। তবু আজ ইচ্ছে হল সাদা পাতার বুকে কিছু আঁকিবুঁকি করার। কলম চলুক আপন খুশীতে। তার তো কাউকে জবাবদিহি করার দায় নেই!
সাদা পাতাটা বেশ কয়েক ঘন্টা একইভাবে পড়ে আছে টেবিলের উপর। একবার আঙুল ছুঁয়ে তার ধুকপুকুনি অনুভব করার চেষ্টা করি। কেমন পরম নিশ্চিন্তে ঘুমন্ত মানুষের মত পড়ে আছে শক্ত কাঠের বুকে। তার বুকে কলমের আঁচড় কাটার ইচ্ছেও করছে না। ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অবাধ্য হয়ে উঠছে! আসলে ওরাও বোধহয় পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলীর নিরন্তর লজ্জাহীনতায় মুখ লুকোতে চাইছে। মনের মধ্যে এত হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ বয়ে নিয়ে মানুষ বাঁচে কি করে! ঘুমোয় কি করে! প্রেম করে কি করে! সন্তানের মাথায় স্নেহের হাত রাখে কি করে! অজস্র প্রশ্নের ভীড়ে পায়ে পায়ে পিছিয়ে যেতে থাকি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে।

“অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাব আশীর্বাদ, তারপর হব ইতিহাস"।

ধীরে ধীরে নামিয়ে রাখি কলম।


শীতের রুক্ষতায় ঢাকা পড়ে যায়
শিরার উপর ব্লেডের আদুরে জলছবি,
মেহগিনির ডালে রিক্ততা নামে
নগ্ন দু’বাহু আকাশ ছুঁতে চায়।

01 January 2016

জয়তী অধিকারী




যে চারজন একদিন তাড়া করেছিল সদ্য কলেজে পা রাখা মেয়েটিকে,
তাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ফেলেছিল গঙ্গার ধারে,
জ্যোৎস্না আর কাদায় মাখামাখি মেয়েটার ওড়না ছিঁড়েই হয়ত মুছে নিয়েছিল দৃপ্ত পৌরুষ!
একের পর এক জ্বলন্ত কাঠের ছোঁয়ায় একটু একটু করে পুড়েছিল মেয়েটা।
 নদীর জল তার যন্ত্রণা প্রশমিত করতে পারেনি,
নদীর পাড়ের গাছেরাও স্থাণু চেয়ে থেকেছে অসহায়, আকাশ তার চাদর হতে পারেনি,
শুধু একটি মুনিয়া পাখি ঠোঁটে করে একটা সবুজ পাতা এনে ঢেকে দিয়ে গেছে ভবিষ্যৎ জননীর গোপন অঙ্গ।
বিচারকের হাতে থাক কলম, আইন বেঁচে থাক তার ফাঁক নিয়ে।
নির্যাতিতার যোনি কি আইনের ফাঁকের চেয়েও সেলাই-অযোগ্য?

আবিষ্কার হোক সেই সেলাই মেশিন যা ছিন্ন ভিন্ন যোনিকেও রিফু করে ফিরিয়ে দিতে পারবে পূর্বাবস্থায়!