Showing posts with label ফারহানা সুমি. Show all posts
Showing posts with label ফারহানা সুমি. Show all posts

25 January 2017

ফারহানা সুমী




চিঠি

আজকাল আমার রুমের কথা কথা খুব মনে পড়ে।
মা, আগের মত আছে তো সব ? দেয়ালের রং কি পালটে দিয়েছো? সবুজ রঙের ওয়াল পকেট, দু'একটা ফুলের টব ছিল দরজার দু'পাশে ফেলে দিয়েছো মা?
বুক শেলফটা কি আগের জায়গায় আছে এখনো? জানালার পর্দাটা?
রাত হলে যখন তোমরা ঘুমিয়ে যেতে আমার চোখের অর্ধেক রাত সেখানেই ফুরিয়ে যেত।পাশে দু'একটা বিল্ডিংয়ের কথা আমার খুব মনে পড়ে। মাঝে রাস্তা, শুয়ে থাকা শরীরে ছাঁয়া হয়ে হেঁটে যেত রিক্সা চালক। কিছু বড় গাড়ি ওয়ালা ভদ্রমানুষ। আমি জানালার পাশে দাড়িয়ে দেখতাম রাস্তার লাইট গুলোর অসুখ।

05 July 2016

ফারহানা সুমী





জানতে ইচ্ছে করে আপনি কি দুঃখী হোন ট্রোমিজি?
যখন বৃষ্টির বারান্দায় ছুঁয়ে থাকে চোখের খরচ
অনবরত জলের কুচির জুয়ায় হেঁটে বেড়ায় বরফ ছায়াপথ
ভেজা ইটের পাশে পুরোনো লিখাহীন পৃষ্ঠা পড়ে থাকে।
খোঁজেন কখনো আপনার কবি স্বামীর চসমাতেও
হরেক পৃষ্ঠার ঘুমস বিকেল হয়ে শুয়ে থাকে জলের মুদ্রিত ঘ্রাণ,
বিশেষ করে বর্ষাকালীন,
ভেজা কাকের শরীর হয়ে যখন
পৃষ্ঠায় কবিতার বাসরে সে বলে ওঠে-
তার মনোযোগী এক প্রেমিকা প্রয়োজন বর্ষার কন্ঠ শোনার।

শুনতে ইচ্ছে হয় ট্রোমিজি, স্বামী বা অন্য কারো কন্ঠে?
উড়ন্ত শব্দের মেঘাত্যয় ঘুরে হিম আবাদে যখন
আপনি সিসেলিস দ্বীপের কথা ভাবেন।
কিংবা বিউটি বোডিং আয়নার সামনে-
বসে ভাবেন আপনার কাটা চুলের মুষ্টিমেয় শুভ্রতায়
যদি গাঁথা যেত ফুলের রাসলীলার উৎসব সৌখিনতা...
পাশে স্বামীর কন্ঠে রোমান্স বা দুঃখী কোনো কবিতার কন্ঠালাপ
থাইগ্লাসের ওপাশে গিটারের বৃষ্টি মাতন
কর্নের সত্তম চূড়ায়,কতকাল শুনেন নি ট্রোমিজি?
পরিপাটি বিছানা...

শুনেছি আপনি পরিপাটি বিছানা রাখতে ভালোবাসেন খুব
কিন্ত কি জানেন ট্রোমিজি, আমার মত আপনার কবি স্বামীও
ভালোবাসেন অগোছালো কাভারের সরলতার রঙির খেলা।
গুঁজে থাকা বালিশের ছেলেমানুষি
গতরাত্রির সরে যাওয়া মাতন যা ছিল একান্ত আপনাকে নিয়ে।
আপনি ঠিক জানেন না ট্রোমিজি, অগোছালোর মাঝে
একটি অমায়িক আদর লেগে থাকে প্রেমে পরার মত
যেমন আপনার ঘুমন্ত সকালের রুক্ষ চুল,
ললাটে নেমে আসা ঢেউ খেলা দু’একটি আঁধার।
কানের কাছ থেকে সরে গাল ছুঁই ছুঁই সরল আচরন।

আর আপনার পুরোনো ব্রা,
অগোছালো হয়ে ঝুলে আছে বারান্দার অচল কোনে-
সেখানে আপনার ঘ্রাণ লেগে আছে পুরোনো-
পারফিউমের মত.... ট্রোমিজি
আমি রোজ দেখি আপনার স্বামীর হাতে, সেই
অগোছালো ব্রা, আপনার পুরোনো চিরনি,
তিনি হয়ত রোজ খোঁজেন পূর্বের অগোছালো আপনাকে...
বর্ষার কবিতার ছলে সেই পুরোনো
জানতে ইচ্ছে করে পুরোনো আপনি কেমন ছিলেন?
এমনি পরিপাটি!
সর্বত্র সরল অগোছালো,

কেমন ছিলেন ট্রোমিজি আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,
বর্ষার মাতোয়ারায় আপনি কি দুঃখী হোন?
দুঃখী হলে বৃষ্টিতে ভেজেন কখনো?
ট্রোমিজি...
আপনাদের গ্রীস দেবীরা কেমন করে বৃষ্টিতে ভিজে
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে....

03 March 2016

ফারহানা সুমী


এক পকেট বসন্ত

অচল মনে বসন্ত মেখো আজ সুরঞ্জনা
আকাশ ছিদ্র করে কল্পনায় উড়া-
উড়ি;ছাদের ফুলদানিতে খসে পড়া
সুগন্ধির খরগোশ,ছুটোছুটিতে শুনে নিও
বসন্ত ফুলের নগরীতে মাটি ছূঁই ছুঁই সুর
পিঁপড়ের প্রেমিকার খোঁপায় ভূবন সুখ;
দোলনার নাভিতে শেষ বিকেলের সুড়সুড়ি

দেখো খস খস বাতাসে পাশের
গাছগুলোর মডেল ঢেউ,

বলছে- বসন্ত এসে গেছে, বসন্ত এসে গেছে
বসন্তের যৌথ সুখে অপচয় সময়ও তুলে ধরে অধর।

খুঁজে নেয় ইঙ্গিতে দু'এক পাখির পদযুগ
কত যে পা ছাড়ে ওরা ওই দিবানের পথে...
নির্লজ্জ পায়ের ব্যাখ্যা দ্যাখো না সুরঞ্জনা।
দেখো এক পকেট বসন্তের পা,
আঙুলে কেমন ইচ্ছে উড়ান
বলে যাচ্ছে - আজ বসন্ত বেলা...
ঋতুর চোখ এঁকে দিচ্ছে স্বাধীন পায়ের সক্ষমতা।
সাজ ঝরাপাতা হেলান দিয়ে বসছে উড়াল সম্মুখে
পাশে আমি...
পায়ে বসন্ত নুপূরে তুমিও এসো সাদামাটা শাড়ীতে

বসন্ত ঠোঁটের না হয় একটি চুমু এঁকে দিবো।

01 January 2016

ফারহানা সুমি




বড় আশা করে এসেছি এই বেলা ঠোঁটে নিয়ে সখা,
করেছি বিয়োগ দখিনা চোখের বৈঠা উঠোন।
ভুলেছি মুখস্থ ফুলের ঘ্রাণে জমাট বাঁধা কত কথা...
যা বেঁধেছিল পথচারী শত ঠোঁটের দল ছবিরা।
পেতেছি পিঠ কত যুবকের ঘরদোরে বুকে নিতে তোমার
শুভ্র খোলা মাঠ বড় আশা করে সখা,
এসেছি দ্বারে দিতে অধিকারের স্বপ্ন ঝিনুক বিছিয়ে দেখো নিঝুম অবসর আমার হাতে তোমার হাত
তোমার নামে আমার নিঃশ্বাসের তৃণলতা
বেড়ে উঠুক মূহুর্তের জমা কবিতায় তোমার চোখে আমার চোখের বাহানা।
অন্যসব ধূলো হয়ে পড়ে থাক পেছনে ফেলা ছেঁড়া কাগজের মত সখা ভেবো না নিন্দুকেরা কিছু বললো কিনা,ভেবো না অভিশাপের মন্ত্র যপে ফুলের বিছানায় বিষণ্নতা আঁকল কিনা প্রজাপতিরা। পারলে চেয়ে নিও ক্ষমা যে ঠোঁট থেকে নিয়েছো সুখের বিলাসীতা।

যে চোখ থেকে ধার করেছো সরল বিকেলের কথা।
রাতদুপুরে যার কণ্ঠস্বরে দখল নিয়ে শুনতে চেয়েছো জয়ত্রী শুধু একবার...
বুকে হাত রেখে-
কমল তুলি মেখে নিঃশ্বাসে...আরো একটু কাছে এসে কানের গুহায়,ঠোঁট রেখে বলো...
হেমন্তের মায়াময় নিঝুম পত্র ছুঁয়ে যে বলেছিল - ভীষণ ভালোবাসি আমার ডুমুরের ডুবডুবি।
শুয়ে থাকা স্বপ্নের হলুদ চঞ্চলতাও সাক্ষী ছিল আবিষ্কার করেছো তার নিঃশ্বাসের বসত ভিটে।
চুলের ঘ্রাণে শুঁকেছো বর্ষাকাল,
কালোর খেলায় মেতেছো চোখের চঞ্চু ভরে মেঘ গুজনে আর তনুশ্রীর...
যদি ভুলে থাকো সখা তার দেয়া শরৎ অবেলার-শত স্বাধীনতা.....উড়িয়েছো যা ঝরাপাতার বুক পকেট ভরে...
তবে ক্ষমা চেয়ে ফিরে এসো শেষ নমস্কারে, তারপর ডাকনাম.... উপহার দেবো তোমায়
নেবো বিশ্বাসের দখল বড় আশা করে...