Showing posts with label রত্নদীপা দে ঘোষ. Show all posts
Showing posts with label রত্নদীপা দে ঘোষ. Show all posts

12 April 2018

আয়না- রত্নদীপা দে ঘোষ



১
ততবার বেসেছি। অই যে মাদক-রসিলা।
নেশার তছবিরদানা। সম্মোহন দলা পাকিয়ে।
গলার কাছে উঠে আসা। এবাদতের কিংশুক। বারবার  ইচ্ছে করে।
নিরানব্বইভাগ অন্যকোণে। তারে চাই। রা-কাড়া ইশারা ইংগিত। ইচ্ছা করে।
ভিক্ষাদাত্রীর পায়ে দেড় বছরের বৃত্ত কাটতে কাটতে। আয়তকারে কাঁদি।
দীক্ষা নিই খুকুতারা। নীহারিকা খোয়ানো পরশ।
শোনো তুমি। চাই তোমাকে। এই শরীরে । নবাগত আদরের সাড়ে তিন হাত কায়দা।
সুদর্শন গুম্ফাটি। ক্ষিপ্রপাখির নখরজমি।
শানিত ঝাপটের মত পেরোতে চাই। তোমার হু – শ – শ কোরে উড়ে যাওয়া চেতাবনির আয়না।

22 August 2017

রত্নদীপা দে ঘোষ




আয়না
মা বললেন ভাঙা আয়নায়। কখনো মুখ দেখিস না। মুখ ক্ষয়ে যাবে। মুখ কেটে যাবে। দেবতার কাছে তোর এই কাঁটা-ছেঁড়া প্রার্থনা। কোনদিন পৌঁছবে না।
বাবা বললেন। দেখিস। আয়নার সৈন্ধব ঘাটে ঘাটে। লবন-লবন খেলিস নে। সেই কবেকার গামাযুগের নোনাপানি। পায়ের তলায় খুব খিলখিল। ভেসে থাক।  জেনে রাখ। যাকে প্রার্থনা ভেবেছিস। সে আসলে অনুবাদকের সমান।

25 January 2017

রত্নদীপা দে ঘোষ




ইত্যাদি  
১
টেনিসের খুকুমণিরা বুড়ো আংলার ম্যাপ থেকে এখানে ভূগোলের দিকে সরে আসে ...
কাঁচা-মিঠে অ্যাপ্রন ঘেঁটে হরিণের ধারাবাহিক এই শহর । চার ভাঁজ । এলাচ ঘ্রাণের মৌরি গ্যালারি । এখানে পাতার ক্যামেরা , ঘুরছে বিবাহমঠ । সাধের জুয়েলারি ছড়িয়ে দিয়েছে যুবতীর মেওয়া স্বাদ ...
ঊরুহীন চাঁদ উঠছে সন্ধে মাখা শরীরের ঝিরিঝিরি হাওয়ায় । প্রান্তিকের স্নানরঙ খুলে দিচ্ছে শহুরে বাথটাব ... এই শহর টিলাহীন উটপাখি । ডানায় জড়ানো ফানুসের সেল । কোথায় লুকানো ছুরি । ছুরিতে লুকানো রেশমের লালা ...
এই শহরের রোগা রোগা চেহারা । ফ্রিজারের লালবিন্দু, আধগোল নাভি । বৃতিহীন বুক । ব্রেসিয়ারে উধাও খয়েরি ... এই শহরকে আমি দেখি দূর থেকে , ঘাড় ঘুরিয়ে ...
এই শহরের সাদা ঠোঁট কুড়িয়ে নিচ্ছে আমার প্রাক্তন প্রেমিক ....

17 May 2016

রত্নদীপা দে ঘোষ



দশ পংক্তি রবীন্দ্রনাথ

দেওয়া এবং সাড়া না দেওয়ার ঝর্ণাকলমটি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ
ইমেজারির লাক্ষাহ্রদ হে, দুলছ তুমি, বাজছ তুমি মৃদু রবিধ্বনি
এমন সমঝোতা প্রেমের সাথে যে প্রতিটি অটুট পংক্তিই রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রকে ভালবেসে মৃণালিনী কমলে ছুটে যায়, ছুঁতে চায়, ঝরে যায়
চিবুকে চুমু খেয়ে রবীন্দ্রনাথ বললেন, লাবণ্যে  হেরেও জিতে গেছ তুমি
রবিঠাকুরের দ্বিতীয় অংশ আকাশ আর প্রথম ফুলন্ত মন্থরআলাপ
যেদিকেই যাই রবিঠাকুরের পায়ের সরোবর আর আমার জোড়া কুসুম
রাতচরা রবীন্দ্রনাথ দিনপাখিদের প্রনম্য, চিরকালীন রাত্রিজাতক
এর মধ্যে একদিন ফোনে রবিবাবু আমাকে পৃথিবী শোনালেন 
আজ দুপুরে রবির সাথে আমার মৃগয়া, চলবে কাল অবধি 

07 March 2016

রত্নদীপা দে ঘোষ




প্রস্তাব

যৌনতার একটা সুদৃঢ় মিঠাপন আছে সাদা তোয়ালে জড়ানো ইনসেট থেকে প্রথম পুরুষ বেয়ে তৃতীয়া নারীর অখণ্ড শাঁখাসিঁদুর 

ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে আমাদের আরে একটু সতেজগাঁঢ় পেয়েই জিভ বুলিয়ে দিলেম
 
পিয়ালশাল চন্দ্রিমার সিনথেটিক দোতলায়
 

আরেব্বাস
 
কী সাঙ্ঘাতিক কাঞ্চন
 
জঙ্ঘা পেরিয়ে সোনা সোনা সোনাটার স্লেজ
 
আগুন তবু
 
বরফ-বরফ গন্ধ কয়
 

মেরিজান হে
 
লাবডুব সায়রের গলে গলে ঠোনা মারো চিমটি কাটো অবিরাম বৃষ্টিটি নেভাও আবেগে শিহরণে রাধাকুন্দনটি নেচে নেচে উঠছে
 

বোঁটার তিড়িং বিড়িং বাড়ছে বই কমছে না চোখের ভেতরে যে ওঁরাওযুবতী জমে আছে তার শিলান্যাসে দু’একটি কামড় আলটপকা পাথরবীচি
 
ভরে দিচ্ছি তল্লাটে
 

প্রতিটি নগ্নতাই নিজস্ব হিতকথা

02 December 2015

রত্নদীপা দে ঘোষ




শীতকাল এলে আমরা প্রেমে পড়লুম! আমাদের মধ্যে কেউ দার্শনিক, কেউ প্রোফেসর। কেউ রকগায়ক। আমরা তিনজনেই ঈশ্বরের ফিয়ঁসে পারমিতার প্রেমে পড়লুম!         
এক শীতের দুপুরে ঝোপের আড়াল থেকে দেখতে পাওয়া গেল...আত্রেয়ী নদীর মতো বুক ঝুঁকিয়ে আছে পারমিতা। ইশ্বরের ক্যাথোলিক ঠোঁট। বেলজিয়ামের কামার্ত আয়না অর্ধনগ্ন...ফুল বাতাসা চন্দন লোভী ঈশ্বর চেটে খাচ্ছেন পারমিতার লিপস্টিক! ব্রহ্মাণ্ড পাতাল ক্লিভেজ রসাতল! পূজো-পার্বণের দিনে যেমন উপোসী আকাশ গঙ্গার পাটাতন!
আমাদের মধ্যে যিনি দার্শনিক তিনি বললেন , দেখো সংকল্পের মধ্যে না দাঁড়িয়েও তিনি প্রেম করেন প্রাণীর মতো, পরবাস করেন পশুর মত, আবার ভাঙা জাহাজের মত ধর্মকে দু'হাতে তুলে ধেইধেই করেন সমুদ্রে! এই গুণ তাঁরই মৌলিকত্ব! এখানেই তিনি শ্রেষ্ঠ, তাই তিনি ঈশ্বর!
প্রোফেসর বললেন, ওদের দুজনের ঘাম আর গর্জন থেকে এটা স্পষ্ট ঠোঁটের মতো এমন নির্জন আর রহস্যময় উপাদান গোটা সায়েন্স সিলেবাসে নেই। আমি চমৎকৃত! একে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে গেলে অদূর ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই জানতে পারা যাবে এই প্রত্যঙ্গটি কিভাবে বিশ্বাসভঙ্গের প্রতীক হতে পারে...
রকগায়ক বাঁধলেন গান। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে...ঈশ্বরের অসুখ সম্পর্কিত, পারমিতার বীজাণু বহির্ভূত! নাম দুটি বদলে গেল...শায়রা খাতুন আর মিথিলেশ বসাক! গানের শেষ চরণে জানা গেল, শায়রা এবং মিথিলেশ এখনো ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেননি...
আমাদের কাছে শীত মানে পারমিতার প্রেমে পড়া
আর চুমুর শব্দ লক্ষ্য করে ঈশ্বরের পেছন পেছন
গ্রীষ্মকালীন পারমিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া...