Showing posts with label রিকি দাশ. Show all posts
Showing posts with label রিকি দাশ. Show all posts

14 March 2019

সমকালীন কবিতা- রিকি দাশ



রংধনু
ব্রহ্মাকন্যা সন্ধ্যার পূর্বাভাসে,
টগবগে গন্ধরাজ ফুটেছে আকাশে!

14 January 2019

গুচ্ছ কবিতা —রিকি দাশ




অদৃশ্য স্রোত
শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে রেখেছি প্রশমিত শামুক—মায়া,
নবজাতকের কান্নার মতন ছিটকে আসা ভ্রুণ হাতে;
একবৃক্ষ আষাঢ়ী নকশার বেণী খুলে খুলে হতে চেয়েছিলাম গৃহত্যাগী!
 
পাছে জড়িয়ে পড়ি দু-হাত ভর্তি তেজস্ক্রিয় চুম্বনে—
তোমার চোখের গভীরে উষ্ণ নিষিদ্ধ যে নদী;
তার শিরায় জু্ঁইফুলের সঙ্গম ঢেলে সুধার মতন পান করেছি কবিতা!

পৃথিবীর হরিৎ পেন্সিলে ভেসে উঠে এক একটি জিয়নকাঠি—
বৈকালিক দেয়ালঘরে তুলসীতলায় ধুপ—ধুনোর খেয়ালে;
ঠাঙিয়েছি অস্তিত্বের মোহমুগ্ধ চৌকাঠ!

হারিয়েছি,অতলে গিয়েছি,দেখেছি; দুপুরের অসুখে বুঁদ হয়ে থাকা স্তব্ধতা—
হেমন্ত আকাশের কোন গোধূলি গন্ধে গৃহত্যাগী হব বলে বয়ে যাচ্ছি মানবীয় স্রোতে...!


10 July 2018

গুচ্ছ কবিতা — রিকি দাশ


 

দিগন্ত
ছুঁয়ে দেখার লোভে!
চর জেগে উঠেছে বিস্তৃত সব মেঘে,
খসে পড়ছে অ্যাংলোস্যাক্সন ইতিহাস
পার করে আসা সহস্র ভূগোল
ফেলে চলেছি এতকালের গুছানো সব সন্ধ্যা, মুগ্ধ নগর।

কোন শব্দ নেই থমথমে নিমতলার মতন নিঃসাড় শহরের কর্পোরেট গলি ছেড়ে;
হেঁটে চলেছি ক্রমশ গ্যালাক্সি জুড়ে।
কবিতার ক্ষেতে বুনে চলা রসায়ন চুষে শরীরে রাঙিয়ে নিবো যাযাবরের ব্যাধি।

উষ্ণ ঠোঁটে আলিঙ্গন করে শাণিত সব সকাল, একদিন যেন এক ঋদ্ধ আমি!
চিবুকের বা-পাশে রবীন্দ্রনাথ জপ-তপে ডানা মেলে ইট-কাঠের তান্ডব নীলকমলে।
গতির তীব্রতায় ছিটকে যাবে ভিসুভিয়াস।
ভূ-খন্ড ভেসে উঠবে পৃথিবীর লাভায়। ঠাই দাঁড়িয়ে শিল্প ছোঁয়ার তাড়নায় হেঁটে যাবো অদৃশ্যে।
দু-চোখ ভরে দিগন্ত ছোঁয়ার লোভে...

06 March 2018

যুগল কবিতা—রিকি দাশ



শব্দঝরা শ্রাবণ
শব্দসমুহের অশ্বমেধ যজ্ঞ চলে শরীরী বৃন্দাবনে।যেন জেগে আছে শব্দঝরা শ্রাবণ অনন্তকাল ধরে ঘোরের, বিস্ময়ের ঝুলবারান্দায়।পোষা গাছের মতন কান্ডে ঝুলতে থাকে অহম, আনন্দ, ক্রোধসমুহ। শব্দমোহের তীব্র হাত যেন ডেকে আনে বহুদুর।বদলায় আকাশ,বদলে যায় শরীরঘ্রাণ। আলিঙ্গন করে শহর ও সন্ধ্যার যত ফলাফল। নড়বড়ে দাঁত নিয়ে সিঁড়ির নিচে নামতে থাকে এক একটি পা!

বিমূর্ত নেশায় আগলে ধরে শব্দজ্বর।
শব্দদ্রোহের ভার নিয়ে বিষণ্ন এক পারফিউমে চন্দন তিলকে কপাল চুইয়ে কাঠ পেন্সিলের দেহ ভস্ম হয়ে যায় শব্দঝরার শ্রাবণে...


25 September 2017

রিকি দাশ



কুহক সন্ধ্যা
এবার ব্রেকিং নিউজে আসুক কুহক সন্ধ্যা।সেলাই মেশিনের সূঁচ ফোটা অভিমানে অবিরত যে মানববন্ধন চলে,অক্ষত দাঁড়িপাল্লায় যখন ভেসে উঠে সব সুতোর ধোঁয়াশা;সমুদ্রের এতশত গর্জনে তবুও বলপেনের শরীরে নেমে আসে কুহক সন্ধ্যা...

যে রঙে আমার উঠোনে হয়ে উঠি চন্দ্রিমা।গলগল অবাধ্য জ্যোৎস্না ঢুকে যায় ঘরে।প্রচন্ড সুখের অসুখে, প্রতিবেশীর মতন আমিও খুলে দিই কাঁথার উপরে তোলা ভরদুপুরের নকশী ফুল।তবুও সময়ের কার্পেটে ঢেলে দেয়া আলতা রঙে নেমে আসে কুহক সন্ধ্যা...

16 May 2017

রিকি দাশ




ঘোরের আধারে শীতফুল ফুটে আছে শহরের ঠোঁটে। নিয়ন আলোর সুড়ঙ্গ ধরে দীর্ঘ বয়ে গেছে যে রাত তার বুকে যাত্রীছাউনি নেই।কেবল রেলপথ,আছে দুরারোগ্য মাইক্রোফোনে ভেসে আসা আকাশের চিবুকে তিলের ঘোর।চমৎকার সিল্ক তিলে যেন জমে থাকে সমূহ উপকথা।
বয়স্ক রাতের ভুমি খুঁড়ে খুঁড়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতন বের করে আনি প্রেমের ভাস্কর্য।প্রফুল্ল শুভ্রতায় আমরা অপরিচিতের মতন বার্তালাপ চালায়। জন্মস্রোতে জ্বলতে জ্বলতে নিভে যাওয়া মোমবাতির রক্তিম চুম্বন,সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে যুবতীর সৌন্দর্য,
কালোত্তীর্ণ অনুভুতি-
যেন প্রথম মেঘ ধরা,
          প্রথম জ্যোস্না গিলে খাওয়া,
প্রথম প্রেমে পড়া...



25 January 2017

রিকি দাশ




বার্তালাপ
ঘোরের আধারে শীতফুল ফুটে আছে
শহরের ঠোঁটে নিয়ন আলোর সুড়ঙ্গ ধরে
দীর্ঘ বয়ে গেছে যে রাত তার বুকে
যাত্রীছাউনি নেই।কেবল রেলপথ, আছে
দুরারোগ্য মাইক্রোফোনে ভেসে আসা আকাশের
চিবুকে তিলের ঘোর।চমৎকার সিল্ক
তিলে যেন জমে থাকে সমূহ উপকথা।

08 October 2016

রিকি দাশ


খেলা
ভাতঘুমের চোখ ছিটকে পড়ে উঠোনের ঝুলন্ত কাপড়ে।শীত শীত ভাব টপকে পড়ে মিশে যাচ্ছে পশ্চিমগঙ্গায়। বৃষ্টির মতন ঝরঝরে স্রোতে চুষে নিলো শরীরের সমস্ত ঘ্রাণ।যেন একটি ব্যাংক একাউন্টে সেভিংস হচ্ছে সারাদিনের সমস্ত ক্লান্ত কর্ম। প্রতি ফোটা যেন এক এক সঞ্চয়ী হিসাব।কড়কড়ে রোদের কোরাসে টগবগে গন্ধরাজ আঁকতে গিয়ে ভাবি,জীবনের সাথে ওই ঝুলিয়ে দেয়া শুকনো কাপড়ের বড্ড মিল!
ওদিকে এক পাড়ায় আজ গায়ে হলুদ।রঙে পূর্ণ সব দরজা জানালা।ওপাড়ায় আজ রাত যাবেনা...
আশ্বিনের কোল ঘেষে বসে থাকবে সমস্ত আধার।
অথচ দেখ অন্য পাড়ায় একটা মানুষ নাকি আর ঘুম থেকে উঠবেনা, হাঁটবেনা...কালের স্নানে ডুব দেওয়া সত্যজলে সে পরিশুদ্ধ হওয়ার অভিপ্রায়ে গা ভাসিয়ে দিল চিরন্তনে।তাই সমূহ আঁধার হেঁটেছে আজ ওই পাড়ায়। কর্পোরেট চোখ দুটি বন্ধ করতেই দেখি জানালাটি গুটি পায়ে কাপড়ের সাথে ভাব বিনিময় করছে...আর আকাশে উঠেছে রংধনু...



গন্তব্য
মেঘের কলিংবেলে চাপ দিতেই, ঝমঝমিয়ে নুপূর শব্দ শুনিয়ে দিল শেষ জলটুকু। সবটুকুন ঝেড়ে ফেলে সফেদ আকাশ নিয়ে বসে পড়ল ইস্টিশন মাস্টার। আশ্বিনের মাস, ত্রয়োদশী তিথি! শহুরে নদে এসব নেই। বাথটাবের ছলছল স্নানের শব্দে, ডিম-পাউরুটির ব্রেকফাস্টে অমাবস্যা পুর্ণিমার গদ্য-পদ্য সব সাঙ্গ হয়।জিন্স আর সানগ্লাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকে হোলির দাগ। চাঁদের বুকে জ্বালায় আতশ বাজি!

ইস্টিশন মাস্টার পঞ্জিকা গুটিয়ে দেখে শেষ জলটুকু ঝেড়ে আজ জানালা বেশ পরিষ্কার।
নক্ষত্র ভালো, হেটে যাওয়া যাবে বহুদুর...!



14 August 2016

রিকি দাশ



ধ্রুব-১
প্রাচুর্যের গভীরে ঢলে পড়ছি,কত দিয়েছি বিনিময় প্রথায় গহ্বরে অতীতের পুস্প ফোটালে।
এক দ্বিধাবিভক্ত খেলা যেন...

আজ তোমাকে যে জানেনি "ধ্রুব" 
সে নির্বিঘ্নে মেতে উঠতে পারে সতরঞ্চ খেলার ছকে।
তুলি ফুটিয়ে ছিটকে আনতে পারে তোমার অন্তরস্থ পঙ্কজ।
আবৃত্তি সুরে তুলতে পারে বর্ণমালা। 

এখনো যখন মেঘে নীলে ঝগড়া হয়
আমরা আঁচল ভেজাতে নেমে আসি।
রঙিন নাট্যমঞ্চে একের পর এক চলে উষ্ণতার নাটক।
উপলব্ধি করতে পারে অমৃত সমারোহ... 

তবে যে তোমায় জেনেছে ধ্রুব? 
সে কেবলি মিশে যায় অনন্ত সাম্রাজ্যে!
ড্রামাটিক কিছুর অস্থিত্ব
যেখানে প্রেমের আলোড়ন তোলে না...!

ধ্রুব-২
অমন গুছানো হয়ে এলে যে,
বড্ড বেমানান।
গালবর্তি দাড়ি,রুক্ষ সব চুল
ঢ্যাবঢ্যাব দু-চোখে সমুদ্র
আকাশের মতন প্রেম
আমার যা কিছু...।
আজ মুঠোবর্তি বেলী আনলে না কেন ধ্রুব!




ধ্রুব -৩
প্র্যাকটিকাল হওয়ার ঘুড়ি ওড়াও
অথচ নাটাই নিয়ে তোমার বাস্তববাদী কোন বর্তমান নেই।
এভাবে কবিতা হয়না ধ্রুব!
তুমি কেবল ভাঙন দেখেছ,গড়ন নয়।

তাইতো কেবল মিটিং মিছিলে গলা উচিয়ে তুমি বিতর্ক ধারা বয়ে দিতে পারো।
নাগরিক দরদাম,উঁচু নিচু জলস্রোত,
এই ক্রুদ্ধ হৃৎপিন্ডের পাঁশুটে বিকেলের আড়ালে নিজস্ব একটি আকাশ থাকা চায়।
যেখানে চিবুকের স্রোত ধরে চির যৌবন বসন্ত,যেখানে বকুল ফুটে প্রতিশ্রুতি নিয়ে...

দেখ ধ্রুব, 
আকাশের ও তো কোনো ভাষা নেই,
তাই বলে কি আকাশ ভুলে আছ?
বৃষ্টিজল বোঝনা
রোদসী বিকেল ছুঁয়ে দেখনা 
উপচে পড়া জোৎস্না খুড়ে খুড়ে প্রেমিক হয়ে ওঠনা?

তবে তো তুমি আকাশ বুঝলে 
নীল রং বুঝলেনা!


ধ্রুব-৪
যেদিন মিশে যাব অস্পৃশ্য কুয়াশায়;
জন্মায়ু ক্ষয়ে ক্ষয়ে চিন্হ রইবে
কৃষ্ণচূড়ায়!
সেদিন বুঝে নিও,
বুঝে নিও প্রিয়ত;
খুব প্রিয় ছিলে আমার!

জেনে রেখো নক্ষত্রের গায়ে লিখেছিলাম,
আমার মনকুঞ্জের যত অভিমান...!





ধ্রুব-৫
তোমাকে দেখে কেউ কি বলবে,
গতরাতে তুমি কারো পাঁজর ভেঙেছ?
দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছ তার ঐশ্বর্য্য।
কারো বুকের ভেতর সেলাই করেছ
রক্তকরবী।
ফুসফুস থেকে চুষে নিয়েছ সব বায়বীয়
ভালবাসা!

কেউ কি বলবে,
কাউকে তুমি কথায় কথায় কিভাবে
পোড়াও,
ধোয়া হয়ে সব মিশিয়ে দাও।
কিভাবে চোখের তীক্ষ্ণতায় লুঠে নাও
কারো সমস্ত পৃথিবী...
তোমাকে দেখে কেউ কি বলবে,
কিভাবে তুমি কারো হৃদয়ে চুম্বনের ক্ষত
ছুড়ে দাও!
পঞ্চমীর প্রাতে চাঁদের জানালায়
হিসেব করে কিভাবে রং আঁকো।

কেউ কি বলবে,
সারা দিনমান এক অভ্যুত্থানে কতটা বুক
ফুলিয়ে হেটে চল ধ্রুব!
ট্রিগার চেপে রাখার মতই ক্ষ্যাপাটে
প্রেম নিয়ে এই এক উন্মাদনা...

কেউ কি জানবে,
গভীর আধারে সেফটিল্যাম্প জ্বালিয়ে

কিভাবে আগলে রাখো...

08 May 2016

রিকি দাশ


আমার মুক্তমঞ্চের উঠোনে,ঝাপসা কুয়াশার মতই তুমি অধরা। কৃত্রিমতার বিস্ময় যেখানে ফাগুনকে ছুঁয়ে যায়নি।কুঞ্জবনের কঙ্কনঝংকারে গীতস্রোত তুলে যায় যে কৃষ্ণচূড়া,যে তুমি অপার্থিব মিশ্রণে মিশে আছো,সে তুমি কম্পিত কবিতা নিয়ে নিরুপম অসুখ ছড়িয়ে যাও। ফাঁদে আটকে পড়া ঘুঘুর চোখে শঙ্খচিলের ডানা মেলা চিত্রালিপি ফুটিয়ে তুলছো,এক বায়বীয় শিহরণ যা অস্থিত্ব জানান দেয় উপলব্ধি নয়…
খেলাঘরের আলোড়ন যেখানে তোমার অক্ষত পদ্মপঙক্তি পড়ে এধার ওধারঘেঁষে,সে তুমি একেমন নির্ভুল পথপ্রদর্শক! তোমার উদাসীন বসন্তের মন্ত্র আমায় ঘিরে রাখে,

আমার মাঝে আমাকে স্বতন্ত্র করে…!

তোমার নির্ঝরের মতন বয়ে যাওয়া স্রোতধারা,স্নানার্থীনি পিপাসু লতাগুল্মের দল। বাতায়নে তোমার আলোকছটা,ক্ষণে ক্ষণে  ছিটকে আসা নিবিড়তা।যেন হারিয়ে যাওয়ার  ইচ্ছে গুঁজে দিলে চোখে।অজানাতে অরণ্যে যেখানে বনবাদাড় স্বাধীন।তুমি মিশে আছ খুব ভোরে যখন সুর্য আলসে ভাঙ্গে।
তোমায় নিয়ে রবীন্দ্রনাথ, ছোট ছোট পায়ে নদীর গোধুলিতে আমার ধূসর বিকেল কাটে। অদৃশ্য শিহরণ যা ভাবতে শেখায়,ভাবাতে শেখায়। তোমার হাত ধরে হারিয়ে যাওয়া হৈমন্তী খুঁজে ফিরি নিজের মাঝে।মুগ্ধমনে কেবল ছোঁয়া খুঁজে বেড়ায়। উপলব্দির আলোড়নে তোমার পদচারণায় বিশালতা পেল শিল্প। তুমি রবীন্দ্রনাথ,তোমার উদাসীন বসন্তের মন্ত্র আমায় ঘিরে রাখে,

আমার মাঝে আমাকে স্বতন্ত্র করে…!



03 March 2016

রিকি দাশ


শান্তিনিকেতন
আগলে নিও মেঘলতা,
রোদ চাদরে চেপেছে জ্বর।
মুগ্ধ পারফিউমে,
যেন ঘুরছে শেক্সপিয়র...

দেখ রবীন্দ্রনাথ,
তোমার আকাশনীল বই ছুঁয়ে,
শহর থেকে দুরে,
দুপুরের হলদে হেমন্তে,
প্যারাডাইজ নেমে এল পৃথিবীতে!

আগলে নিও সমুদ্র...
কাঠপুতলির কর্কশ ঠোট,
বিষাক্ত আদিক্ষেতা,
সমুদয় আপেক্ষিকতা,
আত্মঘাতী পোস্ট-অফিস...
জ্বর চাপুক মস্তিষ্কের গুপ্ত শহরে! 




ডিটেকটিভ চোখ
পোড়া ঘর্মাক্ত কাঁঠালি পাতা কাজলের পাল তুলেছে চোখ সমুদ্র!
যে সমুদ্র কিশোরীকে ঢেউয়ের নাকফুলে সাজিয়ে তুলে নববধূতে।

যে চোখে বন্দী পৃথিবী,
ফুটে উঠেছে নির্লিপ্ত ব্যাকরণের অক্ষিগোলকে...!
ডমরু বেজে উঠে উড়োবাতাসের সিগন্যালে ভাবসাবের আদলে কর্নিয়া মিশে আচড়ে পড়েছে,
অপার্থিব প্রেমের দোরগোড়ায়।

সে চোখ কাজল পড়েছে অন্য চোখের পাড়ায়...।



মৃত্যুকূপ
ঐ পথ ধরে কে যায়?
দিগন্তের চুম্বনে লাজুক মাটির চিবুক ফেড়ে কোন ছাদে পাড়ি জমায় এক এক ছায়াবৃন্ত...!
সকাল-সন্ধে জন্ম-মৃত্যু কূপ আলো আধারি চিহ্ন লেপটে দেয় যে পথে সে পথ ধরে সৃষ্টি তুমি কোন সৌন্দর্য মন্থনে ডুব দাও।

ঐ পথ ধরে কে যায়?
পিছু ডেকে যে সমুদ্রফুল ভুলে যায়...!
সে পথ ধরে কেন যায়?

যেখানে জীবনের পর জীবন জমে

এক একটি মৃত্যুর কূপ হয়...!

01 January 2016

রিকি দাশ





পদ্মপাতার কানন ধরে মেঘের মিশ্রণ ছুটে আসে শূন্য পৃষ্ঠায়। ফুটে উঠে এক একটা বিস্ময় ম্যুরাল। কখনো ঘন জলরঙা, কখনো রঙের টেরাকোটা। আঁটকে থাকি বকুল ফুলে, ভালোবাসি বলে। উঠোনের ফুটন্ত কৃষ্ণচূড়া তোমায় আর গায়ে জড়ানো হয়না। এভাবে পাশের বাড়ির বাগান গুলির নিত্যচর্চা চলে। তা দেখে এখন আমাদের আশেপাশের চার দেয়াল লুকোচুরি খেলে। আমি কনফিউজড, ওরা খেলে নাকি আমরা?

যাক গে! অমনটা একটু আধটু হয়, না হলেই বা হওয়ার মুল্য কোথায়…!

এখানে নীলকণ্ঠী পাতা আছে, নিমের তলায় ইচ্ছেমতন ঘ্রাণ নিতে পারো! ঘাসে ঘাসে ঈর্ষনীয় সাইরেন আছে। আধিভৌতিক কুয়াশার কোন গল্প কিন্তু নয়! যদি লুফে নেওয়ার মতন চিবুক থাকে তবে তোমাকে রুখে কে?
এই যে সূর্য মায়ের আঁচল থেকে শিশুসুলভ দুটি চোখ নিয়ে বের হয়, ধীরে ধিরে পরিণত, বার্ধক্য…
মায়ের আঁচলে যে জন্মায় নিত্যদিন। ওভাবে প্রেম জন্মায়। এখানের বাতাসে উপর্যুপরি স্নেহ আছে, আষাঢ়ের স্রোতে প্রেমাতাল আলো আছে, রাতের মোড়ে মোড়ে লোডশেডিং নেয়। মগজে আছে মাছরাঙার স্রোত,মা-নু-ষ!

এখানে আছে অসংখ্য তাঁরা, আমি কখনো তাঁরা গুনে দেখিনি…কেবল মুগ্ধতার প্রলেপ ছিল কর্নিয়ায়। এখানে অপরাজিতা হাসে গোধূলির ঠোঁটে। মাঝির নদীপথে। কৈশোর শ্রাবণে উড়ে যায় হাতে হাত ধরে এক গুচ্ছ নীল আড্ডার প্রজাপতি…


জলপ্রপাতের মতন মানবিক প্রেম, অহর্নিশি আকর্ষণ। এই আন্দোলনে তিলে তিলে ক্ষয়ে যাক সব শব্দসংঘ। ডুমুর বাজুক,সব সুত্র ভুলে ধীরে ধীরে লুপ্ত হোক আমি…