Showing posts with label মঞ্জু দত্ত. Show all posts
Showing posts with label মঞ্জু দত্ত. Show all posts

14 August 2016

মন্জু দত্ত



আজ সকালের শীতল হাওয়ায়
মন চলে যায় মেঘ বৃষ্টির আঙ্গিনায়।
মেঘ বলে সই, কতক্ষণ আর রইবি দাওয়ায়
একটু ফিরে তাকা, বারিশ-বরণ। কান্তি শোভায়
ঝরতে হবে ধরার বুকে স্রোতস্বিনীর ধারায়।।
বৃষ্টি বলে, এই তো সবে ফিরে এলাম নীলিমায়
চুটিয়ে শ্রাবণ ভরিয়ে দিলাম ধরার মৃত্তিকায়
তবুও কি আমার ছুটির হিসাব আসবে নাকো হাতে।
মেঘের কান্না বৃষ্টি ফোঁটায় ঝরেই চলেছে বৃক্ষ পাতে।
বৃষ্টি এখন মেঘের কোলে একটু যাবে নিদ্রা দিতে ।
শূন্য হাতে উদাস মনে গাইবে কেবল গান
ঠিক দুপুরের জিরান ক্ষণে নেবে যখন ঘ্রাণ
আচার বৈয়াম থাকবে পাঁচিল টপকে
কাল মেঘের পাল্কি চেপে আসবো ঠিক ঝটকে
ডালের বড়ি, আমসত্ত্ব সবই যাবে চটকে।।
গাছের ডালে ভেজা কাক ডাকছে শুধু কাকা
নীল আকাশে রূপালী রং আঁকছে এক চাকা
আকাশপথে কত কি সব, হাটছে একা একা
অন্তহীনের বেড়িয়ে চলা, অন্তহীনের আশা

বৃষ্টি রোদের খেলায় মাতে, মেঘবালিকার আশা।।

15 June 2016

মন্জু দত্ত




শুভ্র নীলিমার নীচে, সিক্ত মাটির বুকে, ঘাসের মাথার ওপরে,
ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একদিন ফুটে ছিল ছোট্ট একটি ফুল।

জগতের আনন্দসভাতে
তার ছিলনা ঠা্ঁই
ঠা্ঁই ছিলনা কোন পূজাতে অথবা কোন উ্তসবে।
রাখতোনা কেউ শোবার ঘরের টেবিলটাতে,
রাখেনাতো কেউ বাইরের ঘরের ফুলদানীতে অথবা আড্ডার কোন মজলীশে।

কারণ,
ছিলনা তার রূপের আড়ম্বর ছিলনা মনমাতানো সুবাস
তবুও তবুও তো
সে বিধাতারই সৃষ্টি।

ছোট্ট বনফুল
হয়তো মাটির কাচে
তবুওতো হৃদয়েতে তার
দেবার বাসনা থাকে।

স্তবকে স্তবকে তার
শুভ্র কিরণ প্রজ্জ্বলিত তাও তো সে পায়না আদর বিশ্বের দরবারে।

ঘাসের ওপর পড়ে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো
বুঝি তার
সদ‌্য ঝরা অশ্রু বিন্দু
কে জানে?
কে খোঁজ রাখে
এমনি করেই নিত‌্যদিন
কতশত বনফুলের
অশ্রুবিন্দু ঝরে?

07 May 2016

মন্জু দত্ত



ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ

সারা রাত ধরে ঝিমানোর পরে
         উড়ে গেল ভোরের পাখিটা
উন্মুক্ত ডানা মেলে আলো ঝলমলে
          স্বপ্নীল আকাশের বুকে।

আমার কপালে জমছে বিন্দু বিন্দু ঘাম
            খুঁজে চলেছি,তোমার নাম
তুমি কে? পরিচয় কি?
              এটা পাওয়া এতটাই সোজা নাকি?

তুমি আছো ছেলে বেলা জুড়ে
             কৈশোরে শ্বেত টগরে মুড়ে
বয়ঃ সন্ধির উন্মত্ত প্রেমে
              দেহের শিহরণে,প্রেমে গলা মনে ।।

উছলিয়া ওঠে ক্ষণে ক্ষণে
             এত অনুভূতি ছিল মনে?
আনন্দে আত্মহারা
              বেদনায় অশ্রুধারা ।।

পূজাতে ভক্তির থালা
              প্রেমেতে পাগলা হাওয়া
প্রকৃতি থমকে যাওয়া
                কখনো লেখনি অস্ত্রশালা ।।

কি এমন আছে তোমার
              করেছো আপ্লুত মন সবাকার
জানতে বড় ইচ্ছে করে
               কোন আশীষের ঝরনাধারা
সবার মনে দিয়েছে নাড়া?

ছুঁয়েছো সবার মনোভূমি
               রাতের চন্দ্রশোভা তুমি
তারার আলোর অঞ্জলি
               সূর্যের সাথে রেখেছো মিতালি ।।

তুমি কে? তুমি কে গো?
              দাড়িওলা মনচোর বুড়ো
তোমার চাওয়া তোমার পাওয়া
              সবটাই তো এক হয়ে যাওয়া ।।

সবটাই গান সবটাই কবিতা
            গদ্যটাকে রেখেছো বাহুপাশে
যেন চির নবীন তরুলতা ।।

তুমি নাই ভাবতে পারিনা
            গান হয়ে আছো কবিতার মাঝে
গল্প তোমার প্রদীপ সাঁঝের
              তুমি অনন্ত লোকের কৃষ্টি 
তুমি নারীর চেতনা দৃষ্টি
                ধন্য ধন্য বলি তোমার সৃষ্টি ।।

তুমি আসবে আবার ফিরে
             আসতে তোমাকে হবেই

দাড়ি বুড়ো, থুড়ি, রবিঠাকুর
             বৈশাখের তেজ, শ্রাবণের ধারা
শীতের চাদর কাঁপন ধরা
              ভাবতে পারিনা কিছু তুমি ছাড়া।।
তুমি এসো,ধন্য হোক এ ধরা ।।

“এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে
বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছো অন্তরে”।।