মশারি থেকে বেরিয়ে শোয়ার ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দাটা থপথপ পায়ে পার
হয়ে বাথরুমের সুইচে হাত রাখল ওসমান। উজ্জ্বল আলোয় তার চোখ ধাঁধিয়ে যায় নিমেষেই। বাথরুমে
ঢুকে পানির ট্যাপটা চালু করতে গিয়েই বুঝতে পারে তার হাত কাঁপছে। কাঁপা হাতে ট্যাপটা
ঘোরাতেই কলকলিয়ে পানি এসে লাল আরএফএলের বালতিতে জমে থাকা পানিতে পড়তে থাকে। পানি পতনের
শব্দে রাতের জমাট নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে যায় মুহূর্তেই। ওসমান তার মাথা ও ঘাড় পানিতে
ভেজায়। বুকের ধুকধুক আর মাথার দু’পাশের দপদপানিটা এখনো টের পাচ্ছে। বুঝতে পারে, সবই
উত্তপ্ত স্নায়ুর প্রভাবে ঘটছে। কাকের ডাক সে শোনেনি, তাছাড়া এত রাতে কাক ডাকেও না।
টেবিলে রাখা জগ থেকে পানি ঢালে। তারপর সিগারেট জ্বালায়। এখনো মাথার দু’পাশের শিরা দুটো
দপদপ করছে। জানালা খুলতে ভয় হয়। মনে হয়, জানালা খুললেই দেখবে একটা কাক! স্থির চোখে
তাকিয়ে আছে আর চাপা স্বরে ডাকছে। তার আতঙ্ক আরও বাড়ে। ওসমানের বাড়ি এখন ফাঁকা। বউ দিপা
মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছে। আসবে ঈদের পর। তারও যাওয়ার কথা আছে ঈদের আগে আগে। কিন্তু
সব রুটিন এখন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। সারা মাসের নির্ধারিত কাজগুলো ভুলে যেতে বসেছে ওসমান।
কিছুই ঠিক রাখতে পারছে না এখন। কী রাতে কী দিনে- ঘুম নেই তার। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে
পারছে না সে। সামান্য ছোট একটা দোকান এখন বন্ধ। বাজারে দেনা বাড়ছে প্রতিদিন, আর বাড়ছে
মেজাজ। দিপা আর জান্নাতুল মামা বাড়ি গিয়েছে বেশ কদিন। ওরা যেতে চায়নি, কাজের সুবিধার্থে
ওসমানই পাঠিয়েছে এই লম্বা সফরে। দিপা বলেছিল,
