Showing posts with label নাজনীন খলিল. Show all posts
Showing posts with label নাজনীন খলিল. Show all posts

22 August 2017

নাজনীন খলিল





সসেমিরা সময়
গোপন কোঠরে চুপচাপ বসে থাকি ;
আমার চারপাশে গল্প তৈরি হয়
গাছের, ছায়ার, ঝরাপাতা আর শামুকের।
অঙ্গন
তার ছায়ার ভেতরে টেনে নিয়েছে,
একটি গাছ
ডালপালাসহ পাখির ছোট্ট ঘর।
পাতার উপরে পাতা ঝরে গেলে
আধো আধো নূপুরধ্বনি বাজে ;
যেন
তবলার বোলের অপেক্ষায় তৈরি নাচের মেয়েরা
আনমনা টুকছে
অস্থির আলতো পায়ের ঘুঙুর।
বৃক্ষের এই ছায়ামগ্ন বিলাসের মাঝখানে
আমারো কী কোথাও একটুখানি প্রাপ্য ছায়া
পড়ে আছে?

16 May 2017

নাজনীন খলিল





অগ্নিমুখো ড্রাগন
একটা ধুসর জামার ভেতরে রাত
তার ইনসমনিয়াক দৈত্য পোষে রাখে।
আমি রাখতে চেয়েছি ঘুম
আর
স্বপ্নের ঠিকাদারি।

01 September 2016

নাজনীন খলিল


একটি গোধূলি এসে ভীষণ নাড়িয়ে দিল কড়া;
যেন আকাশের কাড়া-নাকাড়া বেজে গেল
ঝুমবৃষ্টির শিঞ্জিনীর সাথে।

আরো কিছুটা সময় বাকী আছে শুধু
হেলিওসের ঘোড়াগুলো মাঠ পেরোলেই
আস্তাবলের পথে,
নিকষ রাতপর্দায় ঢেকে যাবে সব।
রক্তচোষা বাদুড়ের পাল
ঢুকে যাবে নিরীহ ভেড়ার খোঁয়াড়ে।

কমলাআকাশ চিরে উড়ে যায় সাদা বলাকার ঝাঁক
উদাসীপাখার সুরে মন আনচান করে ওঠে বড়ো;
পেয়ালায় ঢেলে নেই সোনালী অমৃত;
তীব্রনেশালু এই রঙ্গমেলায়
আমিও নাহয় মাতালই হলাম...

সাততালা বাড়ির ছাদে
সীমাহীন বৈরাগ্যে বসে আছে
একটি কালোদাঁড়কাক।
বাড়ী ফেরার যেন কোন তাড়া নেই।
বাসাটা কি একা?
আর কেউ নেই?

ভোরের অপেক্ষায় আছে...রক্তশূন্য মেষগুলো

05 July 2016

নাজনীন খলিল




ছায়া কুড়োচ্ছি 
‘
যেতে হলে 
যেতে হয় এমন 
যেন ছায়ার আঁচড়টুকু কোথাও থাকেনা পড়ে’

সেই থেকে টুকরো টুকরো ছায়া কুড়োচ্ছি। 
একটি পুরনো ডাকবাক্স
লালাভ-বিষন্নতার মতো ধুলো-ঝুলে মাখামাখি
আজো বারান্দার সাদা থামে ঝুলে আছে;
অনাদরের মলিন কোঠরে হয়তো এখনো
কিছু নীল খাম...। 

অবিন্যস্ত বেশবাস
ঘুম ঘুম চোখে কেউ
প্রতিটি সকালে 
আর খোঁজেনা কোন প্রত্যাশার চিঠি।

ছায়া কুড়োই মায়াটাই পড়ে থাক শুধু ।




ক্রস কানেকশন
যখন খুলছিল পাতালপুরির শেষ দরোজাটাও,
পালিয়ে এসেছি
সব জানতে নেই-
এই কথা জানার পরেও 

কোন নিষিদ্ধ গল্পের ভেতরে আচমকা-অনিচ্ছুক ঢুকে পড়ি। 
কেন যে...

ক্ষয়াটে মুদ্রাগুলো বারবার নেচে ওঠে হাতের তালুতে।নেচে যাও
নেচে যাও
তামার মুদ্রা
পিতল চাকতি
এভাবেই টুং টাং বেজে ওঠো।
ঘোর স্তব্ধতার হিমাগারে তুচ্ছতর শব্দই বাজনা।
স্বপ্ন বয়ে চলা চোখইতো জলের আধার
এ কথা জানার পরেই
ছবি আঁকতে চেয়েছিল অন্ধ মেয়েটি;
বাতাসের ইজেলে সাদা ক্যানভাস।


কাগজের নৌকা
রাতের বোতল উপুড় করে, দীর্ঘশ্বাসের মদ পান করেছি গোপনে
তার ক’ফোঁটা ভাগ আমি নদীকে দিয়েছি;
গড়াতে গড়াতে ঠিক মিশে গেছে সমুদ্রের নুনে।
আজ আবার বৃষ্টি
আজ আবার কাগজের নৌকা ভাসানো দিন;  
কতদিন স্বপ্নের স্বাক্ষর এঁকে ভাসিয়েছি  রঙ্গীন কাগজ ।

পায়ে পায়ে নিগড়ের নিষ্ঠুর  ঝনৎকার ছিল। পথ ক্ষমাহীন।
আকাশ-উদ্যানের সিঁড়িতে রেখেছি দ্বিধান্বিত পদক্ষেপ

কত নক্ষত্রের ফুল জমে আছে আকাশের গোপন পকেটে,
আজো খুঁজে ফিরি।
পাথরে পাথর ঘষা আগুন থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে যে  তারার ফুলগুলো ,
আমি কুড়িয়ে নিয়েছি ,
মায়াবতি স্বপ্নের ভেতর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি এক টুকরো চাঁদ।

গন্তব্য অজানা-
ঘাসফড়িংয়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে
আমিও যে কতবার ঘাস হয়ে গেছি তৃণমূলের জলকণা জানে ।
আজ আবার-
আনমনে ঢুকে পড়ি এক ছবিঘরে
দেয়ালে ঝুলন্ত ক্যানভাসে খুঁজি
মেঠো আলপথ, শিশির ছড়ানো সর্ষের ক্ষেত।
মরফিন-চর্যায় নিঃসাড় পড়ে আছে যে অচেতন দেহ
সে কি সন্নিবদ্ধ হাতের কপাট খুলে হারিয়ে ফেলেছে জাদুর কপোত!

01 January 2016

নাজনীন খলিল





প্রতিটি উড়ালের আগে পাখিকেও শিখতে হয় আকাশের ভাষা।
শিল্পিত আঁচড়ের টানে
আঁকা হোক বা না হোক নাম
কি আসে যায়?
আকাশে কেউ লিখে হা-হুতাশ,
জলের গোপনে হাত রেখে
কেউ খোঁজে পাথরের নুড়ি।
স্মৃতি থেকে তুলে আনছি কেবলই খড়কুটো;
যদি বাসা বোনা যেতো কোন
পাখির আদলে!

বালি-পাথরের হৃৎপিন্ডে রক্তক্ষরণ হচ্ছে,
লুনাটিক হয় কেন কল্পবিলাসী মানুষ?