Showing posts with label যুগল কবিতা. Show all posts
Showing posts with label যুগল কবিতা. Show all posts

11 May 2019

যুগল কবিতা —আকিব শিকদার



ভালোবাসা পেলে, না পেলে
ভালোবাসা পেলে সব আগুন হবে জল
মরা গাছে ফুটবে কমল।

শ্যাওলা ধরা প্রাচীরের ছায়ায় বসবো দু’জন
মৌমাছি হয়ে চুষে নেবো তোমার যৌবন
নিজেকে উজাড় করে বিলিয়ে দেবো যখন তখন।

যদি ভালোবাসা না পাই তবে
সোনার সিংহাসন কালান্তরে মাটিতে মিলাবে।

06 March 2018

যুগল কবিতা—রিকি দাশ



শব্দঝরা শ্রাবণ
শব্দসমুহের অশ্বমেধ যজ্ঞ চলে শরীরী বৃন্দাবনে।যেন জেগে আছে শব্দঝরা শ্রাবণ অনন্তকাল ধরে ঘোরের, বিস্ময়ের ঝুলবারান্দায়।পোষা গাছের মতন কান্ডে ঝুলতে থাকে অহম, আনন্দ, ক্রোধসমুহ। শব্দমোহের তীব্র হাত যেন ডেকে আনে বহুদুর।বদলায় আকাশ,বদলে যায় শরীরঘ্রাণ। আলিঙ্গন করে শহর ও সন্ধ্যার যত ফলাফল। নড়বড়ে দাঁত নিয়ে সিঁড়ির নিচে নামতে থাকে এক একটি পা!

বিমূর্ত নেশায় আগলে ধরে শব্দজ্বর।
শব্দদ্রোহের ভার নিয়ে বিষণ্ন এক পারফিউমে চন্দন তিলকে কপাল চুইয়ে কাঠ পেন্সিলের দেহ ভস্ম হয়ে যায় শব্দঝরার শ্রাবণে...


যুগল কবিতা—সঞ্চারিণী



নক্ষত্র স্থির 
ধীরে নিঃশ্বাস...
যেন বাতাস—ও না কেঁপে ওঠে; আশেপাশে।
নক্ষত্র হারানো রাত
দেয়ালে কেবল নিজের-ই ছায়া দেখে; জানলার কাছে

মন জুড়ে ভালো লাগা...
তোমার চোখের তারা দু’টো জ্বলে; কী গভীর বিশ্বাসে।
কেমন বদলে দিলে!
মেঘের বেগনি ছুঁয়ে স্বপ্ন এঁকে দিলে চোখের কাজলে।

21 December 2017

যুগল কবিতা- আকিব শিকদার


নড়বড়ে অভিমান
হাসিতে তার মিষ্টতা বড়ো, পিঁপড়েরা চেটে খাবে
কথার খোঁচায় এমনই জোর, যমদূতও মরে যাবে
এমন পুরুষ সাত জনমে দেখিনি তো আগে
তবু তাকে কেন যে আমার এত্তো ভালো লাগে!!

চার দেয়ালে বন্দি আছি বেদের বাক্সে সাপ।
পুতুল নাচের পুতুল- নাকি বাজিকরের বানর...!
তার ইশারায় নাচি কেবল একের পর এক ধাপ।

25 October 2017

নিয়াজ সুমন





স্বপ্ন
শরৎ আকাশে দুধসাদা মেঘের আল্পনায়
গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের নরম ছোঁয়ায়
হাতে রেখে হাত বলেছিলে সেদিন
যাবেনা ছেড়ে আমায় কোনদিন।

ভালোবাসার বিশ্বাসে আবদ্ধ হয়ে
রঙিন স্বপ্ন বুনেছিলাম তোমায় নিয়ে
স্বপ্নগুলো এখনো সতেজ আছে
শুধু তুমি নেই আমার পাশে।

25 September 2017

আকিব শিকদার




চোখ ত্যাড়া
মহাত্মা গান্ধী করেছিলেন তেরো বছর বয়সে, শেখ মুজিবকেও
আঠারোতে বিয়ের পিঁড়িতে
বসতে হয়। আর রবিঠাকুর...?
সে যুগের সবাই কমবেশি
মুকুল ধরতে না ধরতেই বয়সী বকুল।
দাদারা ভারি কাচের চশমায় পড়তেন সংবাদপত্র। কোথাও
ধর্ষণ নেই, শব্দটা অভিধানে ছিল না নাকি...!
বউকে কুপিয়ে তিনারা এতটাই
ঘেমে যেতেন যে ধর্ষণ করার সুযোগই জোটেনি ঘর্মাক্ত কপালে।

22 August 2017

হীরামনি দাশ




বেওয়ারিশ উত্তর
গভীর নৈঃশব্দ হতে উত্থিত, এক অমোঘ কণ্ঠস্বর, বলে ওঠে "
তুমি কে? কে তুমি পথিক? "

নিজের চারণভূমিতে মগ্নতার কোলাহলে হেঁটে চলেছে পথিক ;
ভীষণ চমকে থমকে দাঁড়ায়!
বুঝতে চেষ্টা করে, কে সে? কার স্বর?  সেই বা কে?
মাতাল এক ঘূর্ণি  হাওয়ায় পথিক বেওয়ারিশ হেঁটে যেতে যেতে ভাবলো,
এই দুঃসহ অসময়ে কে তাকে ডাকবে?
না,  কেউ তাকে ডাকবে না আর!
নির্বিঘ্ন নিশ্চয়তায় পথিক যেই পা বাড়াল; আবার ভেসে এল সেই কন্ঠ......
"কই বললে না তো?"
ঘুরে দাঁড়ায় পথিক।
নিরীক্ষার পাঠ শেষে,
রাত্রির অনন্ত নিস্তব্ধতা কন্ঠে ধারণ করে অবশেষে বলল,
"আমি? অসময়ের ভুল বিবেক! কোন এক শীতে যার শেষ কম্বলটাও পুড়িয়ে দিয়েছিলে, উষ্ণতার জন্য।"

নিষাদ মজুমদার





প্রিয়মুখ
চেনা শহরে বড্ড অচেনা তুমি
খুব অচেনা স্বচ্ছল জীবন।
এই শহরের অলিগলির মত ষড়যন্ত্র নগরায়ন
আমরা সকলেই চিনি শহরকে
চিনি তোমাকে, তোমার গলি,
তোমার বাসার হোল্ডিং নাম্বার
শ্যাওলা ধরা দেওয়ালে লেখা নতুন কোন নাম
খুব চেনা লাগে অক্ষরগুলো
মুছে গিয়েও মুছছে না নতুন এপার্টমেন্টের দাগ,
ড্রেন ছুঁয়ে নোংরা প্রেম,ছলচাতুরীর প্রেম ।

নাজমুন নাহার


মিথ্যাবাদী
যাকে কখনো ভালোবাসিনি
তার সাথে স্বপ্নে ঘুরে বেড়াই ইটালি ,
মসৃন রাস্তায় ট্র্যাকিং করি-

কাল রাতের মোহময় ঘ্রাণ
নিলামে যাবার আগে
ভেড়াগুলো আমার
পাশ ঘেঁষে দাঁড়ায়-

বস্তুবাদী ঈশ্বর জানান
আমার মিথ্যেয় তিনি ক্লান্ত
আবার কবে আমি
সত্য বলা শুরু করবো??

মুনিরা চৌধুরী




ছায়াচিত্র
১.
দূর শৈশবে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে
কাচের টুকরো কুড়িয়ে পেয়েছিলাম
কাচের ভেতরে নিজের চেহারা লুকিয়ে রেখেছিলাম।

নিজের চেহারা লুকিয়ে রেখেছিলাম বাবা-মা, ঠাকুর মা, চন্দ্র-সূর্য্য হতে বহুদূর
দূরতম কোনো গ্রহের গভীরে...

তিরিশটি বছর ঘুমঘোরে ছিলাম

ঘুম-ভেঙ্গে দেখি-
আমি সেই কাচের টুকরো হারিয়ে ফেলেছি   
আমি আপন চেহারা হারিয়ে ফেলেছি।

21 May 2017

লাবণ্য প্রভা






০১
পঙ্খীরাজ ঘোড়ার ডানা ভেঙে গেছে। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে রাক্ষসপুরীর সিংহদুয়ারের সামনে। আমার মাথার ওপর কাঁটা, আর পায়ের নিচেও কাঁটার গালিচা।কাঁটা মাথায় নিয়ে পায়ে দলে পথ অতিক্রম করি; আমি অতিক্রম করি পাপ, পরমাঙ্ক...
রাক্ষসপুরীর চারদিকে জলের পরিখা। ব্যাঙমা-ব্যাঙমী বলেছিল, রাতের কোনো এক প্রহরে পরিখার জল শুকিয়ে যায়। আমি ও আমার ডানা ভাঙা পঙ্খীরাজ অপেক্ষা করি, যেন জল সরে যায়। নগ্ন পায়ে ওই পরিখা পার হতে হবে আমায়।
হায়!
মা আমার রাক্ষসপুরীর অলিন্দে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এক চন্দ্র
দুই চন্দ্র
তিন চন্দ্র
সহস্র চন্দ্র বৎসর পার হয়ে যায় ... আমিও  বেড়ে ওঠি রাক্ষসের উদরে। কেবলই বেড়ে উঠি,পালাবার পথ খুঁজে পাই না।
কোনো রাজপুত্র আসে না আমার জন্য। ব্যাঙমা-ব্যাঙমী সারারাত অলৌকিক বৃক্ষের ডালে বসে কাঁদে। তাদের ক্রন্দনে বৃক্ষের পাতা ঝড়ে পড়ে। ঝরা পাতারা সর্প হয়ে বাগানে নৃত্য করে। আমি রাক্ষসের উদরে বসে থাকি, দাঁড়িয়ে থাকি...

16 May 2017

সৈয়দ শিশির






সময়গ্রস্ত
যান্ত্রিক ত্রুটিতে ট্রেন বিকল হওয়া এক মধ্যরাতে
আবাসিক হোটেলে ভোরের সূর্য দেখার অপেক্ষার পর-
সাময়িক প্রতিবেশীর খরিদানি আর সুখের প্রলাপ শুনে
অবাক বিস্ময়ে নিজেকে আবিষ্কার করি দালালের হাসিতে।

এভাবে নিজেকে আরও একবার আবিষ্কার করেছিলাম-
প্রিয় বন্ধু খালেদের দেওয়া ভুল ঠিকানায় সুইচ টিপে;
যে ঠিকানায় একই ফ্লোরে বসবাস করে ফুল আর কীট।
কীটের উল্লাসে যেখানে বিবর্ণ হয়েছিলাম ফুলজলে।

দালালের চোখে যেমন কমিশন ছাড়া আর কিছুই ভাসে না-
তেমনি, কীটের নর্দমায়ও সময়গ্রস্ত ফুল হাসে না।


14 May 2017

তুহেল আহমেদ






বেঁচে থাকুক নীল জল

অসীমের শূন্যে বা শূন্যের অসীমে ,
মিল্কিওয়ের  প্রতিটি  বালুকণায়
বা  অখেয়ালের  দেয়ালে, খসে যাওয়া রংয়ে  ,
তীরহীন নদীর মোহনায় বা অবহেলার ভাঙা  কাঁচের  টুকরোয় ,
বেঁচে  থাকুক  তোর  ঘৃণা,
তাচ্ছিল্য  ভরা  নিঃশ্বাসের  রেশ...
বেঁচে থাকুক আজন্মলালিত ভালোবাসার আঁড়ালের কামুক লোভ , তোর ভালোবাসা …

তোর চোখ তোর মায়াময়ী কন্ঠস্বর , তার গান ,
বেঁচে থাকুক নীল জল…
ঘরের কোণে অবহেলিত  মুচড়ানো  কয়েক চিঠি ,
ধুলিমাখা ডায়েরীর পাতাগুলির ধুলো , বেঁচে থাকুক …
বেঁচে থাকুক বিকেলের রোদ,
পাহাড়ের সবুজ স্বপ্নের সেই ফোস্কা কুঁড়ানো, দৌড়ঝাপ  ,
তোর ঘরের পর্দার ভাজে আটঁকে থাকা কত  শত  মজার গল্প ,
হাসা-হাসি দু' এক অশ্লীল কৌতুক …
বেঁচে থাকুক সন্ধ্যার বুক,
জোনাক পোকার পালকের ছোঁয়া বা
তাদের আলোর ভালোবাসা বিলানো  শহর …

আকিব শিকদার





অফিসে যাবার বেলায় আমি আর বাবা
হাতে পায়ে লোশন মালিশকালে পড়লো মনে
বাবা তো এ বস্তু মাখেনি কখনো গায়ে...!
নাকে মুখে ছাঁকা ছাঁকা সরিষার তেল মেখে বলতেন-
‘খাঁটি জিনিস, বড়ো উপকারী, চোখে ধরলে আরও ভালো’
সে যুগের মানুষ ছিলেন কি না
এ যুগের কি বুঝবেন...! অথচ লোশন
তখনো দোকানে পাওয়া যেতো ঠিকই।

13 April 2017

রায়হান মুশফিক







পোস্টমর্টেম
এই ফিরে এসো! ফিরে এসো!
ওদিকটায় যেও না।
ঐ যে দরজার ওপাশে কাঁঠালি রং টেবিলটার 'পরে মেয়েটা পড়ে আছে,
নিথর দেহ!
মাথার খুলি, কপাল, বুক থেকে তলপেট অব্দি ফেড়ে রেখেছে আব্বাস ডোম।
ময়নাতদন্তের এখনো কিছু বাকী!
এত কাটাকুটি!


11 April 2017

রুদ্র নীলিম





মোমের আলোয় আঁকা- ২০০৪
কি একটা আঁকবো বলে সকালে তোর কফির কাপ কেড়ে নেয়া রোদ আর আমার
গোপন আঁতাত;তুই উড়ে গেলি ঘুড়ি হয়ে বিহানের কুয়াশা ফুঁড়ে; দারুণ গতি ছিল;
আকাশে চোখ চাওয়া কতদিন কতকাল জানা নেই
আমিও অপেক্ষার পাগলা রক ওয়েটিং এ ভাঙা এক চেয়ারে কাটিয়ে দিলাম
গণনা বিহীন কুয়াশা বয়স;বসন্ত আর শিমুল তুলো মাখা চঞ্চল চোখ চাওয়া
অথচ তুই বর্ষার ছাইভস্ম মেখে দাঁড়ালি বিকালি জানালায়। মাঠ ভর্তি বিদি ঘাস ঠায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলো,চিনেছিলি সাঁঝের ঘরফিরতি রাখালেরে; হাতে আধহাত মাপের শাসনের মসৃণ লাঠি।
তুইও ফিরে গেলি
তুইও রেখে গেলি
তুইও মেখে গেলি নাগরিক প্রসাধনী;নীল রঙ মনে রাখা অবাধ্য আঁকিবুঁকি
আমার ক্যানভাস চুরি হয়ে গেলো যেটায় তোর ছাপে একটা অসমাপ্ত সুখের মানচিত্র আঁচড় লুকানো ছিলো

তুফান পণ্ডিত





যে পথ গিয়েছে চলে
যে পথ গিয়েছে চলে...
বহুদূরে ...সীমাহীন,
সবুজের বুক চিরে ক্রমশ ধূসরিত
তরঙ্গের মতো দ্যোদুল;
সে পথে আজ আমি একা
যা ছিল পাথেয় ফুরিয়েছে প্রয়োজনে।

নিয়াজ উদ্দিন সুমন




একসাথে দুজন
ফাগুন এসেছে শুষ্কতা ঝেড়ে
সজীবতায় নতুন ভাবে রাঙাতে
কৃষ্ণচুড়া আর শিমুল ফুলের রঙে রঙে।

ফাগুনের এমন উতল হাওয়ায়
প্রকৃতির নয়নাভিরাম সাজসজ্জায়
মন যে তোমায় কাছে পেতে চাই।

09 April 2017

তুহেল আহমেদ





জোৎস্নাপন্থী বিপ্লব
আজকের সন্ধ্যার আকাশ গলে নেমেছিল এক ঝাঁক নিয়ন আলো
জানালার বেঁকে যাওয়া গ্রিলের ধুলো মাখা পটে
নিষ্পাপ ধূসর বর্ণদের মিছিলে
মিশে ছিল চুপিসারে এক সমুদ্র কালো জল।