Showing posts with label মামুন ম. আজিজ. Show all posts
Showing posts with label মামুন ম. আজিজ. Show all posts

22 August 2017

মামুন ম. আজিজ



(১)
‘ভালোবাসা এবং ভূত দুটোরই কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু মজার বিষয় হলো আমরা এ দুটোকে আঁকড়ে বাঁচি। আমাদের মনের ভেতরটা ভালবাসা এবং ভূতের ভয়কে আপন করে এক আপন ভুবন বানিয়ে সেখানে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক এক পর্দা দিয়ে আড়াল করে রাখে। যখনই শুনশান রাতে অন্ধাকারে একাকী হাঁটতে থাকি আমরা কিংবা চেয়ে থাকি শূন্যে অন্ধকার অরণ্যে তখন সেই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পর্দায় ভূতের কল্পিত অস্তিত্বে নিউরনের অনুরণ ঘটে এবং আমরা কেঁপে ওঠি। ঠিক তেমনি যখন মনে হয় কাউকে ভেবে ভাল লাগছে, কেউ আমাকে ভাবছে, আমার মত করে আমার কাছে থাকছে, কিংবা কাউকে মনে হচ্ছে কাছে আসলে, কথা বললে আমার ভাল লাগবে তখনও সেই ভাল লাগার একটা সংকেত ইলেকট্রোম্যাগনেপিক পর্দায় আবার অনুরণ ঘটায় এবং আমরা কেঁপে ওঠি। দুটি কাঁপার মধ্যে কেবল একটাই তফাৎ, একটার সাথে মৃত্যু ভয় জড়িত আরেকটির সাথে বেঁচে থাকা সুখ...’
এরকম একটি কাল্পনিক দর্শন আমি রুহিকে পড়ে শোনাচ্ছিলাম। আমারই লেখা। এ কোন গবেষণা প্রবন্ধ নয়। কাল্পনিক দর্শন। কিন্তু সত্যি আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা আর ভূত দুটোরই কোন অস্তিত্ব নেই।
রুহি আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল। ও আর শুনতে চায় না। ইনফেক্ট আমার মিষ্টি মধুর কোন কবিতাও সে শুনতে চায় না। শোনাতে গেলেই থামিয়ে দিয়ে বলে চুপ করে কিছুক্ষণ আমার হাতটা ধরে থাক। কি আর করার। আজ অবশ্য তেমনটি করলো না। একটু অন্যরকম দেখালো তার মুখের অভিব্যক্তি। একটু কর্কশ হয়ে উঠল মিষ্টি কণ্ঠস্বর। বললো, তোমাকে আমি সত্যি একদিন ভালোবাসা আর ভূত দুটোই একসাথে দেখিয়ে ছাড়বো।
রুহি দুটোতেই বিশ্বাস প্রবল। সে আমি জানি। তবু আমি হেসে উঠলাম। সে আরও ক্ষিপ্ত হলো। বিষয় ওখানে থামানো যেতে কিনা জানি না। আমি চেষ্টা করি নি। ও বললো, আমি তাকে ভালোই বাসিনি আসলে কোনদিন। বাসলে ভালোবাসার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারতাম না।
আমি তখনও তার রাগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি নি। পারলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। কিন্তু আমি তো মানি যেমন হয়েছে সেটাই বাস্তব। কি হলে কি হতে পারতো তাতে পৃথিবীর কচুটা এসে যায়।
ও ভীষণ রেগে গেলো। 

25 May 2017

মামুন ম. আজিজ





সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে রাস্তায় এক পা দেয়া মাত্রই মনে হলো ওমন একটা মিথ্যা কথা শিলাকে না বললেও হতো। শিলা আমার স্ত্রী। মিথ্যা কথা গাছের শিঁকড়ের মতো, ভেজা মাটি পেলেই শাখা প্রশাখা বাড়াতে থাকবে। অপরিকল্পিত মিথ্যা নিয়ে শেকড়ের শাখা গজানো বেশিক্ষণ ঠেকানো যাবে না। কল দিয়েই দিলাম। দিয়েই মনে হলো আরও একটা ভুল হলো। মাত্র সকাল ৮টা, ছুটির দিন, ওর ও ক্লাশ নিতে যেতে হবে না। আমারও অফিস নেই। স্বভাবতই আমি সিঁড়ি দিয়ে চারতলা হতে নামতে নামতে ও আবার ঘুমিয়ে পড়তেই পারে। সেই ঘুম ঘুম অবস্থায় যখন শুনালাম, শিলা তোমাকে আসলে মিথ্যে বলে এসেছি, তুমি তো জানো আমার অনিদ্রা রোগটা বেড়েছে। স্বপ্নের পরিমাণও বাড়ছে। তোমাকে না বলেই একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে গিয়েছিলাম। তারই চিকিৎসার অংশ হিসেবে এই সাত সকালে ছুটির দিন বেড়িয়ে পড়া। আমার মোবাইল বন্ধ থাকবে। তুমি কিন্তু চিন্তা করো না।’