এই আসমান, অসমান, মেঘাবৃত, মেঘালয়ের
কাছাকাছি, তোমাকে দেখি না আর। আছো সুখে, জানি,
সুখ, প্রকৃতপক্ষে তোমাকেও কাবু করে ফেলে। বিকেলের ঘুড়ি আঁকা ফুল কিংবা ফুল আঁকা ঘুড়ি
ভেবে আকাশের দিকে যাই। বালকবেলা, স্মৃতিঘোড়া। ফালি ফালি চাঁদ। জানলায় লটকে থাকা। আর নদীর গন্ধে আকুল। আমিও জানি, আরো কিছু রাত্রি হোক, রাত্রি হোক।
Showing posts with label বাবুল হোসেইন. Show all posts
Showing posts with label বাবুল হোসেইন. Show all posts
22 August 2017
25 January 2017
বাবুল হোসেইন
বাস্তুসাপ অথবা জীবনানন্দের পেঁচা বিষয়ক কবিতাসমগ্র
পুরোনো বাড়ির যে অংশটাতে আমি থাকি সেটা
মোটামুটি বেশ আরামদায়ক এবং নির্ঝঞ্ঝাটই মনে হইছিলো। আমার ভূতে প্রেতে দেবে বিশ্বাস
নেই, ভয়ও পাই না। দোতালার নীচে আমি থাকি একরুমে, পাশের রুম দুইটা পরিত্যক্তই বলা
যায়। দোতালায় কেউ থাকে না। মাঝে মাঝে একজন পাগলিনী এসে থাকেন। একদিন আমার রুমে
ঢুকে বলতেছেন, আমার খাবার কোথায় হারামজাদা, আমার কাঁথাকম্বল কোথায়? আমি তো অবাক,
বলে কী? ঠিক তারপরেই, দেখি, সারা বাড়িতেই আগুনের হলকা। আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি উনি
আগুন জ্বালাইতেছেন আর এতো বেশি লাকড়ি দিছেন যে, সেই তাপ সমস্ত বাড়ি আলোকিত হয়ে
গেছে। আমি জিজ্ঞেস করতেই উনি ক্ষেপে গেলেন। আমার শীত লাগলে কার বাপের কী? আমি ফিরে
আসবো শুনি, উনি আমাকে গালি দিচ্ছেন, হারামির বাচ্চা বলে। পরে শোনলাম, উনার একমাত্র
ছেলে অজিৎ, যে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, সেই ছেলেকেই তিনি সারাদিন
গালাগালি করেন, এইটাই তার পাগলামি।
14 July 2016
বাবুল হোসেইন
গোপন কান্নাটুকু
গোপন কান্নাটুকু গোপনই থাক, অধরা জ্যোৎস্না ছুঁয়ে করতলে
রেখেছি প্রণয়। গহিন দরোজা খুলে দেখেছি এখনো সেখানে আছে কান্নার বুদবুদ। যা কিছু
লোকায়ত তার অফুরান দুঃখগাঁথা আহত করে যায় সময়ের দাপট। সময় এক অদ্ভুত খেয়ালি ঘোড়া—দৌড়ুচ্ছে ক্রমশ দিগ্বিদিক।
যে নদী হারিয়ে যায় তার দায় নেই উজানের হাহাকার।
সেইসব গোপন গোলাপ
দৃশ্যাবলী ফুড়ে উঠে গহিনের ডুবসাঁতার। গোঙানির রঙ রপ্ত
করেছি কৈশোরিক উত্তাল দিনে; যুদ্ধের দামামা যখন বেজেছে কেবল। উজানের স্মৃতি
ভাটিতেও পুড়িয়ে দেয় যা কিছু সুন্দর, যা কিছু
নান্দনিক। আহত ডানা শুধু উড়তেই পারে না, উড়ালের তীব্র
আকাঙ্ক্ষাকে পরাজিতও করে দেয়।
সেইসব গোপন গোলাপ সুবাস ছড়ানোর আগে ঝরে যায়।
কখনো ছুঁয়ে দেখিনি আকাঙ্খার রঙ
কখনো ছুঁয়ে দেখিনি আকাঙ্খার রঙ, কতটা রঙ্গিন হলে দৃশ্যের ভিতরে নতজানু অদৃশ্য অথচ
স্পষ্টবাদিতার চিহ্ন সকল। জানালার দৃশ্যান্তরে কখনো কাঠবাদামের পাতারা ঝিরিঝিরি
ঝরে যায় হপ্রলয়ের দিন, বিরহের মনস্তাপ। কখনো ছুঁয়ে দেখিনি স্বপ্নের আদিম
উৎস স্মৃতিকূয়া থেকে
উঁকি মারে হারানো চোখের জল, বৃষ্টির সন্দিগ্ধ ফোঁটা।
আমার কি কখনো
ভেজা জ্যোৎস্নার রাতে কাতরতা বিষয়ক হাবিজাবি দৃশ্যবন্দি
হয় নিমগ্ন চোখের ক্যানভাসজুড়ে। পোড়াকাল, হারানো
জিরাফের গ্রীবা, ফুলের উড়ে যাওয়া পরাগের দুঃখ এইসব ছুঁয়ে দিতে
ইচ্ছে করে ভীষণ। রাত বিষয়ক যাবতীয় বিভ্রম সরল আলোর মত চুঁইয়ে পড়ে দৃষ্টির করিডোরে।
এইসব রাতে আমার হারাতে নেই, হারাতে নেই পুরোনো খাদে, কিনারে দাঁড়িয়ে একা ঝুলে থাকা শূন্যসময়, আমার কি কখনো মরে যেতে ইচ্ছে হয়।
15 June 2016
বাবুল হোসেইন
প্রস্থান পর্ব: ১
হিম
বাতাসের গায়ে কাঁটা দেয়া ঘ্রাণ। সকালের ত্রস্ততায় তোমাকে বলিনি সেইসব অনাদি
দৃশ্যের ভিতর বাহির। আমার জানলা খোলে রেখেছে কে যেনো—দূরের ছায়াবন। শিস তোলা দোয়েলের গলায় ঠাণ্ডা মেজাজ। ছায়াবনে
ঝিরিঝিরি সুরের মূর্ছনা। আর আমি জমে জমে একাকার সেই পাখিঘুম, সেই পাতাগানের কৌলীন্যের ভিতর। শীতের তীব্রতা ভেঙে যাচ্ছে
কৌলীন্যের গহিন থেকে।
দূরে, ছায়াবনের ফাঁকে দোয়েলের মগ্ন শিসের ভিতর কে যেনো হারানো
দিনের সিম্ফোনি গলায় তুলছে একা একা আমি তার রাখিনি খবর।
প্রস্থান পর্ব: ২
প্রত্মদিনের
ভাঁজে হারিয়ে গেছে তোমার নাকফুল। বাতায়নে বসে তুমি হারিয়েছো কাজরের রঙ। ঘাতক সময়ের
কাছে জমা রেখেছি আমাদের অস্ত্রবিদ্যার সকল চাতুরী। চষ্ণুতে অনাগত দিনের ভাবনা নিয়ে
চড়ুঁইয়ের প্রস্থান। আমাদের সন্তানেরা দিনে দিনে থিওসফিস্ট হচ্ছে। স্টেথোস্কোপের
মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ঊর্ধ্বগতিতে। তুমি কি মনে করতে পারো তোমার নাকফুলের নকশা
কিংবা কাজরের গভীরে বেদনার অভিমানী চোখ।
কোথায়ও
আমাদের যুগলবন্দি উল্লাস মনে পড়ে না, মনে পড়ে না, মনে পড়ে না।
প্রস্থান পর্ব: ৩
কৃষ্ণবিবর
কোথায় লুকিয়ে থাকে। কোনখানে বাস তোমার হে বিপ্রকর্ষ আন্ধার। আমাদের আলোহীন দিনের
শেষে তোমাকে খুঁজে পেতে চাই প্রিয়তম রাত্রি। কখনো মনে রাখিনি বৃদ্ধাশ্রমের স্মৃতিতে শোকপ্রস্থান। অন্ধকার জীবনের
উল্টোপিঠে আলোকোৎসব শেষে তোমাকে
খুঁজে পেতে চাই হে কৃষ্ণবিবর,হে অন্ধজনের
সখা।
02 March 2016
বাবুল হোসেইন
গল্প
ঘটনাগুলো কোরিলেট করে না। মানুষগুলোও। কে
কোথায় যাচ্ছে, কে কি করছে এইসব নিয়ে একটু
দোনামনায় থাকতে হয়। একজন মেশিনের কলকব্জা ঠিকঠাক করেতো অন্যজন সিবিচের বাতাসে
শাদাবসন উড়ায়। তারপর ঘটনায় একজনকে দেখি খুন হয়ে যায়। আমরা হা করে তাকিয়ে থাকি। কে খুন
করলো কেনো খুন করলো কিছুই বুঝি না। রক্তের স্থিরচিত্রে একজন মুঠোভর্তি মাটি নিয়ে
কসম করে খুনের বদলা নেবার। এবং গল্পের কাহিনীতে আমরা ঢুকে যাই। এবং দেখি একটা চমৎকার গল্প বলে যাচ্ছে একজন। কথক।
সবি প্রিটোল্ড। মানে আগে বলা হয়ে গেছে এরকম
মনে হচ্ছে। পুরোনো প্রেম চিবিয়ে তিতা বানানোর সকল ফর্মূলা। তবুও কোথায় যেনো একটা
বাঁক আছে। মানবিকবোধগুলো তাড়া করে সামনে এগুনোর। যেতে থাকি যেতে থাকি। এবং এক সময়
গল্প শেষ হয়ে যায়। এবং একটা শূন্যতার ভিতর সব গুলিয়ে ফেলি। এতো আমারই গল্প। এতো
আমার প্রতিবেশীর গল্প। আরে নাহ! এ দেখি সকলের গল্প। জীবনের
গল্প। গল্পের মাঝখানে ঢুকে গেছে বৈচিত্রের ঢেউ যা পূর্বে বলা গল্পকে ছাড়িয়ে যায়
দিগন্তে। এবং কিছুটা দ্বিধা কিছুটা হাহাকার ছড়িয়ে আমাদের সকলের গল্প হয়ে উঠে।
বাঁকে বাঁকে ঢেউ ভেঙে পড়ছে সনাতন নদীর পাড়ে
এবং সে বিস্তার অনেকদূর অবধি। কেউ সেখানে পালতোলা নৌকার মাঝি কেউ মাছেদের চিরশত্রু- তোলে
নিচ্ছি সমস্তমীনবালকদের। আর আমরা বসে বসে দেখি। সেই আর্তিসকল। এবং গল্পের বুনোপথে
হঠাত একজন বলে এসে তার পুরোনো অসুখ। মাঝরাতে জেগে থাকা সমস্ত চরাচর তার দিকে তাক
করে থাকে। ভেঙচি কাটে। বিদ্রুপ করে। ভয়ে সে কুঁকড়ে যেতে থাকে, গুটিয়ে
যেতে থাকে নিজের ভিতর থেকে বাহির অবধি। সিজোফ্রেনিক আর্তনাদ।
আর এইসব ট্র্যাজিকসিনারিজ ভুলতে ভুলতে পর্দায়
আসে একটা শান্ত নদীর ছবি- যার জল সমস্তই নীল। কিংবা
বেদনা বলে যাকে আমরা সবসময়ই ভুল করি। একটা জলস্থির সুইমিংপুল যেনো। একটা তিরতিরে
আকাঙ্খা নিয়ে চেয়ে থাকি। আর সেখানে আমাদের বিগত জন্মের সব হাহাজারি, অতৃপ্তি
ও বেদনারাশি স্তুপাকার। স্নানরত বালিকাদের নিভাঁজ বুকের ফ্রেমে একপাল প্রজাপতি
উড়ে। আঁচিলের ফ্লেভারে মুগ্ধ পতঙ্গ। আর পুস্পবতীদের পরাগরেণু উড়ে যায় ক্যামেরার
কৌশলি চালনায়। আমরা মুগ্ধ হতে থাকি।
কোন এক মে মাসে সিরাজুল বাঁচতে
চেয়েছিলো
আমার বন্ধুদের মধ্যে যার কথা সবচেয়ে বেশী মনে
পড়ে,
সে সিরাজুল। অথচ তার সাথে আমার তেমন কোন
আহামরি সম্পর্ক ছিলো না, যেমনটা দোস্তদের মধ্যে হয়। কলেজে আসতো, ক্লাসে এটেন্ড করতো, স্যারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো, এই যা, যেমন আমিও। সিরাজুলের মাথাভর্তি চুল, সরল অভিব্যক্তি, হ্যাঁ বলার ধরণ, অবাক হবার ক্ষমতা সব মিলে আমি তাকে মনে
রেখেছি এরকমও না কিন্তু, আবার এটাও না যে সে খুব ভালো ছাত্র ছিলো, সারাক্ষণ সবার সাথে লেগে থাকতো, কিংবা বিনয়ী কিংবা লাজুক কিংবা দুঃখী কিংবা সাধাসিদা খুব।
আমার অন্য বন্ধুদের সাথে অনেক স্মৃতি আছে যাদেরকে জীবনের পড়ন্তবেলায় এসেও মনে করতে
হবে,এমন কিছু আছে যেটা অতলান্ত হৃদয়ের মাঝে গাঁথা, অথচ সিরাজুলের সাথে বস্তুত আমার কোন স্মৃতিই নেই মনে রাখার
মত। ডাকবাংলোর মসজিদে দুয়েকদিন যোহরের নামাজে সিরাজুলকে দেখেছি আলাদা করে, কলেজের বাইরে, এরপর আর কোন আলাদা স্মৃতি পর্যন্ত নেই। অথচ বন্ধুদের মুখ মনে করতে গেলে ওর
মুখটাই একটা সহজপাঠ আয়না হয়ে সামনে ঝুলে থাকে।
মরে গেলে কি সবকিছু স্মৃতিবহ অর্থবহ হয়ে যায়? লাভ কি তাতে।কার লাভ?
সিরাজুলের সাথে আমার পরের ঘনিষ্ঠতা একটু
জটিলই। যোগাযোগহীন অনেকদিন পরে জানলাম সিরাজুল ক্যান্সারে আক্রান্ত। সিলেটের
ডাক্তারদের রেফারেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, দীর্ঘ ঝামেলা মাড়িয়ে ঢাকা মেডিকেলের সিটে শুয়ে সিরাজুল ভাবছে কিংবা ভাবেনিকে
জানে,
আমাদের কথা। জানার পরে কোন একদিন অফিসের
ফাঁকে,
কিংবা এক শুক্রবারে দেখতে গেলাম, আহা সেই মুখ আমি দেখি নি কোনোদিন। রেডিয়েশনে পড়া চুলে
সিরাজুল এক আগন্তুক কোন, যার সাথে আমার কোন সংস্পর্শই নেই। অথবা
অনেকদিন না দেখা বলে কিংবা দূরত্ব ডিঙ্গানোর ব্যর্থতায় কেউ কাউরে অভিযোগ করিনি, জানলাম রোগের আদিঅন্ত। আমার সাথে বেশ কদিন ছিলো তারপর, মেডিকেলের বারান্দায় আমিও কদিন দেখতে গেছি তাকে, ভিতরে যেতে আমার ভয় বলে। অনেকগুলো থেরাপির ফলে চুল সব ঝরে
গেছে,
শরীরে অনেক রোগের জীবাণু , পেট খারাপ, এলার্জি এসব সয়েও
বলতো বেঁচে উঠার গল্প, পরীক্ষার কথা, এমনকি ওর একটা চাকরী কনফার্ম হবার কথাও। আমি নীরব শ্রোতা না হয়ে আশ্বাস দিয়েছি, গল্প বলেছি জাতিস্মরের, আমাদের ফেলে আসা বন্ধুত্বের রেশটুকুকে বেশ করে ঝালিয়ে ঘষামাজা করে আবার নতুন
করে রাঙতাকাগজে মুড়ে বেঁচে উঠতে চেয়েছি দুজনেই।অমন সরল একটা মুখ, যে মুখের রেখা দৃশ্যমান ক্রমশ, যার শেষদিনগুলো কোন এক বন্ধুকে পেয়ে সামান্য ঝিলিক দিচ্ছে, আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ক্লান্ত হতে হতে
বেঁচে উঠার গল্প ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে, আর আমি প্রতিদিন তাকে দেখতে আসার আশ্বাস দিয়ে মিথ্যেমিথ্যে কোন এক মানুষের
গল্প বলছি, যে এর থেকেও ভয়ংকর ফেজ থেকে সেরে উঠছে
দিব্যি। সিরাজুল জানতো কি কিংবা জানতো না বোধহয়, ও আর বাঁচবে না। আমি কিছুই ভাবিনি, সত্যিকথা বলতে কি এতোকম বয়সে একটা মানুষ মারা যাচ্ছে একথা মুখে আনতে আমার বুকে
আটকে যেতো, তারোপর আমার বন্ধু। অবিশ্বাস্য দোলাচলে দুলতে
দুলতে সিরাজুল জানাতো তার রক্তকণিকার কমে যাওয়া রিপোর্টের আদিঅন্ত, জানাতো ব্লাডকাউণ্ট আর মাথার পড়াচুলের হিশেবনিকেষ, এমনভাবে বলতো যেনো সংসারের দরকারি কোন জিনিশের ডিটেইলিং
দিচ্ছে। আমি অবাক হতাম না, আমি জেনে গেছি ততদিনে ওর প্রাণশক্তি শেষ হবার
আগের রেশটুকু একসাথে আলো দিচ্ছে, দপ করে নিভে যাবে
হঠাৎ। (ক্ষমা করিস সিরাজুল,একথা তোরে
বলিনি কোনোদিন, বললে বোধহয় আমাকে করুণা করতি)।
থেরাপি শেষে কিছুই খেতে পারতো না, হজম শক্তি কমে যাওয়া সহ আরো নানাবিধ জীবাণু নিয়ে কদিন
মেডিকেলের বেডে কদিন আমার সাথে, পরে বাড়ী চলে গেলে
ফোনেই কথা হতো সামান্য। আমাদের অনেক বন্ধুদের কাউকেই আমি রিচ করতে পারিনি
সিরাজুলকে বাঁচাতে, তারপরো চেষ্টা করেছিলাম, হয়নি। কিছু মানুষ আশ্বাসবাণী শুনাতে সবসময়ই ওস্তাদ, তাদের অমৃতবাণীকে আমি পরম ভেবে ভুল করে অনেক কিছু শিখেছি
যদিও কিন্তু যার জন্য এ আয়োজন তাকে তো আর ধরে রাখা যায়নি, সিরাজুলকে বলিনি এসব, শুনলে কষ্ট পাবে, তাছাড়া সে নিজেও অনেকের আশ্বাস শুনতে শুনতে
নিজেরে অপাংক্তেয় ভাবা শুরু করে দিয়েছিলো আগেই। সিরাজুল বাড়ীতেই ছিলো, স্বজনদের মাঝে, বোনদের কথা খুব বলতো ও, বড়াপুকে রক্ত দিতে গিয়েই তো জানা গেলো ওর রক্তের ভিতর ক্যান্সারের জীবাণু, আর এসব নিয়েও সে দিব্যিই আছে।
কোন এক মে মাসে সিরাজুল বাঁচতে চেয়েছিলো, বাঁচাতে পারিনি আমাদের অক্ষমতা, আমাদের দীনতা, ক্ষমা করিস সিরাজুল। এক ভোরে আমি জানলাম সিরাজুল আর নেই। আমি শুনেছি কিংবা
শুনিনি কিংবা কেউ আমাকে বলেই নি সিরাজুলের কথা এরকম করে ভাবতে থাকি, ভাবতেই থাকি।
Subscribe to:
Posts (Atom)




