Showing posts with label অনুবাদ সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label অনুবাদ সাহিত্য. Show all posts

24 March 2016

আবুল কাইয়ুম


আগা শহীদ আলীর কবিতা
 ‘ঢাকাই মসলিন’
প্রতিবেদক ও অনুবাদক:
আবুল কাইয়ুম

বিশ শতকের শেষ দিককার বিশ্বকবিতার সহসা ঝলকিত আলোরশ্নি আগা শহীদ আলী (১৯৪৯-২০০১), যিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আধুনিক কবিতায় একটি নতুন আবহ সৃষ্টিতে প্রয়াসী হন। তাঁর নিজেরই ভাষায়, এ তাঁর ‘বহুমাত্রিক নির্বাসন’। ভারতের শ্রীনগরে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। ভূস্বর্গ কাশ্মিরের মনোরম পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। কাশ্মির ও দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন এবং ভারতে ইংরেজিতে দুটো কবিতা-পুস্তিকা প্রকাশের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। অত:পর পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজি সাহিত্যে পিইচডি (১৯৮৪) এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সৃজনশীল সাহিত্যে এমএফএ (১৯৮৫) ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক কবিতা-সাহিত্যের প্রতিষ্ঠানিক বলয়ে অবস্থান করে এবং সমকালীন মার্কিন কবিদের সান্নিধ্যে তাঁর কবি-প্রতিভা পরিশীলিত হয়। চেৌদ্দ বছরের মধ্যে তিনি প্রকাশ করেন ছয়টি কাব্য। এগুলো হচ্ছে- ‘দ্য হাফ-ইঞ্চ হিমালয়াস’ (১৯৮৭), ‘এ ওয়াক থ্রু দ্য ইয়েলো পেজেস’ (১৯৮৭), ‘এ নস্টালজিস্টস্ ম্যাপ অভ্ অ্র্যামেরিকা’ (১৯৯১), ‘দ্য বিলাভেড উইটনেস : সিলেক্টেড পোয়েমস্’ (১৯৯২), ‘দ্য কান্ট্রি উইদাউট এ পোস্টঅফিস’(১৯৯৭) এবং ‘রুমস্ আর নেভার ফিনিসড্’ (২০০১)। স্বল্পায়ু জীবনে কবিতার জন্য তিনি পাঁচটি স্বনামধন্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে ফেলোশিপ লাভ করেন, যা তখন অনেক মার্কিন বংশোদ্ভূত খ্যাতনামা কবির জন্যও ঈর্ষণীয় প্রাপ্তি ছিলো। কবিতা রচনায় অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পুশকার্ট পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তিনি পেনলিভ্যানিয়া, প্রিন্সটন ও ইউটাহ্ সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। আগা শহীদ গজলের সাঙ্গীতিক ঐতিহ্যকে পশ্চিমা কাব্যিক ঢংয়ের মাঝে, ইংরেজি ভাষার ধ্বনি ও ছন্দদোলার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ঢাকার মসলিন নিয়ে লেখা তাঁর বিশিষ্ট কবিতা 'The Dacca Gauzes' সমকালীন বিশ্ব-কবিতার অমূল্য সম্পদ। তিনি কাম্মিরি-অ্যামেরিকান কবি হয়েও এ কবিতার মাধ্যমে বাঙালির সোনালি ঐতিহ্যের মহিমাকে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন। নিম্নে এই মহতী কবিতাটির অনুবাদ তুলে ধরা হলো।



‘ঢাকাই মসলিন’
(সারা বছর ব্যবহারের জন্য তারা জমাতে সচেষ্ট ছিলো সবচেয়ে নিখুঁত চমৎকারিত্বপূর্ণ ঢাকাই মসলিন। –অস্কার ওয়াইল্ড/দ্য পিকচার অভ্ ডরিয়ান গ্রে)
------

সেই স্বচ্ছ ঢাকাই মসলিন
যাকে বলা হতো তাঁতে বোনা হাওয়া,
কিংবা ছুটন্ত জলধারা বা গোধূলি শিশির:

এখন মৃত শিল্প,
শত বছর ধরে মৃত। দাদিমা বলেন,
‘আজ আর কেউ জানে না
সেই কাপড় ছিলো কিনা পরার জন্য,
নাকি তাকে কেবলই হতো ছোঁয়া’
।

তিনি একদা পরতেন
ঐতিহ্য সূত্রে পাওয়া এই শাড়ি, অর্থা
ৎ
তাঁর মায়ের বিয়ের যেৌতুক। খাঁটিত্ব প্রমাণের জন্য
একটি আংটির মধ্য দিয়ে অনায়াসে টেনে নেওয়া যেতো
এই ছয় গজ দীর্ঘ শাড়িটাকে।

কয়েক বছর বাদে শাড়িটা ছিঁড়ে গেলে
তা থেকে তৈরি করা হলো
সোনালি সুতোর চেলি টানা বেশ কিছু নকশি রুমাল

যেগুলো বিলি করা হলো
ভাগিনেয়ী আর ননদদের মাঝে;
সে সবও হারিয়ে গেছে আজ।

ইতিহাস থেকে শেখা : ব্যবচ্ছেদ করা হলো
তাঁতীদের হাত,
নিথর বাংলার সেই তাঁত,
বৃটিশ বনিক স্বদেশে চালান দিলো
কাঁচা তুলো।

ইতিহাস যদিও তাঁর কাছে অর্থহীন,
দাদিমা কেবল বলেন-
আজকের মসলিন নামের বস্ত্রগুলো
কতো রুক্ষ ও পুরু মনে হয়
এবং শুধু শর
ৎকালে এখনও ভোরের প্রার্থনা শেষে
সেই সূক্ষ্ম বুনট ফোঁটে যে কারো অনুভবে।

দাদিমা আরো বলেন, এক সকালে বাতাস ছিলো কুয়াশা-চর্চিত,
তিনি আনমনে নিজের আংটির মধ্য দিয়ে
টেনে নিয়েছিলেন সেই ঢাকাই মসলিন।




মূল কবিতা
*********

The Dacca Gauzes
*************************

(...for a whole year he sought to accumulate the most exquisite
Dacca gauzes. -Oscar Wilde/The Picture of Dorian Gray)
------


Those trasparent Dacca Gauzes
known as woven air, running
water, evening dew:

a dead art now, dead over
a hundred years. "No one
now knows," my grandmother says,
"what it was to wear
or touch that cloth."

She wore
it once, an heirloom sari from
her mother's dowry, proved
genuine when it was pulled, all
six yards, through a ring.

Years later when it tore,
many handkerchiefs enbroidered
with gold-thread paisleys

were distributed among
the nieces and daughters-in-law.
Those too now lost.

In history we learned: the hands
of weavers were amputated,
the looms of Bengal silenced,
and the cotton shipped raw
by the British to England.

History of little use to her,
my grandmother just says
how the muslins of today
seem so coarse and that only
in autumn, should one wake up
at dawn to pray, can one feel that same texture again.

One morning, she says, the air
was dew-starched: she pulled
it absently through her ring.

03 March 2016

পিয়ালী বসু



A Girl
Ezra Pound

The tree has entered my hands,
The sap has ascended my arms,
The tree has grown in my breast-
Downward,
The branches grow out of me, like arms.

Tree you are,
Moss you are,
You are violets with wind above them.
A child - so high - you are,
And all this is folly to the world."


কন্যা
মূল- এজরা পাউন্ড
অনুবাদ- পিয়ালী বসু

আমার ভীষণ প্রিয় , আদুরে , চেনা  শরীরের অভ্যন্তরে 
ধীরে ধীরে  বেড়ে উঠছে আশ্চর্য এক চারা গাছ
আমার অন্ত্র থেকে ধীরে ধীরে শুষে নিচ্ছে সমস্ত প্রাণ সঞ্জীবনী 


আমার বুকের গোপন অলিন্দে বেড়ে উঠছে সে 
আমার ভিতর  বিস্তৃত করে চলেছে তার শাখা প্রশাখা

আমার একান্ত আপন  চারা গাছটা
হয়তো এখনও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেনি 
 মধ্য রাতে যখন বাতাসের কলতানের সাথে 
সে পা মিলিয়ে নাচতে চায় 
সুতীব্র  যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠি আমি
আমার সমগ্র অস্তিত্ব 

প্রকৃত এক শিশু  বেড়ে উঠছে শরীরের ঘেরাটোপে 
আমার অহংকার হয়ে
সারা পৃথিবীর কাছে তুই আজও অনন্ত  বিস্ময়
আজ তোর আগমন আমার নারীত্বকে পূর্ণ করতে


01 January 2016

আবুল কাইয়ুম


সিলভিয়া প্লাথের দুটি কবিতা
ভাষান্তর : আবুল কাইয়ুম

সিলভিয়া প্লাথ
(১৯৩২-১৯৬৩)প্রত্যাবাসিত পিতা-মাতার অস্ট্রীয় ও জার্মান রক্ত নিয়ে জন্মেছিলেন আমেরিকার বোস্টনে। তিনি ১৯৫৫ সালে লেখাপড়া লেখাপড়া করতে যান ইংল্রান্ডের ক্যাম্ব্রিজে এবং ১৯৫৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রখ্যাত ইংরেজ কবি টেড হিউজকে। ১৯৬৩ সালে মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে প্লাথ আত্মহত্যা করেন। তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ– ‘দ্য ক্লসাস’ (১৯৬১) এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘এরিয়েল’ (১৯৬৫)। ১৯৮১ সালে তাঁর ‘কালেক্টেড পোয়েমস্‌’ বেরুলে তাঁকে মরনোত্তর পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
এক ধরনের অদ্ভূত প্রকৃতির ভীতি, একপ্রকার হিস্টিরিয়াগ্রস্ত রোগীর মতো বক্তব্য ও দুর্দমনীয় হতাশা সিলভিয়া প্লাথের কবিতার উপজীব্য। তবে অসাধারণ সৃজনী প্রতিভার ছোঁয়ায় তাঁর নৈরাশ্য ও বিষাদ দারুণ শৈল্পিকভাবে বাণীবন্ধ হয়েছে। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দাম্পত্যজীবনের সমস্যা, প্রসব বেদনা, সন্তান পালনের কষ্ট প্রভৃতি ব্যক্তিগত সমস্যা ও কলঙ্কজনক অতীত নিয়ে আত্ম-স্বীকৃতিমূলক কবিতা লিখেছেন তিনি। আত্মহত্যার মাধ্যমে অকাল মৃত্যু তাঁকে কবি হিসেবে বিশ্ববিস্তারী খ্যাতি এনে দেয়।



পাগলি মেয়ের প্রেমসঙ্গীত
আমি চোখ মুদি এবং সমগ্র পৃথিবী মরে গিয়ে ঝুরে ঝুরে পড়ে;
আমি চোখের পাতা মেলি এবং সবকিছু আবার জন্মলাভ করে।
(আমি মনে করি আমার মগজের ভেতর তোমাকেই করেছি নির্মাণ।)

তারাগুলো নেচে নেচে আবির্ভূত হয় লাল ও নীলে,
স্বেচ্ছাচারী কালো দ্রুত ধেবে আসে;
আমি চোখ মুদি এবং সমগ্র পৃথিবী মরে গিয়ে ঝুরে ঝুরে পড়ে।

আমি স্বপ্নে দেখি, তুমি আমাকে সম্মোহনে নিয়ে গিয়েছিলে শয্যায়
এবং চন্দ্রাহত করে গেয়েছিলে আমায়, চুমুতে চুমুতে করেছিলে পুরো উন্মাদিনী।
(আমি মনে করি আমার মগজের ভেতর তোমাকেই করেছি নির্মাণ।)

ঈশ্বর আকাশ ভেঙে পড়ে গেল, নরকের আগুন নিস্তেজ হয়ে গেল,
অপ্সরা-অপ্সরী আর শয়তানের অনুচরকূল নিষ্ক্রমিত হলো;
আমি চোখ মুদি এবং সমগ্র পৃথিবী মরে গিয়ে ঝুরে ঝুরে পড়ে।

আমি মনে আঁকি এই ছবি তুমি যেভাবে আসার কথা বলেছিলে তেমনই ফিরে এলে,
কিন্তু বুড়িয়ে গেছি আমি এবং ভুলে গেছি তোমার নাম।
(আমি মনে করি আমার মগজের ভেতর তোমাকেই করেছি নির্মাণ।)

তোমার বদলে উচিত ছিল কালো কোকিলকে ভালোবাসা,
অন্তত তারা বসন্তের আগমনে একবারের জন্যে হলেও আসে।
আমি চোখ মুদি এবং সমগ্র পৃথিবী মরে গিয়ে ঝুরে ঝুরে পড়ে।
(আমি মনে করি আমার মগজের ভেতর তোমাকেই করেছি নির্মাণ।)




প্রভাত সঙ্গীত
একটি স্থূলকায় স্বর্ণঘড়ির মতো ভালোবাসা সঞ্চালিত রেখেছে তোমাকে।
তোমার পায়ের তলায় চাপড় মেরেছে ধাত্রী,
তোমার নীরস কান্না ছড়িয়ে পড়েছে সর্ব পরিমণ্ডলের মাঝে।

আমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত তোমার আগমন অতিরঞ্জনে।
নবীন প্রতিমূর্তি তুমি। উন্মুক্ত যাদুঘরে তোমার নগ্নতা
আমাদের নিরাপত্তার ছায়াপাত। তোমাকে ঘিরে আমরা যেন ভাবলেশহীন দেয়াল।

আমি আর তোমার জননী নই
একখণ্ড মেঘ হওয়া ছাড়া –যে বায়ুতাড়িত হয়ে আয়নায় সেঁটে যায়
প্রতিফলনের জন্য মন্থর অপসৃয়মানতা নিজের।

সারারাত তোমার প্রজাপতি-নিঃশ্বাস
পাপড়ি-মেলা ফিকে-লাল গোলাপ গুলোতে কাঁপন তুললো। জেগে উঠে টের পেলাম:
দূরের এক সাগর এসে উথলিছে আমার কর্ণ-বিবরে।

এক গমক কান্না তোমার, আমি আচমকা শয্যা ছাড়লাম
ভিক্টোরীয় রাত্রিবাস সহ গাভির মতো ওজন এবং ফুলের সুষমা নিয়ে,
আর তোমার মুখে বেড়ালের মুখের মতো স্বচ্ছ হা।

চৌকো জানালাটির শার্সি তার অনুজ্জ্বল তারাগুলোকে করলো সাদা এবং গলাধঃকরণ।
তুমি প্রকাশ করতে চাইলে মুঠোভর্তি যত সঙ্কেত,
তখন বেলুনের মতো উর্ধ্বারোহী হলো স্পষ্ট স্বরবর্ণগুলোর ঝাঁক।



অশ্রু হাসান





কিতাবে/বই 
মূলঃ গুলজার
বন্ধ আলমারির আয়না দিয়ে করুণ দৃষ্টিতে 
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে বইগুলো;
কত মাস গেলো দেখা করি না তাদের সাথে,
অবসরের মুহূর্তগুলো কাটাতাম যাদের নিয়ে
 
সেই মুহূর্তগুলো এখন ইন্টারনেটের দখলে।

বইগুলো ভীষণ মানসিক অস্থিরতায় সময় কাটাচ্ছে,
ওরা এখন ঘুমিয়েও হাঁটার অভ্যাস রপ্ত করে নিয়েছে,
তাদের চাহনিতে করুণ ধুলোর ধূসর আস্তরণ জমেছে।
 
প্রিন্টেড শব্দের জীবন্ত হয়ে উঠা যে গল্প তারা শুনিয়েছে,
আজ সে গল্প মলাটের অন্দরে কোমার রোগী হয়ে আছে
।

সম্পর্কের টানাপোড়নের যেসব গল্প তারা শুনাতো
সেসব আজ অতি-আধুনিকতার কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
কখনো যখন গল্প পড়তে পাতার পর পাতা উল্টাই,
তখন অভিমানী দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পাই
।

জিহ্বার অগ্রভাগে যে আঙ্গুল চলে যেত 
লেগে থাকা পাতার রহস্যদের জানতে,
সে আঙ্গুল আজ মাউসে এক ক্লিকেই
 
অগনিত পাতার রহস্যের জানালা খুলে,
বইয়ের পৃষ্ঠার সঙ্গে থাকা নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক
 
পিডিএফের পৃষ্ঠার সাথে আজ অনুভব হয় কি কারও?
কখনো শুয়ে শুয়ে পড়তাম তাদের বুকের উপর রেখে, 
কখনো বা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কোলের মাঝে রেখে,
কখনো আবার রেহাল সাদৃশ্য মোড়ানো হাঁটুতে রেখে,
তাদের পড়ার অনুভূতিগুলো অন্তরেতে রাখতাম মেখে।

বই থেকে জানা যত শত অজানাকে 
হয়তো জানবো অন্য অনেক ভাবেও।
তবে;
বইয়ের পাতায় পাওয়া শুকনো পাপড়ি
 
পাবে কি কেউ অন্য কোন ভাবেও?
তবে;
বই চেয়ে নেয়া, হাত থেকে পড়ে যাওয়া,
 
পড়ে যাওয়ার পর উঠিয়ে দেয়ার বাহানায়
গড়া সেই সম্পর্ক হবে কি অন্য কোন ভাবেও?

তা হয়তো হবে না আর অন্য কোন ভাবেও।


Kitaben

by Gulzar

Kitaaben jhaankti hain band almaari ke sheeshon se
badi hasrat se takti hain
maheenon ab mulaqaaten nahin hoti
jo shaamen un ki sohbat main kataa karti thi,ab aksar
guzar jaati hain computer ke pardon par
badi bechain rehti hain kitaaben
Unhe ab neend mein chalne ki aadat ho gayi hai
badi hasrat se takti hain
jo qadren woh sunaati thi
ki jin ke cell kabhi marte nahin the
woh qadren ab nazar aati nahin ghar mein
jo rishte woh sunaati thi
woh saare udhde udhde hain.
Koi safha palatTa hun toh ek siski nikalti hai
kayi lafzon ke maani gir pade hain
bina patton ke sookhe tund lagte hain woh sab alfaaz
jin par ab koi maani nahin ugte
bahut si istelaahen hain.
Jo mitti ke sakoron ki tarah bikhri padi hain
gilaason ne unhen matrook kar dala
zabaan par zaaiqa aata tha jo safhe palatne ka
ab ungli click karne se bas ek
jhapki guzarti hai
bahut kuchh tah-b-tah khulta chala jaata hai parde par.
Kitabon se jo zaati raabta tha kat gaya hai
kabhi seene pe rakh ke lett jaate the
kabhi godi mein lete the
kabhi ghutnon ko apne rahl ki soorat bana kar
neem sajde mein padha karte the, chhoote the jabhee se.
Woh saara ilm toh milta rahega aainda bhi
magar woh jo kitaabon mein mila karte the sookhe phool aur
mehke hue ruqe
kitaaben maangne, girne, uthaane ke bahaane rishte bante the
un ka kya hoga ?
woh shayad ab nahin honge.
                 magar woh jo kitaabon mein mila karte the sookhe phool aur
                 mehke hue ruqe
                 kitaaben maangne, girne, uthaane ke bahaane rishte bante the
                 un ka kya hoga ?
                 woh shayad ab nahin honge.