Showing posts with label শাপলা জাকিয়া. Show all posts
Showing posts with label শাপলা জাকিয়া. Show all posts

22 August 2017

শাপলা জাকিয়া


রূপসার সাথে ফোনেই প্রথম আলাপ মোহিতের। মোহিত একটা জনপ্রিয় বুটিকের মালিক। সেই সূত্রে রূপসা তার পত্রিকার ঈদ ফ্যাশান সংখ্যার জন্য মোহিতের একটি সাক্ষাতকার চায়। এ্যাপয়েন্টমেন্ট  নেয়ার উদ্দেশ্যে ফোন করেছিল মোহিতকে। রূপসার কন্ঠ শুনে প্রথম দিনই মুগ্ধতা কাজ করেছিলো মোহিতের মনে। দেখা হওয়ার পর সেই  মুগ্ধতা প্রেমের রূপ নেয়। ঠিক একইভাবে মোহিতেরও প্রেমে পড়েছিলো রূপসা।

17 May 2017

শাপলা জাকিয়া





প্রতিদিন বহু মানুষের মৃত্যু হয় ।মৃত্যুর দিনটি তাদের কেমন কেটেছিল,তারা সেটা কাউকে বলার আর সুযোগ পান না । তবু কিভাবে যেন দু’টি ঘটনা জানা গেলো ।
ঘটনা –একঃ
মিনহাজ সাহেবের বয়স ষাট। তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। নামিদামী হাসপাতাল নয় ,সরকারি হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড। ছেলে তাকে কেবিনে রাখতেই পারতো কিন্তু রাখেনি, তিনি এখন বাতিলের খাতায়,তারজন্য টাকা খরচ মানে টাকা পানিতে ফেলা। নেহাৎ বুকে ব্যাথা উঠে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করে দিয়ে গেছে । তবে ছেলের দোষ তেমন তিনি দেনও না । ছোটবেলা থেকেই ছেলে তাকে লম্পট ও মদ্যপ বলে জানে। সারাজীবন স্ত্রী আর ছেলেকে তিনি আসলে বঞ্চনাই করে গেছেন। স্ত্রীর কথা মনে পড়তেই বিয়ের প্রথম দিককার কথা মনে পড়ে মিনহাজ সাহেবের। স্ত্রী কাবেরী তখন কি মিষ্টি দেখতেই না ছিলো। শান্ত, সরল একটা মেয়ে। কিছু বললে বড় বড় চোখ দু’টিতে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতো,যেন জীবনে প্রথম সে এই কথা শুনছে। সেই মিষ্টি কাবেরী সময়ের সাথে কতো বদলে গেলো। সে এখন একজন মোটাসোটা দজ্জাল রমণী! দোষ কাবেরীকেও তিনি দিতে পারেন না। কারন কাবেরীর সেই শান্ত,মিষ্টি স্বভাবকে তিনি কোন মূল্যই দেন নি বিবাহিত জীবনের শুরুতে। তখন তিনি বন্ধুর বউ এর প্রেমে দিওয়ানা ছিলেন। 

25 January 2017

শাপলা জাকিয়া




একটি রহস্য গল্প
মিজান সাহেবের ঘুম ভেঙ্গেছে অনেকক্ষণ। সেই তখন থেকে দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি ব্যথিত চোখে। কেনো এতো দ্রুত সাতটা বেজে যায়! চোখ টেনে খুলে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, আসলে ছয়টা বাজে। নিশ্চিন্তে আরও একটা ঘন্টা ঘুমিয়ে নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু ঘড়িটা কিছুতেই সেটা মানতে রাজি না। ছোট কাটা টাকে সে সাতটার ঘরে জেদী ছেলের মতো দাঁড় করিয়ে রেখেছে।চোখটাও মিজান সাহেবকে বিশ্বাস করলো না। ঘড়িটাকেই করলো। অগত্যা বিছানা থেকে নিচে নামেন তিনি শরীর ঘষটে ঘষটে। পঞ্চাশ বছরের পুরানো শরীরটা আর একটু আরাম চেয়েছিল। সেটা দিতে পারলেন না। অফিসের তাড়া আছে। তাই স্যান্ডো গেঞ্জিতে আটকে থাকা হৃষ্ট -পুষ্ট ভুড়িটায় হাত বুলিয়ে নিজের আরামের ঘাটতিটা পোষানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেন তিনি। ঘার ঘুরিয়ে একবার দেখে নেন বিছানায় শুয়ে থাকা বছর পঁয়তাল্লিশের গিন্নী হুমায়রা বেগমকে। একদা ছিপছিপে তরুণী ঢোলা কোলবালিশ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। ম্যাক্সি পড়া যে কোন স্বাস্থ্যবান মহিলাকে মিজান সাহেবের কোলবালিশ বলে মনে হয়। আগে বয়স্করা শাড়ী পড়তেন। বয়সের কারণে তাদের মধ্যপ্রদেশ স্ফিত হলেও দৃষ্টিকটু লাগতো না। আঁচল দিয়ে ঢেকেঢুকে রাখতেন। এখন হয়েছে ঐ এক ম্যাক্সি। যেটা পড়ে মোটাসোটা মহিলা গুলি বেঢপ কোলবালিশের আকার ধারণ করেন। যে কোলবালিশ সুদৃশ্য নয়। কোথাও কোথাও অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তুলা ভরা হয়েছে।