Showing posts with label সাদিয়া সুলতানা. Show all posts
Showing posts with label সাদিয়া সুলতানা. Show all posts

12 April 2018

সুপ্রিয় সঙ্গীত- সাদিয়া সুলতানা



সুপ্রিয় সঙ্গীত,
আজ আমার মন ভাল নেই। মন ভাল নেই বললে ভুল হবে। আজ আমার মন খুব খারাপ। তোমার ভাষায় আজ ‘খুব বরষা দিন’। ভেতরেও। বাইরেও। সেই ভোর রাত থেকে ছন্নছাড়া বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই। তবু মেঘেদের ওজন কমছে না কিছুতেই। দু’দিন ধরেই ঢাকায় খুব বৃষ্টি। একটানা ঝরছে। থামবার নামটি করছে না। ঘরে বসে থেকে থেকে এমনিতেই বোর হচ্ছি। তার ওপর মনের মাঝেও বরষার প্রভাব। আজ বৃষ্টি না থাকলে বাইরে বের হতাম। সারাদিন বৃষ্টির মতই সৃষ্টিছাড়া এদিক ওদিক। একা একাই গোটা ঢাকা চষে বেড়াতাম। ঘুরতাম, খেতাম, শপিং করতাম। কতক্ষণ লাগত বল মন খারাপ ঠিক হতে?

অবশ্য ঢাকার বৃষ্টি আর আগের মত উপভোগ্য নয়। বরং উপদ্রবও বলতে পার। বৃষ্টি এলেই এখন স্বস্তির চেয়ে শংকা বেশি। দৈব দুর্বিপাকের সাথে দৈব দুর্ঘটনাও যোগ হয়। রাজপথের এখানে হাঁটু পানি তো সামনেই তা কোমর ছোঁয়। ঢাকনা বিহীন অদৃশ্য ম্যানহোলের পাঁকে জীবনও যেতে পারে। কর্তৃপক্ষের বেহিসেবি খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তাগুলো ধুঁকছে। ঢাকাবাসীর অবস্থা অনেকটা জলবাসী কৈ এর মত। জল-ডাঙার খেলায় সবার ভীষণ ছটফটে অবস্থা। ঢাকা এখন খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। মানুষের মনের মত। চেনা ঢাকাকে তুমি এখন একদম চিনবে না সঙ্গীত। নব্বইয়ের ঢাকায় এখন বিড়ম্বিত মানুষের দুঃসহ জীবন।

17 December 2017

অ-কথার স্তূপ- সাদিয়া সুলতানা


বুকের উত্তাপে রেখে দেওয়া সুখ-দুঃখের ফর্দখানা উল্টেপাল্টে দেখে নিয়ে ওরা প্রত্যেকে এক একটা নতুন গল্প বলবে বলে ঠিক করে। তারা, মানিক, মিতু, সবুজ আর তিতির। ওদের বয়স বাইশ-তেইশ বা এর চেয়ে মাস দু’য়েক কম বেশি। এই বয়সে গল্প বা কল্পগল্প বলতে কাউকে ঠেলাঠেলি করতে হয় না। বরং কথার তোড় বন্ধ করতে মিনতি করা লাগে। তবে হার্ড পয়েন্টের আজকের পরিবেশটাই অদ্ভুত। মায়াময়। এই মায়ার বিভ্রমে পড়লে কথা ফুরিয়ে যায়। খুব জরুরি কথাগুলোও তখন বলা যায় না। 

22 August 2017

সাদিয়া সুলতানা

প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় ধরে প্রদীপ কুমার সাহা বড় রাস্তার মোড়ে বুড়ো বটের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এবার খুব অসহায় লাগছে তার। গাছের নিচে কিংবা আশেপাশের টঙে দাঁড়িয়ে বা বসে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বসে স্বস্তি না পেলে দাঁড়াচ্ছেন। দাঁড়াতে স্বস্তি না পেলে বসছেন। দুই পায়ের হাঁটু বারবার ভাঁজ করা আর সোজা করা এই বয়সে তার জন্য খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মাঝে মাঝে অবশ্য তিনি দুই হাত দুপাশে ছড়িয়ে দিয়ে গাছের মতো শরীরের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছেন। এই বিষয়টাতে খুব ছেলেমানুষি অনুভূতি হচ্ছে তার। ডালপালার মতো দু’হাত ছড়িয়ে দিলে বেশ গাছ গাছ লাগছে নিজেকে

14 May 2017

সাদিয়া সুলতানা




চুয়ানির ঢেকুর উঠে মুখটা কেমন টক টক হয়ে গেল বিল্লালের। ‘মালে নিশ্চিত ভেজাল দিছে সাত্তার হারামজাদা। ঠেকের লগে মাগিবাজি শুরু করায় সাত্তাইরার ব্যবসায় ভ্যাজাল ঢুকছে।’ সাত্তারকে গালি গালাজ করতে করতে থেকে থেকে বমি করে বিল্লাল। মনে হচ্ছে পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসবে। বমির দমকে রাস্তায় বসে পড়ে ও। একটা পুরি আর একটা সিঙাড়া পেটের ভেতর যেয়ে অতটা হয়ে গেছে ভাবতে অবাক লাগে ওর। মিনিট পাঁচেক পর বিল্লাল স্থির হয়। মুখে খানিকটা পানি দিতে পারলে আরাম হতো।