Showing posts with label দীর্ঘ কবিতা. Show all posts
Showing posts with label দীর্ঘ কবিতা. Show all posts

04 February 2019

অরুণিমা মন্ডল দাস—দ্যা ইংলিশ টিচার




ইংলিশ টিচার
হেঁটে হেঁটে আসা আনমনা তিনতলার “ছাদ”
ইংরেজী নামক চারকোনা “তলোয়ার” দেখলেই—
মাধ্যমিকের উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ’র ডেফোডিলস কবিতাটি
চোখের সামনে ভেসে ওঠে—
সেই ফুলেদের বার বার ঘুরে বেড়ানো 
আকাশ বাতাস জুড়ে “ফুলমেলা”।
বসে থাকা, উঠে দাঁড়ানো, ঘুরে বেড়ানো 
বড্ড প্র্যাকটিক্যাল “চশমা”র শিক্ষা প্রদান
চোখের গভীরতা এতটাই বেশী—
হারিয়ে যাওয়া “প্রকাণ্ড মারিয়ানা খাত”।
বারবার বই চাপড়ানো আর মিষ্টি মিষ্টি ল্যাডিকানি ব্যবহার—
“খুব ভালো হয়েছে,খুব ভালো হয়েছে”।
সাজেশনের প্রতিটি পিঠে নিমপাতার গন্ধ
পুরোটাই চাপের কঠোর “বাস্তব”—
বাঁকা বাঁকা “টেনস” ভার্ব” সেনটেনস”র আলপনা।
দুই কানের দুইপাশ দিয়ে
“ইংলিশ” গুলি হ্যাভ” আর
“ইঙ্গ” লাগিয়ে সাদা “সাবানের ফেনা” বনে জানালা দিয়ে উড়ে চলেছে…
কিছু কিছু শব্দ কুয়াশাচ্ছন্ন
দূর থেকে “দীঘা র সমুদ্র দেখলে ঠিক যেভাবে নিজেকে বড্ড অসহায়” মনে হয়;
ঘন্টা বেজে ওঠে—
কালো কালো অক্ষরগুলো একটু ক্লান্ত 
অনেকক্ষণ আছড়ে আছড়ে“ আখের রস” বের করাতে, মাথাগুলো“ সাইলেন্স জোন”
এ পৌঁছে যায়—
 “খোলা হাসিখুশি আধা রাগি তিনতলা ছাদের ধীর গতিতে প্রত্যাবর্তন
যতটা এনার্জি আসার সময় থাকে যাওয়ার সময় তাঁর “হার্ট” যেন ক্লাশের এককোণে রেখে যায়—
কপালের কুঁচকানো ফিলিংসের ভিতরে ও বড় “হরপ্পা”র স্নানাগারে র হদিস পাওয়া যায়।

22 August 2017

সুনীতি দেবনাথ




আ ব্ল্যাক পোয়েট ফ্রম দ্য ক্যারিবিয়ান 
'আ ব্ল্যাক পোয়েট ফ্রম দি ক্যারিবিয়ান'—
নিজের ও দেশের আইডেনটিটি সন্ধানী 
অতলান্তিক সামুদ্রিক দুটি চোখ, 
তৃণগুচ্ছের শিশির বিন্দুর বিন্যাসের বিলাস থেকে 
কৃষ্ণগহ্বরের বিপুল গভীরতা দর্শনে সক্ষম। 
আকাশের বিষণ্ণ নীল আর
সমুদ্রের গম্ভীর গর্জন দেখে নিতে
অনুভবে তন্নতন্ন করে গেঁথে নিতে
শুধু সেই কবিই সক্ষম ছিলেন। 
এ এক বহুমাত্রিক চেতনার প্রকাশ! 
সমুদ্রশাসিত কবি অতলান্তিক চেতনায়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি ছোট্ট দ্বীপ
সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্ট্রিজ শহরে জন্মেছিলেন,
বিশ্বকে বিস্মিত করে পেলেন নোবেল পুরস্কার, 
ক্যারিবিয়ান কবি ডেরেক অনটন ওয়ালকট। 

05 July 2016

ফারহানা সুমী





জানতে ইচ্ছে করে আপনি কি দুঃখী হোন ট্রোমিজি?
যখন বৃষ্টির বারান্দায় ছুঁয়ে থাকে চোখের খরচ
অনবরত জলের কুচির জুয়ায় হেঁটে বেড়ায় বরফ ছায়াপথ
ভেজা ইটের পাশে পুরোনো লিখাহীন পৃষ্ঠা পড়ে থাকে।
খোঁজেন কখনো আপনার কবি স্বামীর চসমাতেও
হরেক পৃষ্ঠার ঘুমস বিকেল হয়ে শুয়ে থাকে জলের মুদ্রিত ঘ্রাণ,
বিশেষ করে বর্ষাকালীন,
ভেজা কাকের শরীর হয়ে যখন
পৃষ্ঠায় কবিতার বাসরে সে বলে ওঠে-
তার মনোযোগী এক প্রেমিকা প্রয়োজন বর্ষার কন্ঠ শোনার।

শুনতে ইচ্ছে হয় ট্রোমিজি, স্বামী বা অন্য কারো কন্ঠে?
উড়ন্ত শব্দের মেঘাত্যয় ঘুরে হিম আবাদে যখন
আপনি সিসেলিস দ্বীপের কথা ভাবেন।
কিংবা বিউটি বোডিং আয়নার সামনে-
বসে ভাবেন আপনার কাটা চুলের মুষ্টিমেয় শুভ্রতায়
যদি গাঁথা যেত ফুলের রাসলীলার উৎসব সৌখিনতা...
পাশে স্বামীর কন্ঠে রোমান্স বা দুঃখী কোনো কবিতার কন্ঠালাপ
থাইগ্লাসের ওপাশে গিটারের বৃষ্টি মাতন
কর্নের সত্তম চূড়ায়,কতকাল শুনেন নি ট্রোমিজি?
পরিপাটি বিছানা...

শুনেছি আপনি পরিপাটি বিছানা রাখতে ভালোবাসেন খুব
কিন্ত কি জানেন ট্রোমিজি, আমার মত আপনার কবি স্বামীও
ভালোবাসেন অগোছালো কাভারের সরলতার রঙির খেলা।
গুঁজে থাকা বালিশের ছেলেমানুষি
গতরাত্রির সরে যাওয়া মাতন যা ছিল একান্ত আপনাকে নিয়ে।
আপনি ঠিক জানেন না ট্রোমিজি, অগোছালোর মাঝে
একটি অমায়িক আদর লেগে থাকে প্রেমে পরার মত
যেমন আপনার ঘুমন্ত সকালের রুক্ষ চুল,
ললাটে নেমে আসা ঢেউ খেলা দু’একটি আঁধার।
কানের কাছ থেকে সরে গাল ছুঁই ছুঁই সরল আচরন।

আর আপনার পুরোনো ব্রা,
অগোছালো হয়ে ঝুলে আছে বারান্দার অচল কোনে-
সেখানে আপনার ঘ্রাণ লেগে আছে পুরোনো-
পারফিউমের মত.... ট্রোমিজি
আমি রোজ দেখি আপনার স্বামীর হাতে, সেই
অগোছালো ব্রা, আপনার পুরোনো চিরনি,
তিনি হয়ত রোজ খোঁজেন পূর্বের অগোছালো আপনাকে...
বর্ষার কবিতার ছলে সেই পুরোনো
জানতে ইচ্ছে করে পুরোনো আপনি কেমন ছিলেন?
এমনি পরিপাটি!
সর্বত্র সরল অগোছালো,

কেমন ছিলেন ট্রোমিজি আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,
বর্ষার মাতোয়ারায় আপনি কি দুঃখী হোন?
দুঃখী হলে বৃষ্টিতে ভেজেন কখনো?
ট্রোমিজি...
আপনাদের গ্রীস দেবীরা কেমন করে বৃষ্টিতে ভিজে
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে....

15 June 2016

শর্মিষ্ঠা ঘোষ






অপেক্ষা কর
তুমি টেনশান কোরো না, বাবা। আমি এখন হারিয়ে গেলেও ফেরার জন্য পথ খুঁজতে পারি। হয়তো কানাগলিতেও ঢুকে পড়ি সময় সময়। হতাশ লাগে। আবার ফিরে যাই অকুস্থলে। নতুন দিকে এগোতে থাকি। হ্যাঁ, বাবা। রোদ্দুরে কষ্ট হয়। বৃষ্টিতে মিশে যায় এক্সটা নমক। শীতে তো জানোই আমার গলার প্রবলেম। আমি একহাতে ফোঁপানি আটকাই, আরেক হাতে মুঠি পাকাই। চশমার কাঁচ মুছি। কপালের ঘামে বিধিলিখন ধেবড়ে যায়। কালো অক্ষর লাল হয়ে যায় রগরাতে রগরাতে। তুমি ভাবছ, আমি ভয় পাচ্ছি? না, বাবা, আমার তো কিছু নেই যা কেড়ে নিতে পারে অন্য কেউ। ঝাড়া ঝাপটা। বাবা, না না, একদম কাঁদবে না তুমি। আমি পারবো। আমি ফিরতে পারবো। একটু দেরী হতে পারে। একটু কেটে ছঁড়ে যেতে পারে। আমি একটুও থমকাই না আজকাল এসবে। কত সময় মনেই থাকে না যন্ত্রণাবোধ। খালি একটা কোয়েস্ট দেখতে পাই আমি। পথ, একটা ফেরার পথ। তোমার কাছে যাবার। আবার দেখো, তোমার হাত ধরে ছোটবেলার মত বেড়াতে যাবো। তুমি আমাকে তারা চেনাবে। তুমি ফাইভস্টার নিয়ে আসবে আমি গুড গার্ল হয়ে থেকেছি বলে। আমি তোমার মাথায় বিলি কেটে দেব। আমি চায়ের কাপ আর মুড়ি এনে ডাকবো তোমাকে। তুমি ‘গীতাঞ্জলি’ আর ‘নৈবেদ্য’ থেকে কবিতা বলবে। আমি ‘সঞ্চয়িতা’ র। আমার ফেরার জন্য আর একটু অপেক্ষা কর বাবা। হ্যাঁ, আমার একটু দেরী হচ্ছে বটে, আমি কিন্তু ফিরবোই। ঘুমিও না প্লীজ। আমায় তবে গল্প বলবে কে? আমার গল্পগুলোই বা কে শুনবে, বাবা? 



মেলোডি
এবং তোমার বিটার লাগছে। ঘনিষ্ঠতম মুহূর্তে অতীতের কোনো তিক্ততা ঘাই মেরে যায় আমার জিভের ডগায়। বিষাক্ত তির বিঁধে পিগমি মানুষ রক্তাক্ত হতে থাকি। লাগামছাড়া ক্রোধ পাশুপাত অস্ত্রকেও হার মানায়। বরফিলি উপত্যকায় কোন গুহা মানবের পায়ের ছাপ একটা সংগ্রামের শেষ চিহ্ন রেখে গেছে ভাবতে ভাবতে ডারউইনবাদের ফলিত প্রয়োগ নিয়ে ঘিলু গোবর করে ফেলি। বোকামির ললিপপ চুষতে চুষতে বেশ ক্ষুদিরাম ফিলিং হয়। মুখপোড়া মনটা হ্যাংলার মত তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। এ গল্পের উপসংহার হাস্যকর। একটা জোকার আর একটা বাঁদর দিনশেষে মুখোমুখি বসে থাকে। চুপচাপ। পিটপিটে চোখে দুজন দুজনকে মাপে। কাছে আসে। এ ওর নিঃশ্বাসের শব্দ গোণে। খিদে ভুলে যায়। তেষ্টা ভুলে যায়। কেউ গুনগুন করছে মহন্মদ রফির রোম্যান্টিক মেলোডি। গলা ব্যথা করে ওদের। গান গাইতে ঠোঁট ফাঁক করে। একটা গোঙ্গানির মত কিছু ছিটকে আসে। এ ওর পিঠে হাত রাখে। হু হু করে কান্না বেরিয়ে আসে। হাল্কা হয়ে যায় দুজনের মধ্যেকার পর্দা। পরিষ্কার দেখতে পায় ওরা একদম অবিকল দেখতে।




সম্পর্ক
যে গল্পের খালি বিস্তার থাকে সে গল্পের নাম ‘তুমি’
প্রতিটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের শব্দ থেকে ইউ টার্ন নাও
আমিও মনে করতে পারি না বিলীয়মান যতিচিহ্ন
আমাদের সম্পর্কে সকাল হয়ে যায় যখন তখন
বিশ্বজনপদে পা ফেলা আধা নামে ডাকা প্রিয়তা
কাঁধের তিল কিম্বা নাকের আঁচিলের মতই অবিচ্ছেদ্য
স্বভাবজাত হুজ্জুতি থেকে বের হতে সময় নিই অনেক
এর মানে এই নয় নোঙ্গর কেটে ভেসে গেছি আঘাটায়

অসমাপ্ত পড়ে থাকে আদরভাষ আরেকটা লাভামুখের জন্য



মুনিরা চৌধুরী





১.
মহাকালের ছবি দেয়ালে টাঙিয়ে ছিলাম সেই কবেকার ঘোরগ্রস্থ ভোরে, সেলাই করে করে...
সেইসব ছায়া-চেহারাগুলো এখন ঝাপসা হয়ে গেছে...
ছাদের উপর বৃষ্টির আঙুলগুলো ফেটে পড়ছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে না কি কান্নায়- ঠিক বুঝতে পারি না...
কৈশোরে কাগজের নৌকা ভাসিয়েছিলাম পুকুরে...
ভেবেছিলাম- নৌকাগুলো বড় হবে একদিন, দেখা হবে মেহেকসমুদ্রে...

আমার পাখিরা আর উড়াল দিলো না...
দূর অতীতে পাখিদের ডানা কেটে দিয়েছিলাম
পাখিদের ডানা রেখে দিয়েছিলাম ছোটবেলার অ্যালবামে...

 
২.
এখন নৈঃশব্দের শব্দরা ঘুমিয়ে পড়েছে...
চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছে...
মরুভূমিতে একা একা টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছি বালির নৌকো

দূরতম জানালার পাশে দেখি- চিরচেনা কারো ছায়া ভেসে ভেসে ডুবে যায়
আয়নাগুলো গলে গলে যায়...

চক্ষু খুলে দেখি- কোথাও চক্ষু নেই, ছায়া নেই, বিম্ব-প্রতিবিম্ব নেই
শূন্য কুঠরীতে পড়ে আছে
মৃত সব মুনিরামায়া আমার অগ্নিমায়া...


৩.
নরকের নীল আগুনের চারপাশে লেলিহান জিহ্বাগুলো উড়ছে
উড়ন্ত জিহ্বায় গেঁথে যাচ্ছে আর্তনাদের ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি
আমি যাই নি কোথাও
আমার পান্ডুলিপি থেকে সবগুলো লেখা চলে গেছে

হাতখানি যে রক্তে ডুবে আছে...
কী করে লিখি কথা ও মুনিরাকথা, নদী ও মেহেকানন্দার জল
তবু-
স্ফটিকের পাখি প্রত্নকলম তুলে দিচ্ছে হাতে

আমায় ক্ষমা করো পাখি, পাখির পালক, আমায় ক্ষমা করো নদী, নদীর দুইপাড়
আমায় ক্ষমা করো
ক্ষমা করো
ক্ষমা করো
ক্ষমা করো
ক্ষমা করো রক্তকরবী
আমি যে পাথর কুচি...


৪.
ভেবে নাও তুমি- মঙ্গলরূপ কিছুটা পুড়ে গেছে পুড়ে-যাওয়া জলের ছোবলে
ভোর বেলার আলোয় কোনো কমলা-রঙ নেই, ছাই-রঙা বালিকার গুড়া গুড়া শরীর ব্যতিরেকে
ভাঙ্গা মন্দিরের পাশে আমাদের ভাঙ্গা-শঙ্খের আওয়াজ ভাঙছে তো ভাঙছে
সখা হে, মমি হয়ে শুয়ে আছি অগ্নিঝর্ণার নিচে

আর জাগবো না
আর জাগবো না

কেনো জাগাতে চাও তবে
কেনো জাগাতে চাও ঘুমিয়ে-পড়া মৌমাছির ঝর্ণা

এই মমি আবার কি মানবী হবে মথুরা বৃন্দাবনে।


মনিরা সুলতানা





শিউলি কুড়ানো ভোরের শিশিরে যখন শিহরিত হতাম বালিকা আমি
সেই ফুল কুড়ানোর আনন্দে থেকেই তোমাতে গাহনের দিনের শুরু।

ফ্রকের কোঁচরে হাজারী গোলাপ ,ঝুমকো জবা, কাবেরি কিংবা নয়ন তারা আর ভিনদেশী কসমস, চেরী
মোরগ ফুল ,দোপাটি,কাঠ গোলাপ, নীলকণ্ঠ অথবা কখনো সদ্য ফোটা গোলাপের ঘ্রাণ যখন মিলেমিশে একাকার হত ভেবে দেখ সেই সুবাসে আকুলিত চিরন্তন বালিকা হৃদয়ে তুমিই থাকো।
চঞ্চলা চড়ুই হৃদয়ের ছটফটানি নিস্তব্ধতায়-
দুহাতে ভরতি বড়ই ,কাঁচা তেঁতুল নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো আমি তোমারই ছিলাম তোমার হয়ে।

দুই বিনুনির লাল সার্টিনের ফিতায় ফুল ফোটানোর আনন্দের মুহূর্তে
ঘোর বর্ষার মধ্যদুপুরে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেতে শ্রাবণ ধারার গাহনে
কোন এক আষাঢ়ে ঢলে লাল মাটির রাস্তায় ঝরে যাওয়া বেলির হাহাকার বুঝে নেয়ার তীব্রতায় সাথে আমি তোমার হয়েছিলাম ।


খেলার সাথির হিজল ভাসা টলটলে নবীন জলের স্বচ্ছ দৃষ্টিতে তাকিয়ে
বিরান চরে ঘুঘুর ফাঁদ পাতার দুঃসাহসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি যখন
উথল হাওয়ার বুকে চাঁদিয়াল ভাসানো কিশোরের আকাশ চাওয়া অপেক্ষায়
বিষণ্নতা খুঁজে পেতে শুরু করার হু হু করা দিনগুলোতেও।

স্মৃতি জাগানিয়া আম আঁঠির ভেঁপুর সুর
চকচকে কাঠের সেতুতে দাঁড়িয়ে খালের পানিতে ঝিলমিল বট পাতার খেলা দেখার মগ্নতায়
বয়ঃসন্ধির চৌকাঠ পেরিয়ে সেবা রোমান্টিক নায়ক হয়ে ,দূরবীনের ধ্রুব ,একা এবং কয়েকজনের সূর্য ,পার্থিব এর হেমাঙ্গ , হীরক দীপ্তির হিরক কে ভালবাসায় ।
শহরতলীর দিনগুলিতে দূর্গা অষ্টমীর দিন ভেসে আসা মাইকে কিশোর কুমারের
“সে যেন আমার পাশে আজো বসে আছে “ গানের সুরে অবেলায় কাঁথা মুরি দিয়ে বুকের ভিতর কেমন করতে থাকা অনুভূতিতে
আমি তোমার হয়েছিলাম...
ভাবো তো-
ফেব্রুয়ারির পলাশ রোদ আর শোকের সাদা কালো শাড়ির ভাজে কাকে লুকাতে চাইতাম?
বৈশাখি মেলার সবুজ কাচের চুড়ির রিনঝিন সজীবতায় ছিলাম
মার্চের উত্তাল কবিতা দিন ,দোলন চাঁপা গুচ্ছের খোঁপায় শোভা পাবার লাজুক নত চোখ
আর পাতাঝরা বসন্ত থেকে শীত ক্যাম্পাসের ধোঁয়া উঠা ভাপা পিঠার মিষ্টি সুবাসে আমি তোমাতে বিলীন হয়েছিলাম।

17 May 2016

চারণ গোপাল চক্রবর্তী




গোপালগঞ্জের মধুমতির তীরে
টুঙ্গিপাড়া শেখ বংশের ঘরে
উনিশশো বিশ পহেলা মার্চ
জন্ম নিলো মুজিব রচিতে ইতিহাস।
স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়ে উঠেন অনন্য
লেখাপড়া-দুষ্টামি-গান-ব্রতচারীতে মগ্ন
পারিবারিক নিয়মে করেন বিয়ে
মুজিব-রেণু মুরুব্বিদের দোয়া নিয়ে।
অল্প বয়সে চোখের ব্যারাম
পড়ে চশমা হয় পড়ালেখা হারাম
স্বাপ্নিক মন দেশের তরে
স্বদেশি আন্দালনের সভা-সমাবেশে ঘুরে।
বছর চারেক পর একদিন
শুরু হলো পুনরায় স্কুলের দিন
আপন শিক্ষকের হাতে খড়িতে
গরীবের তরে ত্রাণের সন্ধানে নামে পথে
হারালো গুরুজন থামেনি চলা
সাহস সঞ্চারে সু-যোগ্য চেলা।
অন্যায় দেখলে প্রতিবাদী রুপে
ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বলের পক্ষে।
শেরেবাংলা ও শহীদ সাহেব আসিলো সমাবেশে
মুজিব চলিলো বীরের বেশে
শহীদ সাহেব কাঁধে রাখিলো হাত
পত্র মারফত পাঠায় আমন্ত্রণ সংবাদ।
মুজিব নামিলো রাজনীতিতে
সমাবেশ-শ্লোগাণ-মিছিল-বক্তৃতায়
যুবক বয়সে আপণ প্রতিভায়
স্থান করে নেয় সমবয়সীদের মনের মণি-কোঠায়।
বাইশে আসিয়া পূর্ণ হইলো বৈবাহিক যাত্রা
মুজিব-রেণু'র সংসার পেলো অনন্য মাত্রা।
দেশের তরে-দশের তরে
পবিত্র মন বিদ্রোহ ভরে
পূর্ব-পাকিস্থানকে পূর্ব-বাংলা রুপে
দেশভাগের কালে প্রস্তাব রাখে।
হয়নি সফল দমেনি মন
ছাত্রলীগ করে গঠন
মায়ের ভাষা বাংলার তরে
লড়াকু মন স্বপ্ন গড়ে।
রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ ব্যানারে
হরতাল ডেকে পিকেটিং করে
হয় গ্রেফতার সহকর্মী সমেত
তবু হাসিমুখ অদম্য বিবেক ।
সেই পথ ধরে বাংলা আসিলো
সালাম-রফিক-বরকত-সফিক-জব্বার রক্ত দিলো।
আসিলো নির্বাচন হইলো জয়ী
পাইলো মন্ত্রিত্ব শাসক ত্রয়ী।
এইবার নামিলো স্বাধীন দেশের স্বপ্নে বিভোর
সকলের সঙ্গে স্থাপন করে ঐক্য'র
কমরেড মণি,খোকা রায় বলে
মুজিব চিরকাল স্বাধীনতার মন্ত্র-মূলে।
ঘোষিত দাবি-দাবা বাঙ্গালীর তরে
লড়াই সংগ্রামের প্রেরণাদান করে।
পাকিরা করিলো গ্রেফতার তাঁরে বাঙ্গালী ক্রোধিল
নেতাকে মুক্ত করত দেশবাসী ঐক্য গড়িলো
হইলো মুক্ত সকলের প্রাণপ্রিয় নেতা
বঙ্গবন্ধু উপাধি দিলো মুজিব কে জনতা ।
হইলো নির্বাচন বিজয়ী হইলো শেখ মুজিব
পাকিস্থানি করিলো ছল-চাতুরি অতীব
ঘোষিল মুজিব ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ার ডাক
স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝরুক রক্ত দেশ মুক্তি পাক।
জনতা সকলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে
ঝাঁপালো সংগ্রামে স্বাধীনতার গান গেয়ে।
পাকিস্তানি সেনাদল অতি কৌশলে বঙ্গবন্ধু কে বন্দি করে
আগুন জ্বালায় শহর জুড়ে,দীর্ঘ নয় মাস ত্রাস সঞ্চারে
অগণিত প্রান হলো বলিদান
আড়াই লক্ষ মা-বোন হারালো সম্মান।
অবশেষে জয় পেলো বাঙ্গালী
উড়ালো পতাকা,জয়বাংলা বলি।
বঙ্গবন্ধু তখনো পাকিস্থানের সেলে
আনন্দ ছিলোনা তাই বাঙ্গালীর দিলে
কারাবাস বঙ্গবন্ধুর হলো অবসান
ফিরিলো স্বদেশ আঁখিজল বহমান।
জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান উঠিল
জনতার মুখ-রেখায় হাসি উদিলো।
এবার নেতা ঘোষিল বারতা
দেশ গঠনে চাইলো একতা-সমতা
অনাহারিদের অন্নের তরে
শেখ মুজিব দ্বারে দ্বারে ঘুরে।
বুঝিলো নেতা বিচক্ষণ
নানামতে কেনো জাতি হইবে খণ্ডন!
দেশের উন্নয়ন কে মূলমন্ত্র করে
বঙ্গবন্ধু চলিলো স্বপ্নের দেশ গড়ে।
শত্রুদল বুঝিলো বাংলাদেশের এই গতি
রুখিতে হইবে,না হইলে বিপত্তি ?
পঁচাত্তুরের পনের আগস্ট মিলে শত্রু কজন
বঙ্গবন্ধু কে পরিবার সমেত করিলো হত্যা
ভাবিলো থাকবেনা বেঁচে বিশ্বাসী জন
থাকবেনা কেও বাঙ্গালীর ত্রাতা।
যেজন বিশ্বাসে বাঙ্গালীর স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ

সেইসব হ্রদে অমর গাঁথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনিমেষ।
______________________