ক.
সুবীর ওর বাবাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে উঠেছে। বছরখানেক
আগেই ওদের এখানে আসবার কথা ছিল। তখন বাবা বেঁচেছিলেন। সুবীরের বাবা হরিশঙ্কর কাকা লোকমারফত
ভাঙা ভাঙা অক্ষরে পত্র লিখে পাঠিয়েছিলেন, আসবার কথা জানিয়ে। বাবা সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে
আপ্লুত হয়ে উত্তরও পাঠালেন। এরপর বাড়ির এটা ঠিক করো, ওটা ঠিক করো-এতদিন পর হরি আসছে!
বাড়ির সবাইকে অস্থির করে তুলেছিলেন। সীমান্তে যারা কারবার করতো তাদের রোজই একবার করে
স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতেন- দেখবি, হরির আসতে সমস্যা হয় না যেন! তারপর বাড়ি আর পথ করতে
করতে একদিন নিজেই চলে গেলেন। গতকাল সুবীর যখন হরিশঙ্কর কাকাকে নিয়ে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে
নিজেদের পরিচয় দিলো, তখন কেবলই বাবার কথা মনে হচ্ছিল। আমার স্ত্রী তো পেছনে দাঁড়িয়ে
কেঁদেই ফেলল। হরি কাকাকে ওই ধরে নিয়ে গিয়ে বসবার ঘরে বসালো। বেশ ভারী শরীরের মানুষটা।
হাঁটবার সময় বাচ্চাদের মতো দেখে দেখে পা ফেলেন। সুবীর আমার বয়সই হবে। মিরাকে হাত তুলে
নমস্কার করে একটু ইতস্তত করে একটা হাত আমার দিকে এগিয়ে দিল। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে খানিকটা
ফিসফিস করে বলল- মেহেরপুরে পা দিয়েই কাকার সংবাদটা শুনলাম। বাবাকে বুঝতে দিইনি। এমনিতেই
অনেক ধকল গেছে; এখনই কিছু বলবেন না প্লিজ। অন্যকিছু বলে ম্যানেজ করুন। হরি কাকার দিকে
তাকিয়ে বিষয়টা বুঝতে আমার অসুবিধা হলো না। সঙ্গে সঙ্গে মিরাকে আড়ালে ডেকে বললাম- কাকাকে
বলো, বাবা ক’দিন
মেরেপুরের বাইরে গেছে। চলে আসবে। শরীরটা বিশেষ ভাল না, এখনই কিছু বললে বেশি আপসেট হয়ে
পড়লে সমস্যা হতে পারে। হরি কাকাকে মিরার দায়িত্বে রেখে আমি আর সুবীর গেস্টরুমের বারান্দায়
গিয়ে বসলাম। সুবীর লম্বা ছিপছিপে গড়নের। ক্লিন সেভড্। ফতুয়ার মতো একধরনের শার্ট আর
বেগিজাতীয় ঢিলেঢালা প্যান্ট পরে আছে। হরিকাকা সাদা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরেছেন।



















